<!-- সম্পাদনার নির্দেশ — প্রকাশিত লেখায় এই মন্তব্য দেখা যাবে না। ১. date-এ ক্লাসের তারিখ YYYY-MM-DD আকারে এবং lesson-এ "01" বা "00A"-এর মতো পাঠ নম্বর দিন। ২. presenter-এ ব্যক্তির note-এর wikilink দিন। work, topic, paper_half ও সম্পর্কিত notes পূরণ করুন। ৩. session_type ও source ঐচ্ছিক। স্বাগত ভাষণের ক্ষেত্রে session_type: welcome-address এবং tags-এ faq যোগ করতে পারেন। ৪. title-এর template variable নতুন note-এ Templates: Insert template চালানোর সময় পূরণ হবে। নিচের পরিচিতি Properties থেকে নিজে পূরণ হবোলি করুন। ৫. FILE_ID-এর জায়গায় Google Drive অডিওর সম্পূর্ণ ID বসান। অডিও না থাকলে iframe বাদ দিন। ৬. প্রতিটি callout-এর সব লাইন, ফাঁকা লাইন ও টেবিলের separator-সহ, > দিয়ে শুরু হবে। ভিতরের callout-এ > > এবং তার ভিতরের callout-এ > > > থাকবে। ৭. মূল ক্লাস বিভাগটি শুরুতে খোলা থাকবে; অন্য বিভাগগুলি বন্ধ থাকবে। কী পয়েন্টস-এর চারটি উপবিভাগের শিরোনাম বিষয় অনুযায়ী বদলান। ৮. সম্পাদনা শেষ হলে status: active করুন, সূচি আপডেটের macro চালান এবং Publish changes দিন। ৯. ফীডব্যাক ফর্মের প্রকৃত লিংক বা সরবরাহকৃত iframe embed code শেষ বিভাগে বসান। iframe-এর প্রতিটি লাইনের আগে > রাখুন। ১০. লেখার মধ্যে আলাদা title-variable শিরোনাম নেই; note-এর নিজস্ব শিরোনাম ব্যবহার করুন। --> > [!info] ক্লাস ডিটেইলস > **তারিখ:** ৩রা অক্টোবর ২০২৬ > **উপস্থাপক:** [[অভিষেক ঘোষাল]] > **পত্র-অর্ধ:** উল্লেখ নেই > **আলোচ্য রচনা:** বিসর্জন, রাজর্ষি, Sacrifice > **পাঠ্যবস্তু:** ভূমিকা, আলোচ্য বিষয় উত্থাপন ## মূল ক্লাস ### 🎧 অডিও <div class="gdrive-audio"> <iframe src="https://drive.google.com/file/d/FILE_ID/preview" title="এই ক্লাসের অডিও (TRI 03OCT26 Abhishek Ghoshal.m4a)" width="100%" height="110" allow="autoplay" loading="lazy"> </iframe> </div> ### ট্রানস্ক্রিপশন > সবাই শুনতে পাচ্ছেন? একটু যদি জানান আমাকে। > > হ্যাঁ শুনতে পাচ্ছি। > > শোনা যাচ্ছে। > > আচ্ছা আচ্ছা আচ্ছা। শুভ সন্ধ্যা সবাইকে। > [!more]- সম্পূর্ণ ট্রানস্ক্রিপশন > আমার এইবারের ক্লাস গতবার অংশুমানদাকে দেখে বুঝলাম যে আমাদের শের ক্লাস যারা করেছেন, তাদের মধ্যে অনেকে নিশ্চয়ই আছেন। সেই সেমেস্টার বা সেই ব্যাচেরই বোধহয় এইটা ক্লাসটা। > > তার ফলে এবারের ক্লাস বিসর্জন নিয়ে এবং বিসর্জন আজ থেকে শুরু করব। পুজোর আগে তো আজকের এবং এর পরের দিন, পরের দিনের পরের শনিবার মহালয়া, সেদিন সন্ধেবেলা ক্লাস, এই দুটো পুজোর আগের ক্লাস হবে আমার। > > তার পরে তো আবার পুজোর পরে সেটা সেরকমভাবেই কথা বলা হয়েছে এবং— > > স্যার ক্লাস শুরু হয়েছে কিনা বুঝতে পারছি না, কিচ্ছু শোনা যাচ্ছে না। > > আচ্ছা এটা কি... > > হ্যাঁ সাউন্ডটা খুব, সাউন্ডটা খুব আস্তে হচ্ছে। > > এখনো, এখনো আস্তেই হচ্ছে? মানে এখনো আপনারা আস্তেই শুনতে পাচ্ছেন? > > না, আমরা ঠিক শুনতে পাচ্ছি। একটু আপনারা কাইন্ডলি... > > না দাদা, আমরা তো শুনতে পাচ্ছি। > > হ্যাঁ হেডফোনটা একটু জোরে হলে ভালো হয়, একটু জোরে। এমনি শোনা যাচ্ছে, ভলিউমটা... > > হেডফোনটা ইউজ করুন। > > আমি এখনো মানে সেভাবে কথা বলতে শুরু করিনি, এবার শোনা যাচ্ছে ঠিকমতো? আমি মানে যে আওয়াজে বলছিলাম সেই আওয়াজেই বলছি, এবার কি শোনা যাচ্ছে? > > হ্যাঁ আমরা শুনতে পাচ্ছি। > > আচ্ছা। তাহলে বোধহয় একটু হ্যাঁ, আপনারা যাদের শুনতে অসুবিধা হচ্ছে তারা যদি একটুখানি হেডফোন ইউজ করেন আরকি। > > যাই হোক, তা বিষয়টা হচ্ছে যে পুজোর আগে তো এই দুটো ক্লাসই হবে। তার ফলে পুজোর আগে খুব যে কিছু শুরু হবে এই বিষয়টাতে তেমনটা বোধহয় না আরকি। মানে আমি নিজেও ঠিক জানি না এই দুটো ক্লাসে কতটা গুছিয়ে আমার ভাবনাকে ব্যক্ত করতে পারব বা কিছু। > > যাই হোক, বিসর্জন... আমি এই টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটে একসময় রাশিয়ার চিঠি পড়িয়েছি, সাহিত্যের সাহিত্য প্রবন্ধগ্রন্থের বেশ কিছু সাহিত্যের পথে, তার মধ্যে অনেক টেক্সট রয়েছে যে টেক্সটগুলোকে পড়িয়েছি। সে পড়িয়েছি একাধিকবার। > > কিন্তু নাটক এই প্রথম। মানে এর আগে বলতে পারেন রাশিয়ার চিঠি, চিঠির সংকলন থেকে একটা বিষয়কে নিয়ে আসা, যাকে আমি ফিকশন বলতে পারি না। > > সাহিত্যের পথের ক্ষেত্রে তা একদম হার্ডকোর প্রবন্ধ, সাহিত্য তত্ত্বের। সাহিত্য কিভাবে পড়তে হবে, আর কিছু হালহদিস নিয়ে তার কিছু... উনি তো নিদান দেওয়ার মানুষ ছিলেন না, রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে তো ওরকম কোনো ফরমান জারি করবার কথা ভাবা যায় না, কিন্তু বাংলায় আবার সাহিত্য তত্ত্বের যে নিজস্ব ঘরানা তারও অভাবই আছে। > > সেই জায়গায় সাহিত্যের পথে সাহিত্য সংক্রান্ত যে প্রবন্ধগুলো তার, সেগুলোকে আমি যদি একটা ইন আ গ্রস একটা মোদ্দায় যদি তাকে আমরা এরকম বলি যে, এটি আসলে আমি সাহিত্যকে কিভাবে অ্যাপ্রোচ করব, সাহিত্য কিভাবে পড়ব, সাহিত্যের কাছ থেকে আমি কি কি এক্সপেক্টেশন রাখব বা রাখব না, এই মাধ্যমটির সঙ্গে আমার কিরকম আদান-প্রদানটা হবে— এই বিষয়ের একটা যদি এই বিষয় সংক্রান্ত আলোচনা বা এই বিষয়ের একটা বলতে পারেন গাইডেন্স প্রোভাইড করবার চেষ্টা, আমি সেরকমভাবেই ভাবি। > > তাহলে সেটা একেবারে হার্ডকোর প্রবন্ধ বা কিচ্ছু। > > শের একটা বিচিত্র বিষয়, তার আঙ্গিক নিয়ে, তার ধরনধারণ নিয়ে আমাদের যথেষ্ট কনফিউশন আছে। যথেষ্ট কনফিউশন কথাটাকে আমি নঙর্থক অর্থে ব্যবহার করলাম না, ভীষণই সদর্থক সংশয় আছে। তার এই অভিনবত্ব বলতে পারেন, তার এই বিচিত্রতা বলতে পারেন, সেটা তার একটা সম্ভাবনার জায়গা। এটা তার একটা... > > হ্যাঁ, অংশুমানদা। > > একটা সংযোজন, আমরা এই মুহূর্তে সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র। কিন্তু গত দুমাস ধরে ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্ররাও আমাদের সঙ্গে সংযুক্ত। > > মানে তারা নতুন একেবারেই পুরোপুরি? > > একদমই আনকোরা। > > আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা। হ্যাঁ, এই ব্যাপারটা এখানে হয় বলেই আমি আসলে পুরোপুরি বুঝতে পারি না যে কোন ক্লাসের মধ্যে কে থাকেন আরকি। তার ফলে এখানে একটা বেশ অ্যামালগামেশন একটা হয়ে যায় সবটা মিলিয়ে। থ্যাংক ইউ। > > তার ফলে শের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু এই বিচিত্রতাটা তার একটা বলতে পারেন, তার একটা সম্ভাবনার জায়গা, সেটা আমরা দেখেছিলাম। > > কিন্তু একেবারে নাটক বা উপন্যাস বা কবিতা, যাকে আমরা খুব সহজে... সাহিত্য বলতে তো... আচ্ছা, আচ্ছা, সাহিত্য বলতে... তার মানে উপন্যাসের কথা বলছেন, আচ্ছা তার মানে আপনি গল্পের কথা বলছেন, আচ্ছা তার মানে আপনি নাটকের কথা বলছেন, এই যে এইভাবে যে বলে দিতে পারি, সেইভাবে প্রপারলি ফিকশনের মধ্যে ঢোকা, সেইভাবে প্রপারলি বলতে পারেন সাহিত্য ক্যাটেগরিটাকে ধরে একটা কিছু পড়ানো, আমার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটে এইবার প্রথম। > > এর আগে আমি যা পড়িয়েছি, অবশ্যই তা সাহিত্য পর্যায়ভুক্ত, কিন্তু বৃহত্তর অর্থে তাকে সাহিত্যের পর্যায়ভুক্ত করতে হয়। > > সাহিত্য বলতে একেবারে যে ক্রিয়েটিভ সাহিত্য, সৃজনশীল সাহিত্যের যে পরিসর, সেই সৃজনশীল সাহিত্যের পরিসরটিতে আমি এর আগে কখনো ঢুকিনি। > > আমি উপন্যাস পড়াইনি কখনো, আমি কখনো কবিতা পড়াইনি এবং আমি কখনো নাটক পড়াইনি। > > তার ফলে, নাটক পড়াতে আমাকে বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে বিসর্জন পড়াতে। > > তা বিসর্জন... বিসর্জনের মধ্যে যেটা সুবিধার জায়গা এবং একইসঙ্গে অসুবিধার জায়গা, সেটা হচ্ছে যে বিসর্জনকে আমি ইন আ গ্রস নাটক বললাম। কিন্তু আপনারা যদি বিসর্জনের টেক্সটটাকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে থাকেন, ধরলাম আপনারা অনেকেই বিসর্জন তো পড়েছেন ডেফিনেটলি, প্রায় সবাই নিশ্চয়ই পড়েছেন। তো যদি যদি না পড়ে থাকেন, যদি কেউ বিসর্জনের টেক্সটটাকে নিয়ে আপাতত উল্টেপাল্টে দেখে থাকেন, যে হ্যাঁ নাম শুনেছি, দেখে রাখলাম, তাহলে আমরা আমাদের চেনা পরিচিত পরিসরে একটা নাটকের লিখিত রূপ যেমন দেখে অভ্যস্ত, এর সঙ্গে তার খানিকটা মিল পাব, খানিকটা অমিল পাব। > > আমরা যারা নাটকের লিখিত রূপ এমনি সাধারণ গদ্যে সংলাপ পরপর পরপর আছে, সে সংলাপের মধ্যে যা যা কারিগরি যেমন যেমন মুনশিয়ানা লেখক করুন না কেন, কিন্তু কাঠগদ্যে আমরা যদি সংলাপ দেখে অভ্যস্ত হই, বা নাটকের সংলাপ শুনে অভ্যস্ত হই, তাহলে এই টেক্সটটাকে উল্টেপাল্টে দেখলে আমার মনে হবে যে এটা কি? গদ্যে লেখা নাটক বলা যাচ্ছে না। তাহলে এটা কি? > > আবার মাঝে মাঝে একেবারে কাঠগদ্য যাকে বলা হয়, একেবারে একেবারে সরাসরি গদ্য যাকে বলা হয়, কিছুটা কিছুটা অংশ সেরকম গদ্যেও লেখা হচ্ছে। > > মাঝে মাঝে গান থাকছে, একদম গান বলে একটি গানের অংশ, তারপর খানিকটা সংলাপ আবার, আবার ওই গানটির হয়তো বাকি অংশটা। > > আর যদি আপনি এই টেক্সটটার বিশ্বভারতী প্রকাশিত যে বইটি, এখনো বিশ্বভারতীর বইগুলোর এত চমৎকার তার সৌষ্ঠবটা হয়, তার মুদ্রণ সৌকর্য সেটা এতই চমৎকার হয় যে আমি নিজে চেষ্টা করি বা বলতে পারেন লোভে পড়ে এটা করি আরকি, যে আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই রবীন্দ্র রচনাবলী হয়তো রয়েছে, বা বলতে পারেন রবীন্দ্র রচনাবলীরও একাধিক ভ্যারিয়েশন রয়েছে। আমার বাড়িতেই যেরকম, রবীন্দ্র রচনাবলীর একেবারে যে সার্ধশতবর্ষের যে এডিশন, সেটা যেমন আছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, খুব সুন্দর খুব মনোহর সবদিক থেকে সেটি রয়েছে, তেমন পুরনো যে এডিশনগুলো, যেটা রবীন্দ্রনাথের ১০০ বছর, ১৫০ বছরে বেরিয়েছে বিশ্বভারতী এডিশন আলাদা করে, এই যে রবীন্দ্র রচনাবলীর একাধিক এডিশন... > > তা কেউ ভাবতে পারেন বা জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে এতগুলো এডিশনে কেন, মানে একই তো জিনিস লেখা আছে? ঠিক কথা, কিন্তু সবসময় বিষয়টা একই রকমভাবে সাজানো থাকে না। সজ্জার কিছু বিশিষ্টতা থাকে এডিশন টু এডিশনে, কারণ প্রত্যেকটা এডিশন তো এক একজন সম্পাদকের, যারা এই এডিশনগুলো করছেন, যারা এই সংস্করণগুলোকে তৈরি করছেন, রবীন্দ্রনাথের লেখাগুলোকেই একত্র করে করছেন, তার উপরে তো আর তারা খুব একটা কিছু হাতটাত চালাবেন না স্বাভাবিকভাবেই, কিন্তু সেই সংকলকদের নিজস্ব কিছু ভাবনাচিন্তা আছে। > > সেই ভাবনাচিন্তা অনুযায়ী এই এডিশন টু এডিশন খানিকটা খানিকটা ব্যাপারগুলো পাল্টে পাল্টে যাচ্ছে। > > তার ফলে কিছু কিছু পার্থক্য বিষয়গুলোর, সে খুব সূক্ষ্ম ব্যাপার-স্যাপার এবং সেগুলো বেশ তাত্ত্বিক ব্যাপার-স্যাপার, এগুলো আবার মানে খালি মুখে বলে বোঝানোটাও মুশকিল আরকি। সেখানে তার ফলে ওই পাওয়ার পয়েন্ট বা এই জাতীয় কিছু জিনিস দিয়ে রবীন্দ্র রচনাবলীর এই এডিশন টু এডিশনের পার্থক্য যদি কেউ কখনো বলেন, তার একটা ব্যাপার হয়, কিছু সুবিধা হয়। > > এইরকম ভাবে ধরুন তিন-চার খানা রবীন্দ্র রচনাবলীর সংস্করণ আমাদের কাছে আছে, কিন্তু তিন-চার খানা থাক বা একটাই প্রপারলি থাক, রবীন্দ্র রচনাবলী সেখান থেকে তো বিসর্জনের নাটকের খণ্ডটাকে বার করে, যদি বিশ্বভারতীর ওই সংস্করণ না হয়, অন্য কিছু হয়, যেগুলো বিষয়ভিত্তিক, সেক্ষেত্রে নাটকের সংকলনটাকে বার করে বিসর্জনটাকে খুলে নিলেই হয়। > > তো মুশকিল হচ্ছে যে এই বিসর্জন বলুন, বা রক্তকরবী বলুন, বা শের টেক্সটটা বলুন, কিংবা রাশিয়ার চিঠির টেক্সটটা বলুন, বা সাহিত্যের ওই প্রবন্ধের তিনখানা ছোট ছোট বই বলুন, এই বইগুলো এত সুন্দরভাবে তৈরি করা হয় বিশ্বভারতীর যে মুদ্রণ বিভাগ সেখান থেকে, এবং এগুলো যারা প্রাথমিকভাবে যারা তৈরি করেছিলেন, তারা এই মুদ্রণ শিল্পের এমন এমন সমস্ত দিকপাল যে এই বইগুলো আলাদা আলাদা করে কিনে রাখবার একটা প্রয়োজন হয়ে পড়ে আরকি সবসময়। > > ফলে বিসর্জনের টেক্সটটা জুন মাসের, এই ২০২৬ এর জুন মাসে তার লাস্ট সেটা রিপ্রিন্ট হয়েছে। ২০২৬ এর জুন মাসে, মানে আপনি বুঝতে পারছেন একেবারে হালে যাকে বলে। এবং এর এই মুহূর্তের দাম হচ্ছে টেক্সটটার ১৫০ টাকা, তার ওপর ডেফিনেটলি ছাড় থাকে। মানে ২০% ছাড় তো কলেজ স্ট্রিটে আকছার পাওয়া যায়। > > তার ফলে এই যে এই টেক্সটটি এত কম দামে এখনকার বাজারের নিরিখে তো ভীষণই কম দাম সত্যি করে পাওয়া যাচ্ছে, এটাও বেশ একটা বিস্ময়কর ব্যাপার আরকি। ফলে আমি আপনাদের অনুরোধ করব যতটা পারেন এইভাবে আলাদা আলাদা টেক্সটগুলোকে হাতের কাছে জোগাড় করে রাখেন, তাতে পড়তে সুবিধা হয়। > > এবং আরেকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয় সেটা হচ্ছে যে এই আলাদা আলাদাভাবে টেক্সটগুলোকে যদি আপনি জোগাড় করেন, তার পেছনে, একদম শেষে টেক্সটটা শেষ হয়ে যাচ্ছে যেখানে, সে প্রবন্ধ হোক, সে নাটক হোক, সে উপন্যাস হোক যাই হোক না কেন, বা যেখানে তার শেষ হচ্ছে টেক্সটটা, তার পরে গ্রন্থপরিচয় নামে একেবারে কেজো কিছু জিনিসপত্র দেওয়া থাকে। > > এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনি দেখতে পারবেন যে এই গ্রন্থপরিচয়টির সংকলন করছেন যারা, তারা প্রাতঃস্মরণীয় কয়েকজন ব্যক্তিত্ব। যেমন এই বিসর্জনের গ্রন্থপরিচয়টির সংকলন যিনি করেছেন, গ্রন্থপরিচয়টির বিভিন্ন বিষয়পত্রকে যিনি ওখানে সাজিয়ে দিয়েছেন আমাদের সুবিধার্থে, তিনি হচ্ছেন কানাই সামন্ত। কখনো পুলিনবিহারী সেন, কখনো কানাই সামন্ত, এইগুলিকে সংকলন করে দিয়েছেন আমাদের জন্য। > > তার ফলে এই গ্রন্থপরিচয়টা বলতে পারেন একটা আলাদা আকর্ষণ, বেশি নয়, চার-পাঁচ পাতা হবে বড়জোর। তো তার মধ্যে একেবারে সেই ক্যাপসুলের মধ্যে যেরকম করে সমস্ত রোগের উপশমটা ঠাসা থাকে না, ওইটুকু সেইরকম ভাবে সবটা ঠেসে দেওয়া আছে। > > কাজেই বিসর্জনের এই গ্রন্থপরিচয়টি যদি আপনারা একটুখানি খুলে দেখেন, তাহলে সেখানে দেখতে পাবেন যে... > এই নাটকটি, যে কারণে এই কথাটা বললাম, যে আমাদের নাটকের চলতি যে চেহারা, যে চেহারায় আমাদের কাছে নাটকের টেক্সট চলতিভাবে দেখা দেয়, ধরা পড়ে। > > দেখবেন যে এই বিসর্জন নাটকটি, এটি একসময় কাব্যগ্রন্থাবলী ১৩০৩ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে কাব্যগ্রন্থাবলীতে গৃহীত হয়। > > তাহলে একটা নাটক, সেটা হঠাৎ করে কাব্যগ্রন্থাবলীতে কেন গৃহীত হচ্ছে? > > এইখান থেকেই বিসর্জন পড়াটা শুরু করবার আগে তার কেজো তথ্যগুলোকে ছাঁকিয়ে নেবার আগে আমরা আজকে বেসিক্যালি পড়ার অভিমুখটাকে একটুখানি আয়ত্ত করে নেবার চেষ্টা করব। যাতে আমরা যখন শুরু করব তখন যাতে আমাদের একটুখানি টপিক-ওয়াইজ এগোতে সুবিধা হয়। > > তার কারণ আমার কাছে তো অনেকটা সময় নেই, আমাদের প্রত্যেকেরই এখন তো এই... আমাদের নিজস্ব পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক যে পড়াশুনো, সেক্ষেত্রেও যেমন সেমেস্টার সিস্টেম চলে আসার ফলে আজকে নয়, দীর্ঘদিন, আমি যখন ১৫ বছর আগে পড়াশোনা করেছি তখনও সেমেস্টার সিস্টেম ঢুকে পড়েছে তখন। আর এখন তো সেটা তার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে যাকে বলে। > > ফলে সেই সেমেস্টার সিস্টেমে আমরা আর একটা গোটা বছর ধরে একটা টেক্সটের সঙ্গে থাকতে পারি না। মানে এটা ভীষণই দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার, কিন্তু পারি না। > > এখানেও সেই সেমেস্টার সিস্টেমের একটা ছায়াপাত আছে। তার ফলে সেখানটাতে মানে পরীক্ষার মাথা, পরীক্ষাটাকে একটুখানি মাথায় রেখে যখন কাজ করতে হয়, একটা নির্দিষ্ট সময়ে যখন আমার এই টেক্সটটা পড়ানো শেষ করতে হবে, তখন আমাদের একটা টপিক-ওয়াইজ চলতেই হবে আরকি। > > ফলে কয়েকটি দিককে আমরা আজকেই বেছে নেবার চেষ্টা করি যে দিকগুলোকে নিয়ে আমরা এগোনোর কথা ভাবব আরকি। > > ফলে এই যে এই কাব্যগ্রন্থাবলীতে এটি গৃহীত হয় এবং তারপর এর প্রচুর সংস্কার সাধন ইত্যাদি প্রভৃতি হয়ে বেশ কিছু পরিমার্জনের মধ্যে দিয়ে গিয়ে, বেশ কিছু গ্রহণ বর্জন এই নাটকের চরিত্রগুলির মধ্যে করে-টরে, আলটিমেটলি বিশ্বভারতী কর্তৃক বিসর্জন নাটকের তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে। এটি কানাই সামন্ত আমাদের জানাচ্ছেন। > > এবং এই নাটকটি প্রথম, প্রথম ১২৯৭ বঙ্গাব্দের দোসরা জ্যৈষ্ঠ, যদিও এই দোসরা জ্যৈষ্ঠ সম্বন্ধে কানাই সামন্ত নিজেই একটি জিজ্ঞাসাচিহ্ন রাখছেন, এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল নাট্যকারে বিসর্জন ১২৯৭ সালের আমরা ধরে নিচ্ছি জ্যৈষ্ঠ মাসেই প্রকাশিত হয়েছিল, এবং ১২৯৭ বলতে আমি যদি এটাকে ইংরেজিতে নিয়ে যাই তাহলে ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে। > > ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে, রবীন্দ্রনাথ তখন ৩০-এর দোরগোড়ায়। > > এই ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে যে বিসর্জন প্রকাশিত হলো, সেই বিসর্জনের আবার একটা পূর্বরূপ রয়েছে। > > বিসর্জন তো নাটক, যে নাটকের সংলাপগুলো ছন্দে লেখা। > > সেই ছন্দ কিছুটা আমি বুঝতে পারছি, কিছুটা বুঝতে পারছি না। > > ছন্দে লেখা হলেও সাধারণত একটি কাব্যের কাছ থেকে আমার যা এক্সপেকটেশন থাকে, একটা অন্তমিলের জায়গা, সাধারণত বলছি, সেই অন্তমিলের বিষয়পত্র এখানে সেরকম নেই। > > মাঝে মাঝে কিছু জায়গায় এটা গদ্যে কথোপকথন চলছে, অল্প একটু জায়গা। > > কখনো কখনো এর মধ্যে গান ঢুকে যাচ্ছে। > > এইভাবে যে সংলাপের বৈচিত্র্যের মধ্যে দিয়ে যে নাটকটি আমার সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে, সেটি আবার কাব্যগ্রন্থাবলীতে প্রকাশিত হচ্ছে, মানে কাব্যগ্রন্থাবলির মধ্যে সংযুক্ত হচ্ছে। > > এবং এর ওই প্রথম, ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের প্রথম প্রকাশের আগের একটা রূপ আছে। > > আগের রূপটা কি? আগের রূপটা হচ্ছে রাজর্ষি। > > রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনস্মৃতিতে লিখছেন: > > "স্বপ্ন দেখিলাম, কোন এক মন্দিরের সিঁড়ির উপর বলির রক্তচিহ্ন দেখিয়া একটি বালিকা অত্যন্ত করুণ ব্যাকুলতার সঙ্গে তাহার বাপকে জিজ্ঞাসা করিতেছে, 'বাবা এ কি, এ যে রক্ত!'" > > বাবার রিঅ্যাকশনটা এখানে খুব ইম্পর্ট্যান্ট। > > বালিকার এই কাতরতায় তাহার বাপ অন্তরে ব্যথিত হইয়া অথচ বাহিরে রাগের ভান করিয়া কোনোমতে তার প্রশ্নটাকে চাপা দিতে চেষ্টা করিতেছে। > > রিঅ্যাকশনটাকে ইম্পর্ট্যান্ট বা ইন্টারেস্টিং বললাম এই কারণে যে, অন্তরে তার ব্যথা, সেই ব্যথাটা যদি মেয়ের সামনে প্রকাশ পেয়ে যায় তাহলে মেয়ে তার বাবাকে কী রকম ভাববেন, মানে বাবার যে চেহারাটি সাধারণত সমাজ বাবাদেরকে দিয়ে থাকেন আরকি, সেখানে মেয়ে বাবাকে দুর্বল ভাববে, এরকম একটা ভয় হয়তো তার রয়েছে, প্রথমত। > > দ্বিতীয়ত, এই পরিস্থিতিটা বেশ অস্বস্তিকর, ওই বলির রক্তের দাগ, তিনিও তার অবচেতনে কোথাও একটা নিতে পারেন না। তার ফলে সেই অস্বস্তিটা যদি বাইরে প্রকাশ পেয়ে যায়, সেই অস্বস্তিটা প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার ফলে জাত অস্বস্তি, সেই কারণে তার অন্তরে ব্যথা সত্ত্বেও বাইরে রাগ দেখানো। > > তিন নম্বর, এই যে এই বলি ব্যাপারটা, সেই বলি ব্যাপারটাকে এমনভাবে একটা ইনস্টিটিউশনালাইজড একটা মার্ডারের সঙ্গে প্রায়, একটা প্রাতিষ্ঠানিক হত্যার সঙ্গে প্রায়, এই নাটকে আমরা একাত্ম হয়ে যেতে দেখব। > > এবং সেটা তো রবীন্দ্রনাথ হঠাৎ করে কোনো একটি জায়গা থেকে তুলে আনছেন না। > > এটা তো আমাদের মনের গহীনে বলির সম্বন্ধে যে সংশয়টা, যে দোলাচলটা রয়েছে, বলির বহুবিধ শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আছে। > > আমি সেই সমস্ত গহীন, গহন, জটিল শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার মধ্যে যাচ্ছি না, তার পরিসর এটা নয়, এবং আমি সেই ভয়ংকর গহীনে ঢোকবার পুরোপুরি উপযুক্ত মানুষও নই। > > আমি বলির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার যে দুই একটি প্রসঙ্গ জানি, তা বোধহয় আপনারাও জানেন, তার থেকে বেশি যদি আপনারা এই ব্যাপারে জানেন তাহলে আমাকে বলবেন আমি সেখান থেকে শিখে নেব। > > কিন্তু মোদ্দায় যে কয়েকটা বিষয় আমি জানি শাস্ত্রীয় প্রয়োজনে কি কি কারণে বলি হতে পারে, এক হচ্ছে সহজ সোজাসুজি জায়গাটা, যে শাক্ত মতে, দেবীর সামনে যখন বলি হচ্ছে, শক্তি দেবীর সামনে যখন বলি হচ্ছে, সেটি কালী হতে পারেন, সেটি দুর্গা হতে পারেন, সেটি এদের কোনো রূপের ভ্যারিয়েশন হতে পারে, এদের কোনো রূপের বৈচিত্র্য তাঁর সামনে হতে পারে। > > এই শক্তি দেবীর সামনে যখন বলি হচ্ছে, মানে মধুসূদন যখন তার মেঘনাদবধ কাব্যের একেবারে শেষ পর্বে গিয়ে যখন মেঘনাদ এবং প্রমীলার সহমরণের যাত্রা চলছে, প্রয়াণ হয়েছেন মেঘনাদ এবং প্রমীলা তার সঙ্গে সহমরণে যাচ্ছেন, তখন পশুগণে বিদ্ধ করা হয়েছে তীক্ষ্ণ তীর দিয়ে এবং তারপরে তাদেরকে ঘৃণাক্ত করে রক্ষা করা হয়েছে, ঘৃণাক্ত করে রাখা হয়েছে, যত্ন করে রাখা হয়েছে। > > এবং এই বিষয়টিকে তিনি শাক্ত ভক্তগৃহে যেভাবে শক্তি দেবীর আরাধনা করা হয়, তার একটা রিচুয়াল হিসেবে দেখাচ্ছেন। > > তাহলে এই যে এই বিভিন্ন রকমের মৃত পশুর সঙ্গে, মৃত পশুকে আহুতি হিসেবে উপস্থাপিত করার সঙ্গে শাক্ত রীতির যে যোগ, সেখানে শক্তি দেবীর তৃষ্ণা, শক্তি দেবীর চাহিদা মেটানোর জন্য বলি, বলির প্রথা রয়েছে। এটা গেল প্রথম একদম একটা সহজ সরল ব্যাখ্যা, দেবী চান দেবীকে বলি দেওয়া হচ্ছে, দেবীর সামনে বলি দেওয়া হচ্ছে। কী বলি দেওয়া হচ্ছে, ছাগ বলি দেওয়া হচ্ছে, মেষ বলি দেওয়া হচ্ছে, মূলত এই দুখানা জিনিসই বলি জায়গায় আসছে, আমি নরবলি টলি প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। > > এবার তার সঙ্গে এবার আসি তার শাস্ত্রীয় এবার ব্যাখ্যার জায়গায়। সমস্ত যখন করা যখন হচ্ছে একটা রিচুয়াল যখন তৈরি হচ্ছে, তখন তো তার কিছু ব্যাখ্যা থাকবে। শাস্ত্রীয় নিদান যখন দেওয়া হচ্ছে তখন তো তার কিছু ব্যাখ্যার জায়গা থাকবে। সেই ব্যাখ্যার জায়গা কি? ব্যাখ্যার জায়গার মধ্যে কখনো কখনো এই বলির মাধ্যমে আমার প্রিয় জিনিসকে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে এরকম একটা বিষয় থাকে। > > অন্য ধর্মের ক্ষেত্রেও আপনারা ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে যে কুরবানির প্রসঙ্গ আসে আপনারা জানেন, যে সেখানে নিজের প্রিয় জিনিসকে আমি সমর্পণ করছি, নিজের প্রিয় জিনিসকে আমি আহুতি দিচ্ছি, এইটা হচ্ছে তার প্রধান ভাবনার জায়গা, এটা হচ্ছে তার প্রধান লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, এই কুরবানি। ঠিক সেরকমভাবে আমি আমার প্রিয় জিনিসকে বিসর্জন দিচ্ছি। > > আরও একটি ব্যাখ্যা যেটা, সেটা হচ্ছে এই বলির মধ্যে আমি সেই পশুটির মাধ্যমে এই পশুটিকে যে আমি ওখানে বলি দিচ্ছি, সেই পশুটির মুণ্ডচ্ছেদের মাধ্যমে একটা আমাদের ভেতরের অহংকার, ভেতরের যে আত্ম, আমাদের ভেতরের যে অস্মিতার বোধ, সেই বোধটাকে আমি দেবীর চরণে সমর্পণ করছি। > > তো এইরকম মূলত কয়েকটি মোদ্দা বলির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে। > > এবার এই যে বলিকে নিয়ে এই বিষয়টির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যাগুলো সত্ত্বেও আমি একটা করে পশু আনলাম আর ঘ্যাচাং করে কাটলাম, এই বিষয়টাকে তো একটা সময় অব্দি সেটা হয়তো সাধারণ ছিল স্বাভাবিক ছিল, কেউ প্রশ্ন তোলেননি। কিন্তু যখন থেকে মানুষ এ ব্যাপারে প্রশ্ন তুলতে শুরু করলেন, যে একটু বেশি নিষ্ঠুর একটু বেশি নির্মম হয়ে যাচ্ছে না ব্যাপারটা? > > এইভাবে প্রকাশ্য এইভাবে একটা দেবতার কাছে আমার কিছুকে সমর্পণ করবার জন্য এরকম বলি দিয়ে দেওয়া, এই গোটা ব্যাপারটার মধ্যে যে একটা ভয়াবহতা রয়েছে, বিভৎস রসের জায়গা রয়েছে, একটা বিভৎসতা তো আছে, এতে তো কোনো সন্দেহ নেই। এবং সেই বিভৎসতারই তো এখানে উদযাপন চলছে। আমি যদি বিভৎসকে একটি রস হিসেবেই ধরি, আমি যদি বিভৎসটাকে আলাদা করে কোনো নেগেটিভ অর্থে নাও ধরি, তাহলেও এর মধ্যে তো সেই ভয়াবহতাকে একটা উদযাপন করারই জায়গা আছে। > > যে আমি তুমি ক্ষুব্ধ হতে পারো, এইরকম কোনো একটা ভয় থেকে, এবং ক্ষুব্ধ হওয়া মানে এটা একটুখানি অসুবিধাই হয় আমার এই ব্যাপারটাকে বুঝতে, আমি ঠিক বুঝতে পারি না আপনারা যদি বুঝে থাকেন, আপনারা অনেকেই আমার থেকে বয়সে বড়, অভিজ্ঞ, আমাকে একটুখানি জানাবেন যে আমি ভুল করে যে পুষ্পরাজি চয়ন করে এনেছি আমার আরাধ্য দেবতার জন্য, সেখানে এমন কোনো একটি পুষ্প ভুলবশত চলে এসেছে যাতে অমুক দেবতার অ্যালার্জি আছে। > > হ্যাঁ, এবং সেই অ্যালার্জিটার জন্য দেবতার হয়তো দু-একবার হাঁচিটাচি পড়েছে, সেজন্য এইটুকু ভুলের জন্য আমি সবংশে ধ্বংস হয়ে যাব, এই যে ঠিক কোন ধরণের মায়াময় দেবতার মূর্তি তৈরির প্রচেষ্টা, এটা আমার তো মাথায় ঢোকে না। মানে আমি যে ভয় পাব, ভয়েরও তো একটা মাথামুণ্ডু থাকবে যে আমি ঠিক কেন ভয় পাব? আমি করেছিটা কি? আমি যে দেবতার শরণাগত হচ্ছি, আমি যে দেবতার কাছে এসে আশ্রয় ভিক্ষা করছি, শান্তির আকাঙ্ক্ষা করছি, আমি যে দেবতা আমাকে ভালো রাখবেন, আমার পরিবারকে সুস্থ রাখবেন, আমার প্রিয়জনেদের রক্ষা করবেন, আমাকে সব দিক থেকে, অর্থের দিক থেকে, যশের দিক থেকে, শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে সবসময় তুঙ্গস্পর্শী করে রাখবেন, এমনটা আশা নিয়ে যার কাছে যাচ্ছি, আবদার নিয়ে নয় আশা নিয়েই যাচ্ছি ধরা গেল, ভয় থেকেই যাচ্ছি ধরা গেল। > > কিন্তু তার কাছে তো আমার একটা পরম করুণাময়ের কাছে আমার একটা যাওয়ার একটাই তো কোনো এরকম জিনিস আছে যে তিনি আমার প্রতি তুষ্ট থাকবেন এবং তুষ্ট থাকার জন্য আমি ভেট-টেট দিয়ে যাচ্ছি তাও হলো, কিন্তু একী রকম পরম করুণাময়ের মূর্তি রে বাবা যে এরকম ভাবে ভয়ে ভয়ে তটস্থ থাকতে হবে যে বাই চান্স যদি তার পুজোয় যে ফুল লাগে না সেই ফুল একটাও কোনোভাবে অজান্তে, অনিচ্ছায় ওর মধ্যে ঢুকে যায়, আর যদি অ্যালার্জিবশত তার হাঁচি পড়ে, তাহলে আমি একদম সবংশে ধ্বংস হয়ে যাব। > > আপনি যেটা লিখেছেন সেটা হচ্ছে, কোথায় গেল... "In call messages... হ্যাঁ, বলি ছাড়া যে মাংস ভক্ষণ তা কি পাশবিক উল্লাস নাকি শারীরিক সুস্থতার একটা পুষ্টিকর উৎস মাত্র?" মানে বলি ছাড়া যে মাংসের ভক্ষণ... আমি তো সেটাকে শারীরিক পুষ্টির ব্যাপারেই দেখি আরকি। এটা নিয়ে তো এখন আবার প্রচুর ঝগড়াঝাঁটি হচ্ছে, মানে হ্যাঁ, বলি ছাড়া যে মাংসের ভক্ষণ আপনি বলতে পারেন সেটাকে বাজারে বিক্রি টিক্রি হচ্ছে যখন তখন ওরকম করে বিক্রি হচ্ছে সেটা বেশ বীভৎস ব্যাপার আরকি। সেটা তো সিস্টেমের ঝামেলা, নইলে মাংস খাওয়ার মধ্যে তো কোনো গন্ডগোল নেই, যিনি খাবেন না তিনি খাবেন না, এই আরকি। হ্যাঁ, সেটা, সেটার মধ্যে পাশবিক উল্লাসের কি হয়েছে? আমি না খেলে বাঁচব কি করে? আমাকে তো সবজি খেলেও সেখানে কিছুর একটা কিছুর একটা নষ্ট করতেই হচ্ছে আরকি, বাঁচতে তো হবে, খেতে তো হবে তাই খাচ্ছি। > > যাই হোক, তাহলে কথায় চলে আসি। তাহলে সেই পরম করুণাময়ের এই রূপটি সম্বন্ধে আমি এখনো অব্দি খুব সুষ্ঠু ভাবনায় আসতে পারিনি। > > এটা জরুরি এই কারণে যে, এই যে বাবা এখানটাতে ভেতরে ভেতরে ব্যথিত হয়েও সামনে একটা স্টাবার্ননেস দেখাচ্ছেন তার কারণ এতদিন ধরে তাঁকে এই দেবতার সামনে আহুতি দেওয়ার প্রসঙ্গে যে শিক্ষাগুলো দিয়ে আসা হয়েছে, ভেতরে ভেতরে কোথাও একটা সংশয় আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে ফল্গুধারার মতো চলেছে। যারা বলিতে কার্যতঃ বিশ্বাস করেন, বিশ্বাস করেছেন, বিশ্বাস করছেন, তাদের মধ্যেও সেই সংশয়ের জায়গা আছে, ন্যাচারালি, থাকারই কথা, সদর্থক সংশয়ের জায়গা আছে। > > সেই সংশয়টি এই ভয়াবহতার যে উদযাপন, সেই উদযাপনটি কোথাও একটা এই মেয়েটির মতো তাকে দুর্বল না করে ফেলে, সেই কারণে অন্তরে ব্যথিত হয়েও তিনি বাইরে রাগের ভানটি করতে থাকলেন। এই বাবা অনেক ক্ষেত্রেই বিসর্জন নাটকের প্রধান চরিত্রগুলির মধ্যে উঁকি দিয়ে যাবেন। ফলে এতক্ষণ ধরে আমি এই বাবার প্রসঙ্গে দেবতা কনসেপ্টটির সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক এবং বলির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আর সেই ব্যাখ্যার মধ্যে যে ফ্যালাসি যুগের পর যুগ মানুষ খুঁজে পেয়েছে সেই কথাগুলো বলতে থাকলাম। > > ফলে বাহিরে রাগের ভান করিয়া কোনোমতে তার প্রশ্নটাকে চাপা দিতে চেষ্টা করিতেছে। তিনি দেখলেন স্বপ্নে এটা। > > এই স্বপ্নটির সঙ্গে ত্রিপুরার রাজা গোবিন্দমাণিক্যের পুরাবৃত্ত মিশাইয়া রাজর্ষি গল্প মাসে মাসে লিখিতে লিখিতে বালকে বাহির করিতে লাগিলাম। বালক বলতে বালক একটি সাময়িক পত্র, ঠাকুরবাড়ি থেকেই প্রকাশিত একটি পত্রিকা, একটা ম্যাগাজিন, সেখানে ধারাবাহিক তিনি লিখতে থাকলেন কিস্তিতে কিস্তিতে তিনি লিখতে থাকলেন। কী লিখতে থাকলেন? এই গোবিন্দমাণিক্য ত্রিপুরার রাজা, তার পুরাবৃত্ত মিশাইয়া রাজর্ষি গল্প। > > রবীন্দ্রনাথ এটাকে জীবনস্মৃতিতে ইন আ গ্রস গল্প বলছেন, কানাই সামন্ত বলছেন রাজর্ষি উপাখ্যান, আসলে রাজর্ষি একটি উপন্যাস। তাহলে রাজর্ষি হচ্ছে বিসর্জনের আদি রূপ, যেটি উপন্যাস একটা, এবং এই রাজর্ষি উপন্যাসেরই বা বিসর্জনের আদি রূপ বলাটা হয়তো পুরোপুরি ঠিক হলো না, বলতে পারেন রাজর্ষি উপন্যাসের একেবারে প্রথমাংশ থেকে বিসর্জন নাটকটিকে তৈরি করছেন। সেই বিসর্জনের মধ্যে আবার টেক্সচুয়াল বেশ কিছু এদিক ওদিক হেনা তেনা এই সমস্ত আছে, মানে টেক্সচুয়াল বেশ কিছু সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন এই সমস্ত বিষয়পত্র আছে। > > তাহলে কী দাঁড়ালো? দাঁড়ালো হচ্ছে এমন একটা নাটকের টেক্সট, যে নাটকের টেক্সটটিকে আমি যখন লিখিত আকারে পড়ছি, তখন সেই পড়ার জায়গাটাতে আমার কিছু সংশয় তৈরি হচ্ছে কারণ সংলাপগুলো তো আমার চেনা নাটকের টেক্সটের সংলাপের মতো নয়, পুরোপুরি গদ্য নয়, মাঝে মাঝে গদ্য আছে, মাঝে মাঝে গান আছে, সংলাপের মধ্যে ছন্দের স্পন্দন আছে। তাহলে এটি কী? > > এটা আমার প্রথম প্রশ্ন। দ্বিতীয়ত, এটার এটা প্রকাশিত হবার পর একসময় কাব্যগ্রন্থাবলীতে ধৃত হয়েছে, কাব্যগ্রন্থাবলির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাহলে দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে হঠাৎ করে কাব্যগ্রন্থাবলির মধ্যে গেল কেন? তৃতীয়ত, এর একটা প্রাচীন রূপ আছে, সেটা হচ্ছে একটা উপন্যাস। তাহলে উপন্যাস থেকে বা উপন্যাসের একটা অংশ থেকে এটি নাটকে অ্যাডাপ্টেড হয়েছে, পরিগৃহীত হয়েছে, নাটকে তৈরি করা হয়েছে এই উপন্যাসের অংশ থেকে। তাহলে এই দুটোর মধ্যে তুলনার কোনো জায়গা থেকে যায়। > > তাহলে আমাদের প্রথম যে বিষয়টি বা বলতে পারেন প্রথম নয়, আমি বলতে চাইছি যে আমাদের বিভিন্ন টপিকগুলোর মধ্যে আমাদের যে বিষয়টি একটি আসবে সেটা হচ্ছে রাজর্ষি ও বিসর্জনের একটি তুলনামূলক আলোচনা। > > এজন্য আপনাদের বিসর্জনটা যেমন পড়তে হবে, তেমনভাবে রাজর্ষি উপন্যাসটাকেও একটু উল্টেপাল্টে দেখতে হবে, এটা আমি প্রথমেই আপনাদের জানিয়ে রাখলাম। রাজর্ষি এবং বিসর্জনের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা আমাদের একটি টপিক। > > এই গেল প্রথম কথা। দুই নাম্বার যে ব্যাপারটা, সেটা হচ্ছে যে বিসর্জন নাটকটিতে আপনারা এর গল্পটি তো জেনেই গেলেন একভাবে, মানে ইন্সপিরেশনটা জেনেই গেলেন। যারা বিসর্জন পড়েছেন বা যারা বিসর্জনটি না পড়লেও বিসর্জনের গল্পটি অলমোস্ট জানেন, কোন ক্রাইসিস থেকে এই লেখাটা হচ্ছে সেটা জানেন, এর মূল দ্বন্দ্বের জায়গাটা জানেন, তারা জানেন যে এখানে অপর্ণা নামের একটি মেয়ে এবং তার যে পোষা ছাগ শিশু, তাকে বলি দিতে আনা হয়েছে এবং স্বয়ং রাজা সেই মন্দিরে এসেছেন অপর্ণার প্রশ্নটিকে সঙ্গে নিয়ে যে, একে কেন বলি দেওয়া হবে? > > এই মা কি ছাড়া যে শিশু থাকতে পারে না, চেনে না কিছু, নিজের মাকেও ভালো করে চেনে না, ওই অপর্ণা নামের মেয়েটি যখন বাড়ি ফিরে আসে তখন তার হাতে সে খায়, এতটাই অসহায়, এতটাই ছোট, তার রক্তে এই বিশ্বমাতার ক্ষুধানিবৃত্তি হবে, এই মন্দিরের পরিসরের বোধন হবে? এ কোন দেশী কথা? > > এবং স্বয়ং সে দেশের রাজা তিনি এসেছেন এসে এই প্রশ্নটি করছেন কাকে? নাটকের প্রধান চরিত্র যারা তাদের মধ্যে অন্যতম জয়সিংহকে। জয়সিংহ, রঘুপতি এই দুজন এই নাটকের প্রধান ক্যারেক্টার, এর সঙ্গে গোবিন্দমাণিক্য রাজা, গোবিন্দমাণিক্যের ভাই নক্ষত্ররায় এবং অপর্ণা, রাজার মহিষী গুণবতী এরা হচ্ছেন এই নাটকের প্রধান জায়গা। এছাড়া চাঁদপাল ইত্যাদি প্রভৃতি যারা আছেন, তাদের কথা পরে আসবে। > > তাহলে এই যে ক্রাইসিসটা, এত রক্ত কেন? এই যে এই প্রশ্নটা যে বলির মাধ্যমে ঠিক কোন উদ্দেশ্য সফল হতে চলেছে? এই বলি যিনি গ্রহণ করবেন তার গ্রহণ করবার জাস্টিফিকেশনটা কী? তিনি কেন গ্রহণ করবেন, কেন তিনি চাইছেন আদৌ চাইছেন কি? > > এই প্রশ্নটি থেকেই একেবারে এই প্রশ্নটি থেকেই এই নাটকটি তৈরি হচ্ছে, শুরু হচ্ছে। > > নাটকটির মোটামুটি ৫টা অঙ্কে এই নাটকটি বিভক্ত এবং ৫টা অঙ্কের মধ্যে বেশ কয়েকটা দৃশ্য রয়েছে। সেই দৃশ্যগুলোর যদি আপনি ভাগ বাঁটোয়ারাগুলোকে মোটামুটি দেখে নেন, তাহলে বিষয়টা দাঁড়াবে এইরকম যে, ৫টি অঙ্ক, এবং প্রথমাদিক্রমে অর্থাৎ প্রথম অঙ্কে ৩টে, দ্বিতীয় অঙ্কে ৭টা, তৃতীয় অঙ্কে ৪টে, চতুর্থ অঙ্কে আবার ৭টা এবং পঞ্চম অঙ্কে ৮টা, মোট ২৯টি দৃশ্য দেখা যায়। যদিও পরবর্তীকালে সংস্করণগুলোতে এর কিছু অ্যারেঞ্জমেন্টের পার্থক্য হয়েছিল, কিন্তু ইন আ গ্রস এই ৫টি অঙ্কের মধ্যে বেশ কয়েকটা দৃশ্য সম্মিলিত করে, দৃশ্যকে পরপর পরপর পরপর এনে এই নাটকটি তৈরি হচ্ছে। > > তা যে নাটকের মধ্যে আবার ওই টেক্সটের সংলাপের ধরনের জন্য কাব্যগ্রন্থাবলীতে সেটির সংযুক্ত হওয়ার জন্য যার আঙ্গিক নিয়ে কনফিউশন, যেটা শের ক্ষেত্রে যারা পড়েছেন সে এখানে তাদের তারা জানেন, তাদের ক্ষেত্রে খুব বেশি রকমের ছিল, এক্ষেত্রে ততটা নেই কিন্তু তবুও এক্ষেত্রে একটু সেই প্রশ্নের জায়গা আছে। > > এই ধরণের নাটককে নাট্যকাব্য বা কাব্যনাট্য এমন একটি পরিসরে রাখা হয় সচরাচর। নাট্যকাব্য বা কাব্যনাট্য। এই দুটোর মধ্যে আবার কিছু পার্থক্য আছে। কাকে নাট্যকাব্য বলব এবং কাকে আমি কাব্যনাট্য বলব। > > মানে এর মধ্যে নাট্যের পরিসর যেমন আছে, এর মধ্যে নাটকের উপাদান, উপকরণ যেমন আছে, তেমনই এর মধ্যে কাব্যের জায়গাও আছে। এর মধ্যে কাব্য সংক্রান্ত ভাবনার জায়গাও আছে। ফলে এর মধ্যে বুঝতে পারছেন এই দুটি শব্দকে জুড়ে দিয়ে, এই দুটি শব্দকে জুড়ে দিয়ে একটি নতুন শব্দ বা শব্দবন্ধ তৈরি করা হচ্ছে— নাট্যকাব্য বা কাব্যনাট্য। > > তাহলে এই যে নাট্যকাব্য, কাব্যনাট্য যাই বলি না কেন, দুটোর মধ্যে পার্থক্যটাকে জেনে নিয়ে আমরা পরবর্তীকালে পড়ব যখন বলার, এই বিসর্জনকে আমি কিসের মধ্যে ফেলব? বা বলতে পারেন, যার মধ্যেই ফেলি না কেন, নাট্যকাব্য বলি, কাব্যনাট্য বলি, এটি এ সমস্ত কাব্যের মধ্যে না গিয়ে নরমাল একটা নাটক বলি যাই বলি না কেন, সেই আঙ্গিকের অন্তর্ভুক্ত যে করছি আমি বিসর্জনকে, কতটা সার্থক বলা যেতে পারে এই অন্তর্ভুক্তিটা? > > মানে যদি এটিকে আমি নাট্যকাব্য ধরি, তাহলে নাট্যকাব্য হিসেবে এর সার্থকতা কতটা? কেমন? সেটা আমরা একটু খোঁজার চেষ্টা করব। মানে যে আঙ্গিকে এটিকে আমি ফেলছি, যে প্রকরণের মধ্যে এটিকে আমি ফেলছি, আরও একটু সহজ কথায় বলতে গেলে যে ফর্মের মধ্যে আমি এই বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করছি, এই নাটকটিকে নিয়ে যাচ্ছি, সেই ফর্মের জায়গা থেকে, ফর্মের বৈশিষ্ট্যগুলোর জায়গা থেকে এটি কতখানি সুপ্রযুক্ত হচ্ছে, কতখানি তার মধ্যে ফেলার জন্য ঠিকঠাক হচ্ছে। এটি আমাদের আরেকটি টপিক। > > তিন নাম্বার, অবশ্যই বিসর্জনের নামকরণটি নিয়ে আমাদের কিছু কথা থাকবে। কারণ রবীন্দ্রনাথের নিজেরও এই বিসর্জনের নামকরণ নিয়ে বেশ বড় একটা ভাবনার জায়গা ছিল। এটিও যদি আপনারা একদম কোথাও সেরকমভাবে না খুঁজে হাতের কাছে চট করে পেয়ে যেতে পারেন ওই বিসর্জনের টেক্সটটার শেষটুকু পড়ুন, কানাইবাবু সব অ্যারেঞ্জমেন্ট করে দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের একটা বড় আলোচনা এই বিষয়টি নিয়ে তিনি দিয়ে দিয়েছেন। > > সেটা শুরুই হচ্ছে এই নামকরণ প্রসঙ্গে। যে বিসর্জন নামটা কেন? বিসর্জনের একটা ইংরেজি অনুবাদ রয়েছে, Sacrifice নামে। কথা প্রসঙ্গে আমাদের রাজর্ষি যেমন আসবে, তেমনি বিসর্জনের এই অনুবাদ Sacrifice-এর জায়গাও আসবে। অর্থাৎ বিসর্জন নাটকটি ইটসেলফ সেই নাটকের পাঠান্তর, সেই নাটকের পূর্ববর্তী রূপ রাজর্ষির প্রথমাংশ এবং বিসর্জনের একটি অন্য ভাষায় অনুবাদ Sacrifice— এই সবটা মিলিয়ে কিন্তু এই টেক্সটটা আমাদের সামনে আসছে। এবং আমরা এই সবটা মিলিয়েই টেক্সটটাকে অ্যাপ্রোচ করবার যতদূর সম্ভব চেষ্টা করব, কেন্দ্রে অবশ্যই বিশ্বভারতীর এই পাঠটি থাকবে, মান্য পাঠটি থাকবে। > > ঠিক আছে? তাহলে আমরা মোটামুটি তিনটে ইয়েতে গেলাম, তিনটে টপিকে যেতে পারলাম। > > এবার একটু ভেবে দেখুন তো, এই নাটকটির প্রথম দৃশ্য যেটা শুরুই হচ্ছে ওই অপর্ণা গোবিন্দমাণিক্যকে নিয়ে হাজির হয়েছে এবং মন্দিরকে যিনি মন্দিরের সমস্ত কাজপত্র যিনি করেন সেই তরুণ, সেই যুবক জয়সিংহ, ঝকঝকে একটি ছেলে, সেই জয়সিংহের কাছে আরজি জানাচ্ছেন সেই মেয়েটি যে, আমার ছাগলটিকে কেন ধরে নিয়ে এল? সে তো কিচ্ছু চেনে না, এর মাধ্যমে দেবীর ক্ষুধানিবৃত্তি হবে, কোন দেশী কথা? > > আর জয়সিংহ কেমন একটা কনফিউশন পড়ে যাচ্ছেন যে সত্যিই এইভাবে তো ভেবে দেখিনি। স্বয়ং দেবী যাকে নিয়েছেন কোথা থেকে কোথা থেকে এই মন্দিরের যারা এই দায়িত্বে আছেন, এই পশুকে বলি দেওয়ার জন্য নিয়ে আসেন যারা তারা কোত্থেকে জোগাড় করে আনেন তা তো আমি সবসময় খবর রাখতে পারি না, আমি তো জানি না। তা তোমার পোষ্যটিকেও নিয়ে এসেছেন হয়তো, তা দেবী নিজে যখন নিয়ে নিয়েছেন তাকে আমি কী করে ফেরত দেব? > > এবার অপর্ণা আর্তনাদ করছে যে এর মধ্যে কি ওই ছাগ শিশুর রক্ত মিশে আছে? জানেও না তখন সে। > > আর জয়সিংহ খুব সংশয়ের মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন যে সত্যিই এভাবে তো ভেবে দেখা হয়নি। তাকে তো মূলত যিনি ভাবাচ্ছেন তিনি এই মন্দিরের তথা এই গোটা সাম্রাজ্যের প্রধানতম পুরোহিত রঘুপতি, আমার ব্যক্তিগতভাবে একটা বায়াস আছে চরিত্রটির প্রতি। ফলে আমি বিসর্জন পড়াতে যখন আমাকে অমৃতা বললেন আমি নিজে একটুখানি শশব্যস্ত খেয়ে গেছিলাম যে আদতে আমি বিসর্জন পড়াতে চাই না রঘুপতি পড়াতে চাই। বিসর্জনের একটি দুর্দান্ত অ্যাডাপ্টেশন হয়েছিল যেটি খুব কম মঞ্চায়িত হয়েছে এবং আমি এইখানটাতে এবার আমার আসল কথাটা একটু বলেই ফেলি, যে ক্লাসে অংশুমানদা রয়েছেন সেই ক্লাসে নাটক পড়ানো যে কী সাংঘাতিক দুঃসাহসের ব্যাপার এ না মানে এই ধরণের ঝঞ্ঝাটের মধ্যে মানুষ কেন কাউকে এই সুন্দর আশ্বিন মাসে ফেলে আমি জানি না। > > যাই হোক, আমি তার ফলে খুব কুণ্ঠা নিয়ে এই কথাটা বলছি যে, এর একটা চমৎকার অ্যাডাপ্টেশন, আমার অল্প সেটা মঞ্চায়িত হয়েছিল কিন্তু দেখার সুযোগ হয়ে গিয়েছিল, সে করেছিলেন অঞ্জন দত্ত। এবং অঞ্জন দত্তর যে অ্যাডাপ্টেশনটি বিসর্জনের, সেটির নামই ছিল রঘুপতি। > > ফলে আমরা আমরা বিসর্জন পড়ি নাকি আদতে আমরা রঘুপতি পড়ি সেটা একটা বড় প্রশ্ন। ফলে এই নাটকের রঘুপতি চরিত্রটি আমাদের কাছে একটা আলাদা গুরুত্ব নিয়ে থাকবে। রঘুপতির ভূমিকায় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও আবির্ভূত হয়েছেন মঞ্চে আপনারা জানেন, এবং একটা আইকনিক ছবি এই বিষয়ে রয়েছে আপনারা যারা দেখেছেন দেখেছেন, না দেখে থাকলে আমি ছবিটাকে একবার দেখাবো আপনাদের পরে। > > তার ফলে এই যে এই রঘুপতি চরিত্রটা আমাদের ভাবনার মধ্যে একটা আলাদা জায়গায় থাকবে। > > তো এবার এই নাটকের একদম শুরুর দৃশ্যে, যেখানে আমরা রঘুপতিকে দেখতে পাচ্ছি যিনি জয়সিংহকে এইভাবে ট্রেইন করেছেন, আমরা গুণবতীকে দেখতে পাচ্ছি, মহিষী, রাজমহিষী, তাঁর সন্তান হয়নি, এবং এটি তার জীবনের একটা ভয়ংকর শূন্যতার জায়গা। তাঁর দাসদাসী সহ সমস্ত রকমের বৈভবের কোনো অভাব নেই, তিনি মন্দিরে এসেছেন, মূর্তির সামনে, দেবী মূর্তির সামনে, এই বিশ্বমাতার সামনে, জগততারিণীর সামনে তিনি প্রার্থনা করছেন, তিনি তাঁর খেদ ব্যক্ত করছেন, আক্ষেপ ব্যক্ত করছেন যে কোনো কিছুর তো অভাব নেই কিন্তু আমার প্রাণের ভেতর থেকে যে প্রাণটি বেরিয়ে আসবে, যাকে আমি নিজে এভাবে সৃষ্টি করব আমার শরীর দিয়ে, এবং যাকে আমি আমার প্রাণের চাইতে বেশি ভালোবাসব, যাকে আমি আমার চাইতে অনেক বেশি প্রায়োরিটাইজ করব, সেই অভাব কেন পূর্ণ করছ না? > > রঘুপতির সেখানে আবির্ভাব ঘটে, এবং রঘুপতি তাকে বলেন যে মায়ের লীলা কেই বা বুঝতে পারে। কিন্তু আমি এবার তোমার জন্য প্রার্থনা করব, আর প্রার্থনা সফল নিশ্চয়ই হবে তোমার গর্ভে সন্তান আসবে। > > একদম সেই সময়ে গুণবতী বলছেন যে, যদি সেটা সফল হয়, যদি আমার সন্তান এই ধরাধামে আসেন, তাহলে আমি পরের বার থেকেই এই এবার থেকেই বাবা বলির পশু আমি দেব, এবং আমি প্রমিজ করছি, কমিট করছি যে একটা বড় সংখ্যা, ছাগল এবং মহিষ আমি দিতে থাকব আরকি প্রতিবার বলির জন্য, মহিষ এবং ছাগল। আমি এই জায়গাটি বলে দিচ্ছি: > > "এ বৎসর পূজার বলির পশু আমি নিজে দিব, করিনু মানত। মা যদি সন্তান দেন বর্ষে বর্ষে দিব তারে একশত মহিষ তিনশত ছাগ।" > > ৩০০ ছাগল এবং ১০০ মহিষ বর্ষে বর্ষে উৎসবের সময় বলির জন্য আমি দেব। সেই রক্তে এই প্রাঙ্গণ ধুয়ে যাবে মায়ের তৃষ্ণা নিবৃত্তির জন্য। > > পরবর্তীতে অপর্ণার কাছ থেকে এই প্রশ্নটাই গুণবতী ফেস করবেন, যে যে মাতৃত্বের জন্য তুমি এইভাবে আকুল হয়ে উঠেছ, তুমি তো প্রচলিত অর্থে একদম সেইভাবে তুমি মা এখনো নও ঠিক আছে, কিন্তু মাতৃত্বের যে বোধটা সেটা তো তোমার মধ্যে ষোলো আনা রয়েছে, তাহলে ওই অবলা পশুগুলোর সন্তানকে কেড়ে নিয়ে তাদের কোল খালি করে তুমি এটা ঠিক কোন খেলায় মেতেছ? এই মাতৃত্বের কোন রূপ দেখাচ্ছ? এবং স্বয়ং বিশ্বমাতাই বা ওই পশুগুলোকে নিয়ে ঠিক কী বা করতে চলেছেন? > > এই প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এবং এখানে যে রঘুপতিকে দেখছি সেই রঘুপতিকে দেখার পরে আপনারা একটুখানি ভেবে দেখুন অপর্ণা সেখানে এসেছেন, কী তার প্রশ্ন? তার ছাগল হারিয়ে গেছে। এবং সেখানে কাকে নিয়ে এসেছেন? স্বয়ং সেই রাজ্যের রাজাকে। > > রাজা নিজে এসেছেন এক অকিঞ্চিৎকর নামগোত্রহীন ভিখারিণী বালিকা, সেই বালিকার ছাগল খুঁজতে। > > রবীন্দ্রনাথের রাজারা তো এরকমই হন। তাদেরকে রাজা বলে চেনাও যায় না। গোবিন্দমাণিক্য তো তাও অনেকটা রাজা। মানে রাজা বলতে যে আমরা বুঝি আরকি। আপনি রাজা নাটকটি যদি পড়েন, তাহলে সেখানে ঠাকুরদার সংলাপই আছে, বা বলতে পারেন মানুষজনের মধ্যে, মানে একদম র‍্যান্ডম লোকজন যারা ভিড়, সেই ভিড়ের সংলাপই আছে যে কেমন রাজা রে বাবা, এ পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও আমি বুঝতে পারব না রাজা হেঁটে গেল। কোনো একটি জনতা, তাদের মধ্যে জনতার কোনো একটি মানুষ তাদের মধ্যে বলছেন রাজা নাটকে যে আমাদের রাজাকে না রাজা বলে মনেই হয় না। তিনি যদি আমাকে ধরে হুকুম করতেন যে এর গলাটা কেটে ফেলো, তাও মরার আগে বুঝতাম যে হ্যাঁ একটা রাজা আছে বটে। এ কেমন রাজা? পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে আমি বুঝতে পারব না যে রাজা গেলেন, কোনো রকম কোনো আড়ম্বর নেই, কোনো জাঁকজমক নেই, কিচ্ছু নেই, কোনো সাইরেন নেই, কোনো কনভয় নেই, কোনো ঘোষণা নেই, কিচ্ছু নেই। এ কেমন রাজা রে বাবা! > > গোবিন্দমাণিক্যও তো তার মধ্যেও অনেকটা পরিমাণে রাজার জাঁকজমকটাকে নিয়ে একজন রাজা বটে। কিন্তু সেই রাজা কেমন? রাজা এক ভিখারিনীর এক ভিখারিনী বালিকার ছাগল খুঁজতে বেরিয়েছেন। এবং সেখান থেকেই গোটা নাটক তৈরি হচ্ছে। > > এই গোটা নাটকের মধ্যে রাজা চাইলেই পারেন রঘুপতিকে এক কোপে উড়িয়ে দিতে। ওরা চেনা রাজা তো। রাজার হাত-পা বাঁধা। > > এই যে এই প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা, এবং সেই ক্ষমতার সঙ্গে সেই ক্ষমতার যারা টুলসগুলো, সেই ক্ষমতার যারা উপকরণগুলো, যে মেকানিজমগুলো আশপাশের, সেই মেকানিজমগুলো কেমন করে সেই ক্ষমতাকে আসলে ঠুঁটো করে রাখছে, সেই ক্ষমতাকে আসলে বিকলাঙ্গ করে রাখছে, সেই ক্ষমতার হাত-পা আসলে বেঁধে রাখছে, এটা এই নাটকের একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। > > ফলে শুধুমাত্র কয়েকটা ছাগল বলি হচ্ছিল, আর সেই বলির রক্ত দেখে একটি মেয়ে ভয় পেল, এবং সেই ভয়ের জায়গা থেকে সেই বলিটাকে বন্ধ করবার জন্য স্বদেশের রাজা উঠে পড়ে লাগলেন, ব্যাপারটা এতটা সরল নয়। এবং যদি এতটা সরলও হতো, তার পরিসরও তো রেখে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। তাহলেও প্রশ্ন থাকে যে, একজন সাধারণ মানুষের সাধারণতম যে ক্রাইসিসটা, সেই ক্রাইসিসটাকে পূরণ করবার জন্য, অ্যাড্রেস করবার জন্যও কি শাসক, কর্তৃপক্ষ, অথরিটি কোথাও দায়বদ্ধ নন? > > যদি এই নাটকের অনেকগুলো লেয়ার, অনেকগুলো স্তরকে আমি সরিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র এই ছোট জায়গাটিকেই অ্যাপ্রোচ করি, যে এখানে একটা ওই বলির রক্ত দেখে একটি মেয়ে ট্রমাটাইজড হয়ে গেছে, অল্পবয়সী বাচ্চা মেয়েটি ট্রমাটাইজড হয়ে গেছে, এবং সেই ট্রমা থেকে তাকে বার করার জন্য সে শরণাপন্ন হয়েছে শাসকের, প্রভুর, এবং প্রভুর দায়িত্ব নয় সে ট্রমা থেকে তাকে বার করা? নাকি সে প্রভু বলবেন যে আমার অনেক কাজ, আমি পারব না। > > নয় সেটাই? হওয়ার তো সেটাই কথা নয়, গণতন্ত্রে সেটা হওয়ার কথা। ফলে রবীন্দ্রনাথের এই রাজা চরিত্রগুলির মধ্য দিয়ে রাজা চরিত্রটির মধ্য দিয়ে আমরা আসলে ডেমোক্র্যাসির একটা অন্য ধরনের রূপ দেখতে পাই। ফলে গোবিন্দমাণিক্য তথা রবীন্দ্রনাথের রাজা ভাবনা বিসর্জন নাটকটিকে কেন্দ্র করে, দ্যাট উইল বি অ্যানাদার টপিক। > > মোটামুটি খান পাঁচেকের টপিক আমি এখনই বলে ফেললাম। খান পাঁচেকের টপিক আপনাদের মধ্যে কেউ না কেউ নিশ্চয়ই জিজ্ঞেস করবেন আরেকবার টপিকগুলো বলুন, আমি এখনই বলে দিচ্ছি। এক নাম্বার হচ্ছে বিসর্জনের নামকরণ। দুই নাম্বার হচ্ছে বিসর্জনের আঙ্গিক বিচার, বা তার সার্থকতা। তিন নাম্বার হচ্ছে রঘুপতি নিজে। চার নাম্বার হচ্ছে গোবিন্দমাণিক্য, রাজা এবং রবীন্দ্রনাথের রাজার কনসেপ্ট। আর পাঁচ নাম্বারটা কি আমি নিজেই ভুলে গেছি। পাঁচ নাম্বারটা খুব সম্ভবত... > > বিসর্জনের আঙ্গিক বিচার... আর কিছু বলেছি? > > রাজর্ষি ও বিসর্জন, রাজর্ষি ও বিসর্জনের তুলনামূলক আলোচনা। > > হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ, রাজর্ষি, রাজর্ষি বিসর্জন, এর তুলনামূলক আলোচনা, স্যাক্রিফাইস, এই। তাহলে এই পাঁচখানা মোটামুটি আমাদের ভাবনা চিন্তার মধ্যে থাকলো, এবং এই পাঁচখানা বিষয়কে দেখতে গিয়ে আমাদেরকে ঘুরিয়ে দেখতে হবে যে দেবতা কনসেপ্টটি, দেবতা ধারণাটি, তাকে আদতে রবীন্দ্রনাথ কিভাবে দেখছেন? > > পৌত্তলিকতা, দেবতার যে পুতুল রূপটি, যে রূপটিকে কেন্দ্র করে দেবতা আমার সামনে মূর্ত হয়ে ওঠেন, আমাদের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠেন, তার একটা শৈল্পিক দিক তো আছেই, অপূর্ব দিক আছে, তার একটা আইকনোগ্রাফিক দিক তো আছে, মূর্তিতত্ত্বের, সেসব দিক আমি ছেড়ে দিচ্ছি। বেশিরভাগ মানুষ তো আর দেবতার পৌত্তলিক রূপটিকে দেখে আর আইকনোগ্রাফি বিচার করতে বসেন না। তাই না? সেটা কজন করতে বসেন, সেটা তো কতিপয় পণ্ডিত মানুষ করতে বসেন, তাদের মাধ্যমে আমরা আলোকিত হই, যারা সে বিষয়ে ইন্টারেস্টেড, কিন্তু বিশাল সংখ্যক মানুষ, তারা কী দেখছেন? তারা তো দেবতাকে সেখানে মূর্ত হতে দেখছেন, যে কারণে যেকোনো কিছুতে দেবতাকে পেলেই তারা প্রণাম করেন। > > তার ফলে এই যে এই এই দেবতা, তার পুতুল রূপটি, তার প্রতি রবীন্দ্রনাথের ভাবনাটা কী? তার প্রতি রবীন্দ্রনাথের অ্যাপ্রোচটা কী? সেই প্রসঙ্গটিও আসবে। > > আমাদের অনেক রকমের পরিচিত সংস্কার ধাক্কা খেতে পারে, বিসর্জনও দিতে হতে পারে। তাহলে ভালো, মানে এই নাটকটি পড়ার কিছু সার্থকতা থাকবে, তার নামকরণকে আলাদা করে আর বুঝতে হবে সমাধানে, এমনিই বুঝে যাব আমরা। > > এই মোটামুটি আজকের জন্য বলার ছিল আমার। আপনাদের যদি কোনো জিজ্ঞাস্য কিছু থাকে আজকের কথাগুলোর প্রেক্ষিতে, তাহলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। > > আমরা পরের দিন থেকে টেক্সটটার মধ্যে ঢুকব। > > আচ্ছা ইংরেজি অনুবাদ যেটা স্যাক্রিফাইস বললেন ওটা রবীন্দ্রনাথেরই অনুবাদ? > > হ্যাঁ হ্যাঁ, রবীন্দ্রনাথেরই অনুবাদ, হ্যাঁ। > > ওটা কোন সময় হয়েছিল একটু পরে নাকি? > > ওইটা একটু পরে হয়েছিল। হ্যাঁ, এক্সাক্টলি ব্যাপারটা আমাকে একটুখানি দেখে বলতে হবে। ওটা আলাদা টপিক আকারেই হবে যেহেতু, ফলে যেমন ধরুন সুরেন্দ্রনাথ, মানে সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর, তিনি নিজেও খুব ভালো ইংরেজি করতেন, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলে, রবীন্দ্রনাথের ভাইপো। তাকে যে এই বিসর্জন যে তিনি যে উৎসর্গ করছেন, আর উৎসর্গ করার জন্য উৎসর্গপত্রের একটা তিন পাতার একটা চমৎকার কবিতা লিখছেন, সেটাও আলাদা করে আমাদেরকে একটুখানি দেখতে হবে। সেই উৎসর্গপত্রটি আমি তো একাধিকবার পড়েছি, কিন্তু সেটাকে নিয়ে আলোচনা করবার জন্য তো আমার প্রস্তুতিটা আজকে আমার নেই, ফলে এরকম এই জিনিসগুলো আমি একটুখানি তৈরি হয়ে নিয়ে এক এক করে আপনাদের এই কেজো তথ্যগুলো বা এর ভেতরেরগুলো আমি বলে দেব। > > হ্যাঁ দাদা, ত্রিপুরা থেকে বলছি। আমি পাঁচ-ছয়দিন আগে ওই মন্দিরে গিয়েছিলাম। > > আচ্ছা আচ্ছা। > > তাছাড়া এখানে বিসর্জনকে অবলম্বন করে রাজর্ষি উৎসব হয়, কারণ ত্রিপুরা ভিত্তিক এই সমস্ত শিল্পীরা আসে এখানে। কেমন? > > আচ্ছা। > > আবার পুজোর বৈশাখে আমি একজন রবীন্দ্র পরিষদের সম্পাদক দীর্ঘ ৩৭ বছর, প্রতি বছরই বেশীরভাগে বিভিন্ন টিম নিয়ে রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর এখানে গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, আলোচনা, বিশাল উৎসব হয়, রাজ্য সরকার সেটা বহন করেন। > > ঠিক ঠিক ঠিক। > > আমি ওই মন্দিরের পুরো দৃশ্যগুলি আমি পাঠাব। > > খুব ভালো হয়, খুব ভালো হয়, একদম অবশ্যই। হ্যাঁ, একটা উপন্যাসের কেন্দ্র করে একটা গোটা উৎসব হওয়া এ মানে পৃথিবীতে তো এরকম ইনস্ট্যান্স খুব বিরল। কাজেই অবশ্যই পাঠাবেন। অবশ্যই। > > আচ্ছা দাদা, ওই পাঁচ-ছদিন আগে সুমিতাদিও গিয়েছিলেন ছদিন হলো। > > আচ্ছা, হ্যাঁ সুমিতাদিকে নিয়েও গিয়েছিলেন, ছয়দিন হলো। আচ্ছা। > > হ্যাঁ এক এক করে যদি বলেন একটু। > > হ্যাঁ, সুমিতাদিকেও নিয়ে গিয়েছিলাম, ছয়দিন হলো। > > বিসর্জনের এই যে কল্পিত যে মন্দিরটা, মন্দিরটি ত্রিপুরার... > > হ্যাঁ, একটা প্রশ্ন ছিল। > > হ্যাঁ বলুন। > > বলছি এই যে ফরম্যাটটা, যেটা কাব্যনাট্য বললেন, এই ফরম্যাটে এই কাব্যনাট্য এটা কি রবীন্দ্রনাথই প্রথম লিখেছিলেন না তার আগেও কেউ লিখেছিলেন? > > না না, তার আগেও লেখা হয়েছিল, এই প্রসঙ্গে আমি বিস্তারিত আলোচনা করে নেব। তার আগেও লেখা হয়েছিল। > > স্যার, এটা কি নাট্যকাব্য নাকি কাব্যনাট্য, কোন আঙ্গিকে ফেলা যাবে? > > সেটা সেটা যখন আলোচনা হবে তখন আমরাই আপনারাই বিচার করে নেবেন, আমি বলে দেব। দুটোর ডেফিনেশনটা অবশ্যই আমরা পেয়ে যাব নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই। > > স্যার, মিতালী ত্রিপাঠী বলছি। শুনতে পাচ্ছেন? > > হ্যাঁ শুনতে পাচ্ছি বলুন। > > স্যার আমার একটা কোশ্চেন আছে, সেটা হচ্ছে যে শান্তিনিকেতনে মানে খুব কম লোকই আছে যারা কঙ্কালীতলায় যায়নি। কঙ্কালীতলা বলে একটা... ঠিক আছে, ওখানে স্যার আমি এই আমি একটু নাটক-টাতক করি আর আমার একটু ইন্টারেস্ট আছে এইসব ব্যাপারে, তখন আমি একদম আধুনিক কালের একটি মেয়ে ভর্তি হয়েছে তাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম যে তোমরা এরকম বলি দিচ্ছ কেন কিসের জন্য? তখন বলছে আমি যে বিশ্বভারতীতে বাংলা ডিপার্টমেন্টে চান্স পেয়েছি সেই জন্য। > > আরে বাপরে, এই কারণে বলি? আচ্ছা আচ্ছা হ্যাঁ। > > এই কারণে বলিটা চাইছে। স্যার আমি অনেকদিনই মানে এইসব জেনে-টেনে বই-টই পড়ে আমি কখনোই মাংস খাই না, যেকোনো মাংসই আমি খাই না, কিন্তু স্যার এখন দেখুন যে তাদের মানে মানসিকতা কী যে সে বিশ্বভারতীতে চান্স পেয়েছে বলে সে একটা পশুকে এখানে বলি দিচ্ছে। > > না না, মানসিকতাটাকে জাজ করবার আমরা কোনো জায়গায় নেই, বিশেষ করে এই আশ্বিন মাসে যেখানে শাক্ত রীতিতে কদিন বাদেই পুজো শুরু হবে আর কোনো বলির খাঁড়া-টাড়া আমাদের ওপরেই না পড়ে। তার ফলে ওসব নিয়ে আমরা জাজ করছি না, মানে তিনি তার মতো করে ভাবতেই পারেন যে আমি এই চান্সটা পেয়েছি বলে আমি বলি দিচ্ছি। কিন্তু সেই প্রশ্নটাই তো আসছে যে তার জন্য আর একটা বলি দেবার কতখানি যুক্তি আছে, আর আমার কাছে বরং আপনি আমাকে একটা চমৎকার কথা বললেন, এটা একটা আহ্লাদের মতো বিষয় আরকি। বাংলা বিভাগে চান্স পেয়ে কেউ যে বলি দিতে যেতে পারেন এটা আমার কাছে খুব আহ্লাদের বিষয় মনে হচ্ছে আরকি, আমি কতটা উত্তেজিত হব আমি এটাই ভাবছি। যাই হোক, ঠিক আছে ভালো। > > আর স্যার কাব্যনাট্য আর নাট্যকাব্যর মধ্যে তফাৎটা কি? > > ওটা ওটা যখন আমরা আলোচনা করব বলে দেব, কোনো অসুবিধা নেই, বিস্তারিতভাবেই বলে দেব। > > আচ্ছা, ধন্যবাদ স্যার, প্রণাম নেবেন, ওকে। > > হ্যাঁ, ট্রমা তত্ত্বের কথা কেউ বলেছেন, হ্যাঁ অফকোর্স যায়, অবশ্যই যায়। দেশভাগের একটা আখ্যানকে পড়বার সময় আপনার ডেফিনেটলি ট্রমা থিওরিটা ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, ডেফিনেটলি। এটা মূল ক্রাইসিসের জায়গাটা ট্রমা। অবশ্যই। একজন প্রশ্ন করেছেন ইনবক্সে দেখলাম। > > আচ্ছা আর তো কারো কোনো প্রশ্ন নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে নেই। আচ্ছা হ্যাঁ, টপিকগুলোর কথা বলেছেন, টপিকগুলো আরেকবার বলে দিচ্ছি, এক নাম্বার হচ্ছে এই বিসর্জন নাটকটির সঙ্গে রাজর্ষি, তার যে প্রাথমিক রূপ, রাজর্ষি উপন্যাসটির একটি তুলনামূলক আলোচনা, যেখানে স্যাক্রিফাইসের প্রসঙ্গ আসবে। দু নাম্বার হচ্ছে বিসর্জনের আঙ্গিক বিচার, বা তার সার্থকতা। তিন নাম্বার হচ্ছে রঘুপতি নিজে। চার নাম্বার হচ্ছে গোবিন্দমাণিক্য, রাজা এবং রবীন্দ্রনাথের রাজার কনসেপ্ট। আর পাঁচ নাম্বারটা কি আমি নিজেই ভুলে গেছি, পাঁচ নাম্বারটা খুব সম্ভবত... বিসর্জনের আঙ্গিক বিচার... আর কিছু বলেছি? > > রাজর্ষি ও বিসর্জনের তুলনামূলক আলোচনা। > > হ্যাঁ, রাজর্ষি, রাজর্ষি বিসর্জন এর তুলনামূলক আলোচনা, স্যাক্রিফাইস, এই। তাহলে এই পাঁচখানা মোটামুটি আমাদের ভাবনা চিন্তার মধ্যে থাকলো, এবং এই পাঁচখানা বিষয়কে দেখতে গিয়ে আমাদেরকে ঘুরিয়ে দেখতে হবে যে দেবতা কনসেপ্টটি, দেবতা ধারণাটি, তাকে আদতে রবীন্দ্রনাথ কিভাবে দেখছেন? > > বেশ, তাহলে আজকের মতো এখানেই শেষ করি আমরা। আজকের মতো ক্লাস এখানেই শেষ করলাম। ঠিক আছে, পরের দিন ১০ তারিখ দেখা হবে তাহলে। থ্যাংক ইউ। > > হ্যাঁ, থ্যাংক ইউ স্যার। সমবেদনাটা জরুরি। ## সারাংশ - মূল বক্তব্য ইত্যাদি > [!more]- শর্ট ইন্ট্রো > অধ্যাপক অভিষেক ঘোষালের এই ক্লাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিসর্জন' নাটকের পরিচিতি এবং এই নাটকটি পড়ার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। 'রাজর্ষি' উপন্যাস থেকে 'বিসর্জন' নাটকে রূপান্তরের প্রেক্ষাপট, বলির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা বনাম মানবিক দ্বন্দ্ব, নাট্যকাব্য/কাব্যনাট্য হিসেবে এর আঙ্গিক এবং রঘুপতি ও গোবিন্দমাণিক্য চরিত্রের অন্তর্নিহিত সংঘাত নিয়ে এই কোর্সে কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে, তা বিশদে তুলে ধরা হয়েছে। > [!more]- কী পয়েন্টস > > > [!more]- পয়েন্ট ১ — রাজর্ষি ও বিসর্জনের তুলনামূলক আলোচনা > > 'বিসর্জন' নাটকের আদি রূপ হলো 'রাজর্ষি' উপন্যাস। উপন্যাস থেকে কীভাবে নাটকে এই কাহিনীটি গৃহীত ও রূপান্তরিত হয়েছে এবং এর ইংরেজি অনুবাদ 'Sacrifice'-এর তুলনামূলক বিচার এই কোর্সের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। > > > [!more]- পয়েন্ট ২ — আঙ্গিক বিচার: নাট্যকাব্য না কাব্যনাট্য? > > বিসর্জনের সংলাপে গদ্য, ছন্দোবদ্ধ পদ্য এবং গানের মিশ্রণ রয়েছে। এই বিচিত্র ফর্ম বা প্রকরণের কারণে এটিকে নাট্যকাব্য বা কাব্যনাট্য বলা হয় কি না এবং সেই আঙ্গিকের বিচারে নাটকটির সার্থকতা কতটা, তা বিশদে বিশ্লেষিত হবে। > > > [!more]- পয়েন্ট ৩ — রঘুপতি চরিত্র বিচার > > প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা এবং ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিভূ হিসেবে রঘুপতি এই নাটকের অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র। বলির শাস্ত্রীয় প্রথার রক্ষক হিসেবে তার অবস্থান এবং নাটকের দ্বন্দ্বে তার ভূমিকা গভীরভাবে আলোচিত হবে। > > > [!more]- পয়েন্ট ৪ — গোবিন্দমাণিক্য ও রবীন্দ্র-রাজভাবনা > > রবীন্দ্রনাথের রাজা চরিত্রেরা সচরাচর জাঁকজমকপূর্ণ হন না। একজন ভিখারিণী বালিকার ক্রাইসিস মেটাতে স্বয়ং রাজার এগিয়ে আসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার কাছে রাজার অসহায়তা—এর মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের গণতন্ত্র ও শাসক-ভাবনার নতুন রূপ উঠে আসে। > > > [!more]- পয়েন্ট ৫ — বিসর্জনের নামকরণ ও দেবতার পৌত্তলিক রূপ > > বিসর্জন নামের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য এবং দেবতার পুতুল রূপ বা পৌত্তলিকতার প্রতি রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গি। বলির ভয়াবহতা ও মানবিক সংশয়ের জায়গা থেকে ধর্মকে কীভাবে দেখা হয়েছে, তা এই নাটকের গুরুত্বপূর্ণ দিক। > [!more]- পরিভাষা / শব্দ / কী-টার্মস > > | পরিভাষা / শব্দ | অর্থ ও প্রেক্ষাপট | > | :--- | :--- | > | নাট্যকাব্য / কাব্যনাট্য | নাটকের এমন একটি আঙ্গিক যেখানে সাধারণ গদ্য সংলাপের পাশাপাশি ছন্দোবদ্ধ ভাষা, পদ্য এবং সঙ্গীতের ব্যবহার থাকে। | > | বলি প্রথা | শাক্ত রীতি অনুযায়ী দেবীর সামনে পশুকে আহুতি দেওয়ার প্রথা, যার শাস্ত্রীয় ব্যাখায় প্রিয় বস্তু সমর্পণ বা অহংকার ত্যাগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা মর্মান্তিক নিষ্ঠুরতা হিসেবেই অনেক সময় দেখা দেয়। | > | গ্রন্থপরিচয় | বিশ্বভারতী প্রকাশিত রবীন্দ্র রচনাবলীর শেষে সংযুক্ত অংশ, যেখানে কানাই সামন্ত বা পুলিনবিহারী সেনের মতো সংকলকেরা গ্রন্থটির প্রকাশনা ও পাঠান্তরের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন। | > [!more]- কালপঞ্জি (Timeline) > - **১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ (১২৯৭ বঙ্গাব্দ):** 'বিসর্জন' নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয়। > - **১৩০৩ বঙ্গাব্দ:** নাটকটি 'কাব্যগ্রন্থাবলী'তে অন্তর্ভুক্ত হয়। > - **১৩৩৩ বঙ্গাব্দ:** বিশ্বভারতী কর্তৃক 'বিসর্জন' নাটকের তৃতীয় ও মান্য সংস্করণ প্রকাশিত হয়। > - **২০২৬ জুন:** বিশ্বভারতী কর্তৃক বিসর্জনের সাম্প্রতিক পুনর্মুদ্রণ। > [!more]- উল্লিখিত বই ও অন্যান্য রিসোর্সেস > - বিসর্জন (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) > - রাজর্ষি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) > - Sacrifice (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) > - রাশিয়ার চিঠি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) > - সাহিত্যের পথে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) > - জীবনস্মৃতি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) > - মেঘনাদবধ কাব্য (মাইকেল মধুসূদন দত্ত) > - রাজা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) > [!more]- রিলেটেড রিসোর্সেস > - রবীন্দ্র রচনাবলীর বিশ্বভারতী সংস্করণ ও গ্রন্থপরিচয়। > - অঞ্জন দত্ত নির্দেশিত 'রঘুপতি' নাট্য-অ্যাডাপ্টেশন। > - ট্রমা থিওরি (Trauma Theory) ও সাহিত্য সমালোচনা। ## ভাববার বিষয় > [!more]- **সংক্ষিপ্ত:** > > - রঘুপতির মতো একজন প্রতাপশালী চরিত্রকে রবীন্দ্রনাথ কেন এই নাটকে এত শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলেছেন? > > - বলির প্রথাকে কেন্দ্র করে যে ট্রমা বা মানসিক আঘাত তৈরি হয়, তাকে রবীন্দ্রনাথ কীভাবে তৎকালীন শাসনব্যবস্থা বা রাজার দায়িত্বের সঙ্গে মিলিয়েছেন? > > > [!more]- **বড়সড়** > > - 'রাজর্ষি' উপন্যাস থেকে 'বিসর্জন' নাটকে রূপান্তরের সময় রবীন্দ্র-ভাবনায় কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় এবং এর ইংরেজি অনুবাদ 'Sacrifice' সেই বিবর্তনে কীভাবে সাহায্য করে? > > - রবীন্দ্রনাথের 'রাজা' নাটকের রাজার সাথে 'বিসর্জন' নাটকের গোবিন্দমাণিক্যের রাজধর্মের কী ধরনের সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়? > > > [!more]- ক্যুইজ > > - 'বিসর্জন' নাটকটির গ্রন্থপরিচয় মূলত কারা সংকলন করে দিয়েছেন? > > (উত্তর: কানাই সামন্ত এবং পুলিনবিহারী সেন) > > - বিসর্জন নাটকের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী? > > (উত্তর: Sacrifice) > > > [!more]- ওয়ার্কশীট > > > > - **কাজ ১:** 'নাট্যকাব্য' ও 'কাব্যনাট্য'-এর মধ্যে মূল পার্থক্যগুলি কী কী, তা সংক্ষেপে লিখে একটি তালিকা তৈরি করুন। > > - **কাজ ২:** জীবনস্মৃতিতে উল্লিখিত সেই স্বপ্নটির কথা লিখুন যা থেকে রবীন্দ্রনাথের মনে 'রাজর্ষি' উপন্যাস লেখার প্রেরণা আসে।