<!-- সম্পাদনার নির্দেশ — প্রকাশিত লেখায় এই মন্তব্য দেখা যাবে না। ১. date-এ ক্লাসের তারিখ YYYY-MM-DD আকারে এবং lesson-এ "01" বা "00A"-এর মতো পাঠ নম্বর দিন। ২. presenter-এ ব্যক্তির note-এর wikilink দিন। work, topic, paper_half ও সম্পর্কিত notes পূরণ করুন। ৩. session_type ও source ঐচ্ছিক। স্বাগত ভাষণের ক্ষেত্রে session_type: welcome-address এবং tags-এ faq যোগ করতে পারেন। ৪. title-এর template variable নতুন note-এ Templates: Insert template চালানোর সময় পূরণ হবে। নিচের পরিচিতি Properties থেকে নিজে পূরণ হবোলি করুন। ৫. FILE_ID-এর জায়গায় Google Drive অডিওর সম্পূর্ণ ID বসান। অডিও না থাকলে iframe বাদ দিন। ৬. প্রতিটি callout-এর সব লাইন, ফাঁকা লাইন ও টেবিলের separator-সহ, > দিয়ে শুরু হবে। ভিতরের callout-এ > > এবং তার ভিতরের callout-এ > > > থাকবে। ৭. মূল ক্লাস বিভাগটি শুরুতে খোলা থাকবে; অন্য বিভাগগুলি বন্ধ থাকবে। কী পয়েন্টস-এর চারটি উপবিভাগের শিরোনাম বিষয় অনুযায়ী বদলান। ৮. সম্পাদনা শেষ হলে status: active করুন, সূচি আপডেটের macro চালান এবং Publish changes দিন। ৯. ফীডব্যাক ফর্মের প্রকৃত লিংক বা সরবরাহকৃত iframe embed code শেষ বিভাগে বসান। iframe-এর প্রতিটি লাইনের আগে > রাখুন। ১০. লেখার মধ্যে আলাদা title-variable শিরোনাম নেই; note-এর নিজস্ব শিরোনাম ব্যবহার করুন। --> > [!info] ক্লাস ডিটেইলস > **তারিখ:** ২রা অক্টোবর ২০২৬ > **উপস্থাপক:** [[অভ্র বসু]] > **পত্র-অর্ধ:** 0102 প্রথম পত্র - দ্বিতীয়ার্ধ > **আলোচ্য রচনা:** জীবনস্মৃতি, প্রভাতসংগীত, মানুষের ধর্ম, ভানুসিংহের পদাবলী > **পাঠ্যবস্তু:** সদর স্ট্রিটের অভিজ্ঞতা, রবীন্দ্র বিবাহ ও কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুপ্রসঙ্গ ## মূল ক্লাস ### 🎧 অডিও <div class="gdrive-audio"> <iframe src="https://drive.google.com/file/d/FILE_ID/preview" title="এই ক্লাসের অডিও (TRI 02OCT2026 Abhro Basu.m4a)" width="100%" height="110" allow="autoplay" loading="lazy"> </iframe> </div> ### ট্রানস্ক্রিপশন আচ্ছা ছটা বাজে, আমি আর পাঁচ মিনিট পরে ক্লাস শুরু করছি, হ্যাঁ?[cite: 1] আচ্ছা ক্লাস কি এখনও শুরু হয়নি? আমি কোনো শব্দ পাচ্ছি না।[cite: 1] শব্দ তো আমরাও পাচ্ছি না।[cite: 1] না, না শুরু হয়নি। অভ্রদা পাঁচ মিনিট বাদে জয়েন করছেন।[cite: 1] আচ্ছা, ধন্যবাদ।[cite: 1] শোনা যাচ্ছে আমার কথা?[cite: 1] হ্যাঁ দাদা।[cite: 1] সরি, আমার একটু দেরি হলো।[cite: 1] > [!more]- সম্পূর্ণ ট্রানস্ক্রিপশন > আচ্ছা, আমরা রবীন্দ্র জীবনীর আলোচনা করছিলাম এবং আমরা আগের দিন যেখানে এসে থেমেছি সেইখানে আমরা রবীন্দ্রনাথের জীবনের একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে এসে পৌঁছেছিলাম। সেটা হলো সদর স্ট্রিটের বাড়ির সেই সূর্যোদয়।[cite: 1] > > রবীন্দ্র জীবনী আর রবীন্দ্রনাথের আত্মজীবনী—এর মধ্যে একটা বড় তফাতের জায়গাটা এই এখানে।[cite: 1] > > কেননা এই যে সদর স্ট্রিটের বাড়ি, যে বাড়িতে সত্যেন্দ্রনাথ থাকতেন, সে বাড়িতে থাকাকালীন রবীন্দ্রনাথ যে সূর্যোদয় দেখছেন, তার যে ইম্প্যাক্ট পড়ছে তার সারা জীবনে সমস্ত কিছুর ওপর, এই কথাটা কিন্তু রবীন্দ্রনাথ না বললে আমরা এভাবে জানতে পারতাম না।[cite: 1] > > ওই যে,[cite: 1] > "আজি এ প্রভাতে রবির কর[cite: 1] > কেমনে পশিল প্রাণের পর"[cite: 1] > > এটা নিশ্চয়ই আমরা একটা কবিতা হিসেবে ভালোবেসেই পড়তাম। কবিতা হিসেবে এটা একদিক থেকে রবীন্দ্রনাথের কবি জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এই প্রথম রবীন্দ্রনাথের ভাবনার মধ্যে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে।[cite: 1] > > এই জাতীয় একটা অভিজ্ঞতা—এ তো একটা অভিজ্ঞতা মাত্র নয়, এ তো জাস্ট রোজকার সকালের একটা সূর্যোদয় নয়। এর মধ্যে একটা ভেতরকার মানুষটার জেগে ওঠবার একটা ঘটনা। মানে রবীন্দ্রনাথ যেটাকে তাঁর জীবনের একটা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিষ্ক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করবেন।[cite: 1] > > আমরা যদি মনে রাখি যে—[cite: 1] > > কেউ কিছু বলছেন নিশ্চয়ই?[cite: 1] > > সুপ্রিয়া, আপনার...[cite: 1] > > আচ্ছা।[cite: 1] > > আমরা যদি রবীন্দ্রনাথের সমস্ত জীবনের দেখি, তাহলে দেখব যে এটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যেটার কথা রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন নানাভাবে তাঁর নানা লেখায় উল্লেখ করবেন। এবং সেই উল্লেখগুলো কেবল জীবনস্মৃতিতে জীবনের একেবারে শুরুতে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা মাত্র নয়। এটাকে রবীন্দ্রনাথ আরও অনেক অনেক অনেক বড় তাৎপর্যে তাঁর সারা জীবন ধরেই দেখবেন।[cite: 1] > > জীবনস্মৃতির কথাই যদি মনে রাখি, তাহলে দেখতে পাব যে রবীন্দ্রনাথ এই সময়টায় একটা অন্ধকার এবং আলোর দোলাচলতার কথা বলছেন। এবং এটা রবীন্দ্রনাথের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘটনা।[cite: 1] > > এই যে গুহার আঁধারে সূর্যের কিরণ গিয়ে পৌঁছচ্ছে, এইটা যে শুধু বাইরের গুহা মাত্র নয়, এর মধ্যে যে কোথাও রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিসত্তা এবং সেই ব্যক্তিসত্তার অন্তর্নিহিত যে রুদ্ধ কন্দর তার অনুষঙ্গ যে আছে, সেটা তো আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না।[cite: 1] > > ফলে এই রবির কর এটা গুহার আঁধারে প্রবেশ করে বটে, কিন্তু তার আগেই যে কথাটা রবীন্দ্রনাথ বলেছেন সেটা হলো যে,[cite: 1] > "আজি এ প্রভাতে রবির কর[cite: 1] > কেমনে পশিল প্রাণের পর"[cite: 1] > > এই প্রাণ শব্দটা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এটার মধ্যে কোথাও নিজের ব্যক্তি অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে। এবং প্রকাশ পাচ্ছে বলেই তাঁর জীবনটা হঠাৎ একটা অন্যরকমের মাত্রা নিচ্ছে।[cite: 1] > > বলছেন রবীন্দ্রনাথ,[cite: 1] > "একদিন জোড়াসাঁকোর বাড়ির ছাদের উপর অপরাহ্ণের শেষ শেষে বেড়াইতেছিলাম। দিবাবসানের ম্লানি মার উপর সূর্যাস্তের আভাটি জড়িত হইয়া সেদিনকার আসন্ন সন্ধ্যা আমার কাছে বিশেষভাবে মনোহর হইয়া প্রকাশ পাইয়াছিল। পাশের বাড়ির দেয়ালগুলো পর্যন্ত আমার কাছে সুন্দর হইয়া উঠিয়াছিল। আমি মনে মনে ভাবিতে লাগলাম পরিচিত জগতের উপর হইতে এই তুচ্ছতার আবরণ ঘুচিয়া গেল।[cite: 1] > > তুচ্ছতার আবরণ ঘুচিয়া গেল বলিয়া কেবল মাত্র সায়াহ্নের আলোকসম্পাতের একটা জাদু মাত্র, কখনই তাহা নহে। আমি বেশ দেখিতে পাইলাম ইহার আসল কারণটি এই যে, সন্ধ্যা আমারই মধ্যে আসিয়াছে, আমি ঢাকা পড়িয়াছি। দিনের আলোতে আমি যখন অত্যন্ত উগ্র হইয়াছিলাম তখন যাহাকিছুকেই দেখিতে শুনিতেছিলাম সমস্তকে আমি জড়িত করিয়া আবৃত করিয়াছি। এখন সেই আমি সরিয়া আসিয়াছে বলিয়াই জগৎকে তাহার নিজের স্বরূপে দেখিতেছি। সে স্বরূপ কখনই তুচ্ছ নহে, তাহা আনন্দময় সুন্দর।[cite: 1] > > তারপর আমি নিজেকে যেন সরাইয়া ফেলিয়া জগৎকে দর্শকের মতন দেখিতে চেষ্টা করিতাম, তখন মনটা খুশি হইয়া উঠিত। আমার মনে আছে জগৎটাকে কেমন করিয়া দেখিলে যে ঠিকমতো দেখা যায় এবং সেই সঙ্গে নিজের ভার লাঘব হয়, সেই কথা একদিন বাড়ির কোনো আত্মীয়কে বুঝাইবার চেষ্টা করিয়াছিলাম, কিছুমাত্র কৃতকার্য হই নাই তাহা জানি।[cite: 1] > > এমন সময় আমার জীবনের একটা অভিজ্ঞতা লাভ করিলাম, তাহা আজ পর্যন্ত ভুলিতে পারি নাই। সদর স্ট্রিটের রাস্তাটা যেখানে গিয়া শেষ হইয়াছে সেইখানে বোধকরি ফ্রি স্কুলের বাগানের গাছ দেখা যায়। একদিন সকালে বারান্দায় দাঁড়াইয়া আমি সেই দিকে চাহিলাম। তখন সেই গাছগুলির পল্লবান্তরাল হইতে সূর্যোদয় হইতেছিল। চাহিয়া থাকিতে থাকিতে হঠাৎ এক মুহূর্তের মধ্যে আমার চোখের উপর হইতে যেন একটা পর্দা সরিয়া গেল। দেখিলাম একটি অপরূপ মহিমায় বিশ্বসংসার সমাচ্ছন্ন, আনন্দে এবং সৌন্দর্যে সর্বত্রই তরঙ্গিত। আমার হৃদয়ের স্তরে স্তরে যে একটা বিষাদের আচ্ছাদন ছিল তাহা এক নিমেষেই ভেদ করিয়া আমার সমস্ত ভিতরটাতে বিকীর্ণ হইয়া পড়িল। সেইদিনই 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটি নির্ঝরের মতোই যেন উৎসারিত হইয়া বহিয়া চলিল। লেখা শেষ হইয়া গেল, কিন্তু আমার জগতের সেই আনন্দ রূপের উপর তখনও যবনিকা পড়িল না।"[cite: 1] > > এবং কি হচ্ছে তাতে? না, সমস্ত কিছুই রবীন্দ্রনাথের আশ্চর্য মনে হচ্ছে। একটা লোক ছিল, সে মাঝে মাঝে এই প্রকারের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিত, "আচ্ছা মশায়, আপনি কি ঈশ্বরকে কখনো স্বচক্ষে দেখিয়াছেন?" আমাকে স্বীকার করিতেই হইত দেখি নাই। তখন সে বলিত, "আমি দেখিয়াছি।" যদি জিজ্ঞাসা করিতাম কি রূপ দেখিয়াছ, সে উত্তর করিত, "সকলের সম্মুখে বিজবিজ করিতে থাকেন।"[cite: 1] > > এরূপ মানুষের সঙ্গে তত্ত্বালোচনায় কালযাপন সকল সময় প্রীতিকর হইতে পারে না। বিশেষত তখন আমি প্রায় লেখার ঝোঁকেই থাকিতাম। কিন্তু লোকটা ভালো মানুষ, বাধা দিতেন না। এখন এই লোকটাও যখন রবীন্দ্রনাথের কাছে আসছেন এই আনন্দময় মুহূর্তে, তখন একেও রবীন্দ্রনাথ অভ্যর্থনা করছেন। মনে করছেন যে তাঁর সঙ্গে তাঁর কোনো অনৈক্য নেই, যেন একটা আত্মীয়তা আছে।[cite: 1] > > রবীন্দ্রনাথের মনে হচ্ছে যে তাঁর মধ্যেকার একটা মিথ্যার যে এতদিন এই সম্বন্ধে নিজেকে বারবার যে কষ্ট দিয়াছি, জীবনস্মৃতিতে বলছেন, তাহা অলীক এবং অনাবশ্যক। যাই দেখছেন, তাঁর ভালো লাগছে তখন।[cite: 1] > > এখন এই এক্সপিরিয়েন্সটা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। রবীন্দ্রনাথ দার্জিলিং গেলেন। সেখানে সূর্যোদয় দেখবেন, পাহাড় দেখবেন, কিন্তু সেইগুলোর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ সেই মুক্তিটা পেলেন না।[cite: 1] > > এখন এই রবীন্দ্রনাথের এই যে একবার খুলে যাওয়া, একবার বন্ধ হয়ে যাওয়া, এই বিষয়টা নিশ্চয়ই জীবনস্মৃতি যখন আপনারা পড়বেন তখন বিস্তারে আলোচনা হবে। আমি এখানে আর কালক্ষেপ করছি না।[cite: 1] > > দুটো জিনিস এখানে মনে করিয়ে দিই। একটা হলো এই যে সদর স্ট্রিটের বাড়ির এই যে সূর্যোদয়, যেটা রবীন্দ্রনাথের জীবনে প্রায় একটা এপিফ্যানির মতন, এইটার কথা রবীন্দ্রনাথ না বললে আমাদের জানবার উপায় ছিল না। এটা কবির ভেতরকার ইতিহাস। এটা জীবনীকার রবীন্দ্রনাথের সাক্ষ্য না পেলে কখনো বর্ণনা করতে পারতেন না।[cite: 1] > > দ্বিতীয় কথাটা যেটা, সেটা হলো যে এই সমস্ত কিছুর মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রনাথের যে আনন্দ প্রকাশিত হচ্ছে, সেই আনন্দটা কে রবীন্দ্রনাথ এই সময় একভাবে ব্যাখ্যা করছেন, কিন্তু উত্তর জীবনে তাকে সম্পূর্ণ ভিন্নতর একটা ব্যাখ্যায় দেখবেন।[cite: 1] > > আমরা খেয়াল করব এর আগের কাব্যগ্রন্থের নাম 'সন্ধ্যাসঙ্গীত'। এই কাব্যগ্রন্থের নাম যেখানে 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' স্থান পাবে সেটা 'प्रभातসঙ্গীত'। মোহিতচন্দ্র সেনের যে গ্রন্থাবলী, রবীন্দ্র গ্রন্থাবলী, তাতে তিনি নানা রকম নাম দিচ্ছেন তাঁর অংশগুলিকে। 'प्रभातসঙ্গীত' অংশের নাম দিয়েছিলেন 'নিষ্ক্রমণ'। এবং রবীন্দ্রনাথ বলছেন তাহা হৃদয় অরণ্য হইতে বাহিরের বিশ্বে প্রথম আগমনের বার্তা।[cite: 1] > > তারপরে সুখে দুঃখ, সুখ-দুঃখ, আলোক-অন্ধকারে সংসার পথের যাত্রী হৃদয়টার সঙ্গে একে একে খণ্ডে খণ্ডে নানা সুরে ও নানা ছন্দে বিচিত্রভাবে বিশ্বের মিলন ঘটিয়াছে। নানা বাঁধনের ঘাটের ভিতর দিয়া পরিচয়ের ধারা বহিয়া চলিতে চলিতে নিশ্চয় আরেকদিন আবার একবার অসীম ব্যাপ্তির মধ্যে গিয়া পৌঁছিবে। কিন্তু সেই ব্যাপ্তি অনির্দিষ্ট আভাষের ব্যাপ্তি নহে, তাহা পরিপূর্ণ সত্যের পরিব্যাপ্তি।[cite: 1] > > প্রকৃতির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগ এই সময় একটা বিশেষ মাত্রা পাচ্ছে। বলছেন যে প্রকৃতির সঙ্গে সহজ মিলন বিচ্ছেদের জীবনের প্রথম অধ্যায়ের পালা শেষ হইয়া গেল। শেষ বলিয়া, শেষ হইয়া গেল বলিলে মিথ্যে বলা হয়। এই পালাটাই আবার আরেকটু বিচিত্র হইয়া শুরু হইয়া আবার আরও সতর্কতা দুরূহতর সমস্যার ভিতর দিয়া বৃহত্তর পরিণামের দিকে চলিল।[cite: 1] > > এখন 'সন্ধ্যাসঙ্গীত', 'प्रभातসঙ্গীত'-এর কবিতার বিস্তারিত আলোচনায় আমি এখানে যাচ্ছি না। কিন্তু এই যে সদর স্ট্রিটের ঘটনাটা রবীন্দ্রনাথের জীবনে ঘটছে, এটাকে যদি আমরা শুধু রবীন্দ্রনাথের জীবনের প্রকৃতির সঙ্গে বোঝাপড়ার একটা আনন্দময় অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখি, তাহলে সম্পূর্ণ করে দেখা হয় না। রবীন্দ্রনাথ নিজে এই ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি তাৎপর্যে প্রকাশ করছেন তাঁর উত্তর জীবনের কিছু লেখায়।[cite: 1] > > যেখানে রবীন্দ্রনাথ বলছেন যে এই যে প্রভাত সঙ্গীতের, সদর স্ট্রিটের বাড়িতে নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গের এই যে অভিজ্ঞতা, এই অভিজ্ঞতাটা শুধু প্রকৃতি দর্শন নয়, এই অভিজ্ঞতাটা শুধু তাঁর বিশ্বকে হঠাৎ ভীষণ করে ভালো লাগা মাত্র নয়। এই অভিজ্ঞতাটাকে রবীন্দ্রনাথ বলবেন যে এটি তাঁর জীবনের প্রথম রিলিজিয়াস এক্সপিরিয়েন্স।[cite: 1] > > রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অনেক পরে যে অ্যাকসেপ্টেন্স স্পিচ দিয়েছিলেন তাতে, কিংবা তার চেয়েও বেশি করে 'The Religion of Man'-এ 'The Vision' বলে যে রচনাটি আছে, তাতে এই ঘটনাটাকে তিনি বলেছেন রিলিজিয়াস এক্সপিরিয়েন্স। কিন্তু "after four days the vision passed away."[cite: 1] > > ঠিক এক কথা বাংলায় 'মানুষের ধর্ম' বইটার শেষেও বলছেন যে এই প্রথম এই অবস্থায় চার দিন ছিলুম। অভিজ্ঞতা যাকে আধ্যাত্মিক নামও দেওয়া যেতে পারে।[cite: 1] > > আমরা জানি যে এর আগে রবীন্দ্রনাথের যখন পৈতে হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ সেই গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চারণ করছেন, তাঁর একটা অদ্ভুত ভেতরে ফিলিং হচ্ছে, চোখ দিয়ে জল পড়ছে—সব ঠিক। কিন্তু সেটাকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের প্রথম আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা বলেননি।[cite: 1] > > এই ঘটনাটাকে 'মানব সত্য' প্রবন্ধে—'মানব সত্য' বলে একটা ছোট কিন্তু চমৎকার প্রবন্ধ আছে—তাতে বলছেন, এই আমার জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা যাকে আধ্যাত্মিক নামও দেওয়া যেতে পারে। এবং এই আধ্যাত্মিকতার স্বরূপ বর্ণনা করে রবীন্দ্রনাথ বলছেন যে এই যে ডাক পড়ল, সূর্যের আলোতে জেগে মন ব্যাকুল হয়ে উঠল, এ আহ্বান কোথা থেকে? এর আকর্ষণ মহাসমুদ্রের দিকে, বেরিয়ে পড়ার দিকে, নিষ্ক্রমণ। এই মহাসমুদ্রকে এখন নাম দিয়েছি মহামানব। এখন মানে ১৯৩৩ সালে 'মানুষের ধর্ম' বইটা বেরোচ্ছে, 'মানব সত্য' প্রবন্ধ সেই সময়কার। ফলে যখন ১৮৮২ সালে এই অভিজ্ঞতা রবীন্দ্রনাথের হয়েছে, তখন এটাকে মহামানব নাম দেননি। কিন্তু ৫০ বছর পরে এই অভিজ্ঞতাটার মধ্যে দিয়ে তিনি যাকে উপলব্ধি করছেন, তাকে নাম দিচ্ছেন মহামানব।[cite: 1] > > এখন এই যে অভিজ্ঞতাটা রবীন্দ্রনাথের, এই অভিজ্ঞতাটা কিন্তু আবারও মনে করিয়ে দিই, আমরা জানি। কিন্তু এইটা রবীন্দ্রনাথ পড়বার ক্ষেত্রে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। কেননা রবীন্দ্রনাথের 'সন্ধ্যাসঙ্গীত' থেকে 'प्रभातসঙ্গীত'-এ উত্তরণ কেবল একটা কবিতার বই থেকে আরেকটা কবিতায় কবিতার বইয়ে যাওয়া নয়। এর মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে কিন্তু একটা নতুন ক্ষেত্রে পৌঁছচ্ছেন। তাঁর কবিতাও নতুন জায়গায় পৌঁছচ্ছে।[cite: 1] > > ১৮৮৩ সালে নভেম্বর মাসে—নভেম্বর-ডিসেম্বর, ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে—রবীন্দ্রনাথের বিবাহ। ২৪ অগ্রহায়ণ ১২৯০।[cite: 1] > > এখন রবীন্দ্রনাথের বিবাহের বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের নিজের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এরকমটা নয়। একেবারেই পরিবারের দিক থেকেই এই বিবাহের আয়োজন। ঠাকুর পরিবারের একটা সংকট ছিল সেটা আমরা জানি, যে তারা ব্রাহ্মণ ছিলেন, কিন্তু ব্রাহ্মণ হিসেবে একটু পতিত। কেননা তারা পিরালী ব্রাহ্মণ।[cite: 1] > > পিরালী ব্রাহ্মণ কেন, এ নিয়ে নানা রকম তর্ক আছে। কিন্তু এইটুকু বোঝা যায় যে কোনো একটা স্তরে এই পরিবার পরিবারের সঙ্গে কিছু মুসলমান সংস্রব ঘটেছিল, যে কারণে তারা সমাজে খানিকটা গৌরব হারাচ্ছে।[cite: 1] > > এখন রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তি জীবন তাতে এই পিরালী ব্রাহ্মণ হওয়াটা আলাদা করে যে খুব কোনো গুরুত্ব রাখছে এরকমটা নয়। কিন্তু তাঁর পরিবারের ক্ষেত্রে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘটনা ছিল এই কারণে যে ঠাকুরবাড়িতে দেবেন্দ্রনাথ আগাগোড়াই চেষ্টা করছেন পিরালির বংশ থেকেই মেয়ে নিয়ে আসবার, বাড়ির বউ করবার জন্য।[cite: 1] > > মৃণালিনীর বিয়ের সময় বয়স দশের কাছাকাছি। তাঁর আগে নাম ছিল ভবতারিণী। বদলে নাম হচ্ছে মৃণালিনী।[cite: 1] > > খেয়াল করব যে বিয়ে হচ্ছে কিন্তু জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতেই। এখন এই যে রবীন্দ্রনাথের জীবনে তাঁর ২২ বছর বয়স তখন, এই বিবাহের ঘটনা এটা নানা দিক থেকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তাৎপর্যপূর্ণ এই কারণে যে নানা সময় রবীন্দ্রনাথের দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানা রকম কথা নানা মহলে আমরা শুনতে পাই। যেমন কাদম্বরী দেবীকে নিয়ে বাঙালি মানুষে একটা নিরন্তর গসিপের প্রতি অনুরাগ থেকে যায়। সেই গল্পটাকেই খানিকটা তারই একটা উপশাখা হিসেবে রবীন্দ্রনাথ মৃণালিনীকে আদৌ ভালোবাসতেন কিনা, রবীন্দ্রনাথ বিয়ে করলেন বলেই কাদম্বরী আত্মহত্যা করলেন—এরকম নানা রকমের গল্প প্রচলিত আছে।[cite: 1] > > এখন এখানে দু-একটা কথা একটু মনে রাখা জরুরি। আমি এই প্রসঙ্গেই উল্লেখ করি যে ১৮৮৩-র ৯ই ডিসেম্বর রবীন্দ্রনাথের বিয়ে হচ্ছে। এবং ১৮৮৪-র এপ্রিলে কাদম্বরীর মৃত্যু।[cite: 1] > > তাহলে দুটো ঘটনার মধ্যে সময়ের ব্যবধান এত কম যে সেইটা নিয়ে নানা রকম কথা বলবার জন্য বহু লোক উৎসুক হয়ে থাকেন। মানুষের জীবনের সব অঙ্ক যে সিম্পল অ্যারিথমেটিক নয়, এটা মানুষ ভুলে যায়। যাই হোক, সে প্রসঙ্গ পরে।[cite: 1] > > আমরা দেখছি যে ২৪ তারিখ রবীন্দ্রনাথের বিয়ে, ২২ তারিখ দেবেন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথকে একটা চিঠি লিখছেন। খুব ইন্টারেস্টিং চিঠিটা। বলছেন,[cite: 1] > "এক্ষণে তুমি জমিদারির কার্য পর্যবেক্ষণ করিবার জন্য প্রস্তুত হও। প্রথমে সদর কাছারিতে আমিন আমিনের নিকট হইতে জমা-ওয়াসিল-বাকি ও জমা-খরচ দেখিতে থাকো। তোমার কার্যে তৎপরতা ও বিচক্ষণতা আমার প্রতীতি হইলে, আমি তোমাকে মফঃস্বলে থাকিয়া কার্য করিবার ভার অর্পণ করিব।"[cite: 1] > > অর্থাৎ বিয়ের দুদিন আগে দেবেন্দ্রনাথ কিন্তু তাকে তাদের জমিদারির কাজে কার্য্যত বলা যেতে পারে জুতে দিচ্ছেন। রবীন্দ্রনাথ নিজে 'আনএমপ্লয়েড' শব্দটার একটা বাংলা করেছিলেন। বলেছিলেন যে বাংলায় তো মানে আনএমপ্লয়েড, বেকার শব্দটা আরও পরে, তখনো বেকার শব্দটা চালু হয়নি। রবীন্দ্রনাথ তার বাংলা করেছিলেন 'অকর্ম্মণ্য'। কর্ম আছে যার সে কর্ম্মণ্য, অকর্ম্মণ্য।[cite: 1] > > এখন এই চিঠিটা কিন্তু একদিক থেকে ইঙ্গিত করে যে রবীন্দ্রনাথ একেবারে অকর্ম্মণ্য অবস্থায় বিয়ে করেননি। তার ঠিক আগেই দেবেন্দ্রনাথ তাকে দায়িত্ব দিচ্ছেন, গুরুদায়িত্ব। এবং শুধু দায়িত্ব না, সেই দায়িত্বটা যে একটা স্ক্যানারের আন্ডারে, সেই দায়িত্বটা যে পরীক্ষা সাপেক্ষ এবং ঠিক ঠিক তার কাজে তৎপরতা দেবেন্দ্রনাথকে সন্তুষ্ট করতে পারে, তাহলে তাকে আরও অন্য দায়িত্ব, মফঃস্বলে থাকিয়া কার্য করিবার দায়িত্ব ভার অর্পণ করা হবে—এ কথাও বলছেন।[cite: 1] > > ১৮৮৩ সাল রবীন্দ্রনাথের দুটি কাব—একটি কাব্যগ্রন্থ 'प्रभातসঙ্গীত' এবং 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস প্রকাশিত হচ্ছে। 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসে একটা ইতিহাসের পরিমণ্ডল রবীন্দ্রনাথ ব্যবহার করছেন, যেটা তখনও বাংলা সাহিত্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ধরণ, খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা গোত্র।[cite: 1] > > রবীন্দ্রনাথ স্বভাবত ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখবার লোক ছিলেন ঘন। রবীন্দ্রনাথ স্বভাবত যেটা লিখতেন সেটা কিন্তু সমাজ নির্ভর উপন্যাস। কিন্তু বঙ্কিম যুগের প্রভাব রবীন্দ্রনাথের ওপর কিভাবে পড়েছে, এটা 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' বা এরপরে 'রাজর্ষি' যখন লেখা হবে তখন এটা বেশ বোঝা যাবে।[cite: 1] > > আমরা আগেই বললাম ১৮৮৪ সালে কাদম্বরী দেবী আত্মহত্যা করছেন। এবং এর থেকে একটা সহজ ইকুয়েশন দাঁড় করিয়ে বিয়ে করার চার মাসের মধ্যেই কাদম্বরী আত্মহত্যা করলেন। এ দুটোর মধ্যে ফ্যাকচুয়াল কোনো গণ্ডগোল নেই, তথ্য হিসেবে নির্ভুল। কিন্তু এ দুটোর মধ্যে ভেতরকার কোনো সংযোগ দেখতে চাইবার কয়েকটা সমস্যা আছে। সমস্যা বলব না, যে অন্যতর ভাবনার দিকে কিছু ঘটনা আমাদের ঠেলে দেয়।[cite: 1] > > তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা আমরা মনে করি, যেটার কথা হয়তো আগে একদিন ক্লাসে বলেও ছিলাম, সেটা হলো যে রবীন্দ্রনাথের একেবারে কৈশোরের যে সাহিত্যচর্চা, 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী', যেখানে রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কথা বলা হচ্ছে, কাদম্বরী দেবীর কথা রবীন্দ্রনাথ বারবার বলবেন ভানুসিংহের সূত্রে।[cite: 1] > > কিন্তু আমরা যদি একটু খেয়াল করি, তাহলে ভানুসিংহের পদাবলীতে যদি রবীন্দ্রনাথের কোনো ব্যক্তি জীবনের প্রক্ষেপ থেকেও থাকে, রবীন্দ্রনাথ পড়বার একটা ধারা হচ্ছে যাকে আমরা বলি বায়োগ্রাফিকাল ক্রিটিসিজম। সে ধারায় অনেক অবজারভেশন আমরা নানা সময় লক্ষ্য করি। যদিও এই জাতীয় বায়োগ্রাফিকাল ব্যাখ্যার কিছু সমস্যার দিক আছে।[cite: 1] > > কেননা সাহিত্য লেখকের বাস্তব অভিজ্ঞতার একটা এক্সপ্রেশন হতে পারে, কিন্তু লেখকের কল্পনা বাদ দিয়ে নয়। কল্পনার একটা বিরাট জায়গা থাকে। ফলে আমি যদি সাহিত্যকে লেখকের অটোবায়োগ্রাফি ধরে নিই, লেখকের ডায়েরি ধরে নিই, তাহলে আমি কোনটা বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত আর কোনটা কবির কল্পনা, তাহলে তার থেকে যে জীবনীটা আমরা নির্ধারণ করবার চেষ্টা করব সেটা গুলিয়ে যেতে পারে।[cite: 1] > > বায়োগ্রাফিকাল ক্রিটিসিজমে এটা খুব জরুরি কথা যে আমরা কবিতা পড়বার জন্য বায়োগ্রাফিকে ব্যবহার করব। কিন্তু বাংলায় ইদানীংকালে বিষয়টা বদলে গেছে। এবং বিষয়টা খুব বদলে ভালো হয়েছে এরকম বলা যাবে না। রবীন্দ্রনাথের রচনা, তাঁর সাহিত্য, তাঁর কবিতা বা চিঠিপত্র, তাঁর নাটক, তাঁর গল্প-উপন্যাস সমস্ত কিছুকে আমরা যখন একটা টেক্সট হিসেবে দেখি, তখন সেই টেক্সটটাকে রবীন্দ্র জীবনের উপাদান হিসেবেই আমরা অনেক সময় যেন ধরে নিই।[cite: 1] > > রবীন্দ্র জীবনের উপাদান দিয়ে রবীন্দ্র কবিতাকে বোঝা যেতে পারে, কিন্তু নট দ্য আদার ওয়ে রাউন্ড। রবীন্দ্র কবিতা আসলে রবীন্দ্র জীবন—এ কথা বহিরঙ্গভাবে বলা যাবে না। অন্তরঙ্গভাবে তার একটা যোগ থাকতে পারে, সে আমরা পরে সুযোগ পেলে আলোচনা করব।[cite: 1] > > এখানে কথাটা যেটা গুরুত্বপূর্ণ যে আগাগোড়াই রাধাকৃষ্ণের যে মোটিফটা নেওয়া হচ্ছে, সমালোচকেরা অনেক সময়ই এই ভুলটা করছেন যে এই রাধাকৃষ্ণকে রবীন্দ্রনাথ আর কাদম্বরী বানিয়ে দিচ্ছেন। তাতে নিশ্চয়ই গল্পটাকে পল্লবিত করবার অনেক উপাদান জোটে। রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা আমরা নিশ্চয়ই এই সূত্রে মনে রাখব, যিনি কাদম্বরী দেবীর একটা বিশাল সুইসাইড নোট লিখে ফেলেছিলেন।[cite: 1] > > এখন এইগুলো রবীন্দ্র জীবনের তথ্য নিয়ে লেখক বিশেষের ইন্টারপ্রিটেশন, লেখক বিশেষের তত্ত্ব। এবং এটা রবীন্দ্রনাথ লেখেননি, এটা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে একটা গবেষণার ছদ্মবেশে আসলে কিছু গালগল্প, কিছু যাকে বলে গসিপ এবং তার সঙ্গে সঙ্গে একটা ন্যারেটিভ তৈরি করার উদ্যোগ।[cite: 1] > > এখন এই যে রাধাকৃষ্ণের গল্পটাকে আমরা যদি রবীন্দ্রনাথ-কাদম্বরীর সম্পর্ক হিসেবে চিহ্নিত করি, তার প্রধান বিপদটা হচ্ছে যে রবীন্দ্রনাথ ভানুসিংহের পদাবলীতে কিন্তু কোথাও কৃষ্ণ নন। তিনি আগাগোড়াই একজন ভক্ত, একজন সাধক। বৈষ্ণব সাহিত্যে কবিরা কিন্তু কদাচিৎ রাধাকৃষ্ণের প্রেমের বর্ণনা করতে গিয়ে অন্যের কথা বলেন। অর্থাৎ যারা তাদের ভক্ত, যারা তাদের সখী, তাদের সঙ্গে কিন্তু একটা দূরত্ব থাকে।[cite: 1] > > এখন এইটা যদি আমরা মেনে নিতে বাধ্য হই যে রাধাকৃষ্ণের যে ন্যারেটিভ, সেই ন্যারেটিভটাই রবীন্দ্রনাথ কাদম্বরীকে রাধা হিসেবে দেখে গড়ে তুলছেন, তাহলেও এটা মনে রাখতে হবে অর্থাৎ কাদম্বরী যদি রাধা হনও, তাহলেও এটা মনে রাখতে হবে যে রবীন্দ্রনাথ কিন্তু কাদম্বরীর প্রেমিক নন।[cite: 1] > > এই কাব্যের যিনি কবি, তাঁর নাম ভানুসিংহ। এই ভানুসিংহের কাজ কিন্তু কৃষ্ণের জন্য রাধা দুঃখ করে, রাধাকে সান্ত্বনা দেওয়া। রাধা যখন মৃত্যুকামনা করে, রাধা যখন এরকম কথা বলে যে, "মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান", আমরা অনেক সময়ই গুলিয়ে ফেলি।[cite: 1] > > আমি আগে বোধহয় কথাটা বলেছি, রিপিটেশন হচ্ছে, তবুও হোক, এটা জরুরি কথা। যে আমরা মনে করি, "মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান", রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুকে বলছেন, মৃত্যুকে সম্ভাষণ করে বলছেন। দ্যাটস অ্যাবসোলিউটলি রং। রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুকে সম্ভাষণ করেননি। মৃত্যুকে সম্ভাষণ রাধা করেছে। শ্যামসমান রাধার মনে হচ্ছে।[cite: 1] > > কিন্তু এই কবিতার শেষে কবি তো একটা ভণিতা লেখেন। মধ্যযুগের কাব্যে এ ভণিতা থাকত। এবং সেইখানে খুব পরিষ্কার করে বলা হচ্ছে যে রাধা এবং কৃষ্ণের প্রেমকে অনুগতি করবার জন্য, সাহায্য করবার জন্য কবি রয়েছেন।[cite: 1] > > অর্থাৎ কৃষ্ণ যদি কেউ থেকে থাকেন, তাহলে সেটাকে কিন্তু আমাদের জ্যোতিরিন্দ্রনাথই ভাবতে হবে, আর কেউ নন। রবীন্দ্রনাথ একজন ভক্ত, একজন উপাসক। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রেমিক নন।[cite: 1] > > এই যে শ্যামসমান—তা রাধা বলছে। শ্যামকে না পেয়ে রাধা বলছে যে, "মরণ, তুমি এসো, তোমার মধ্যেই ডুবে গিয়ে আমি আমার যন্ত্রণা মেটাই। তুমি আমার শ্যামসমান।"[cite: 1] > > এবং এই কথাটা নানা রকমভাবে নানা ইমোশনে, কখনো ভালো লাগার কখনো বেদনার, নানা ইমোশনে এ কথাটাই গানের মধ্যে দিয়ে বলা হয়। এবং কথাটা রাধাই বলে।[cite: 1] > > এবং শেষকালে গিয়ে দেখব যে ভানুসিংহ বলছে যে, "রাধে, ছিয় ছিয়, চঞ্চল চিত তোহারি। যে জীবনবল্লভ সে মরণেরও অধিক। জীবনবল্লভ মরণঅধিক সো, অব তুঁ দেখ বিচারি।"[cite: 1] > > কথাটা এইটুকু মাত্র নয় যে রবীন্দ্রনাথ এবং কাদম্বরী। কথাটার সঙ্গে যুক্ত করতে হয়—এক নম্বর হলো যে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, তিনি পরিবারে কতটা থাকছেন সেটা একটা সমস্যার বিষয় হয়ে উঠছে। তিনি নানা সময় এদিক-ওদিক সেদিক চলে যাচ্ছেন এবং অনেক সময় স্বস্ত্রীক নয়। দু নম্বর, তিনি তখন একেবারে খোলাখুলিভাবে আমাদের পাবলিক স্টেজের সঙ্গে যুক্ত, পাবলিক থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। সেখানে তাঁর একটা ফুল-টাইম এনগেজমেন্ট আছে। এছাড়া তিনি লেখক, তিনি ব্রাহ্মসমাজের একজন উৎসাহী সভ্য, তিনি ব্রহ্মসঙ্গীত লিখছেন, তিনি কবিতা লিখছেন, তিনি কিছু ন্যারেটিভও লিখছেন।[cite: 1] > > কিন্তু তারপরেও খুব স্পষ্ট করে আমরা বলতে পারব না যে মরণ হচ্ছেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ। কিন্তু যেটা স্পষ্ট করে বলতে পারব সেটা এই যে তিনি রবীন্দ্রনাথ কিন্তু মানে এই ঘটনার পরেই বলবে যে, "ভানু কহে, রাধে ছিয় ছিয়, চঞ্চল চিত তোহারি। জীবনবল্লভ মরণঅধিক সো, অব তুঁ দেখ বিচারি।" যিনি জীবনবল্লভ তিনি মরণের অধিক।[cite: 1] > > সে যুগের তথ্যাদি থেকে, ঠাকুরবাড়ির কাগজপত্র থেকে, রবীন্দ্রনাথের বিয়ের আগেই কাদম্বরী দেবী একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এই যে রাধাকে বারণ করা, "ছিয় ছিয়, চঞ্চল চিত তোহারি। ভুলে যাও এসব। জীবনবল্লভ তিনি মরণের অধিক, সেটা অন্তত বিচার করো।"[cite: 1] > > কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নিজে একটা দূরত্বে রাখ—সখাসখীদের ডাকছেন, "কেউ এটা নিয়ে আসুক, কেউ ওইটা নিয়ে আসুক", করতে করতে আমরা একটা পরিপূর্ণ নাচের সিকোয়েন্সে পৌঁছব।[cite: 1] > > এখন এই যে পুরো ভানুসিংহের গল্পটা, এটাতে এইটুকু বোঝা যায় খুব স্পষ্ট যে কাদম্বরী এর আগেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। ফলে রবীন্দ্রনাথ তাঁর আত্মহত্যার কারণ, এরকমটা মোটেই নয়। ঠাকুরবাড়িতে এরকম একটা কাহিনীও প্রচারিত আছে যে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের পকেটে মৃণালিনী কোনো একজন অভিনেত্রীর ছবি পেয়েছিলেন, চিঠি পেয়েছিলেন, হোয়াটএভার। কি পেয়েছিলেন আমাদের তো জানবার কথা নয়, কিন্তু এরকম অনুমান ঠাকুরবাড়ির কেউ কেউ করেছেন।[cite: 1] > > ঠিক এই ছবিটা রবীন্দ্রনাথ ব্যবহার করবেন 'চোখের বালি' উপন্যাসে, যখন মহেন্দ্রর পাঞ্জাবির মধ্যে আশা বিনোদিনীর চিঠি খুঁজে পায়।[cite: 1] > > রবীন্দ্রনাথ একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে কিন্তু বেশ ক্যাটেগরিক্যাল, সময়ের দিক থেকে, ঘটনা পরম্পরার দিক থেকে।[cite: 1] > > ফলে এই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে আমরা এটা বুঝতে পারি যে ভানুসিংহ একটা আড়াল তো বটেই, কিন্তু ভানুসিংহ কিন্তু রবীন্দ্রনাথ এবং কাদম্বরীর গল্প নয়। কাদম্বরী আছেন এটাও মেনে নিতে হবে।[cite: 1] > > এই পর্যন্ত থাক আজকে।[cite: 1] > > শোনা গেল তো?[cite: 1] > > হ্যাঁ দাদা।[cite: 1] > > মিনিট চার-পাঁচ আছে। কারও যদি কিছু বলবার থাকে আমরা সেটা একটু শুনতে পারি, যদি কিছু উত্তর দেওয়ার থাকে তাহলে তাও চেষ্টা করতে পারি। আলভী সরকার?[cite: 1] > > দাদা নমস্কার। শুনতে পাচ্ছেন?[cite: 1] > > দাদা শুনতে পাচ্ছেন?[cite: 1] > > শুনতে পাচ্ছি।[cite: 1] > > দাদা আমার প্রশ্নটা হচ্ছে, আমি জানতাম এরকম যে কাদম্বরীর আত্মহত্যা আর রবীন্দ্রনাথের মধ্যে একটা সম্পর্ক ছিল। এখন যদি সম্পর্ক না থাকে তাহলে তো আমার প্রশ্নটা হলো কাদম্বরী আত্মহত্যা কেন করলো?[cite: 1] > > কাদম্বরীর আত্মহত্যার অনেকগুলো কারণ। অনেকগুলো কারণ। একটা হচ্ছে যে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সঙ্গে কাদম্বরীর সম্পর্ক বেশ জটিল একটা জায়গায় পৌঁছেছিল। এবং যেটা বললাম যে অভিনেত্রীর সঙ্গে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের একটা সম্পর্ক এরকম একটা কথাও ছিল। একটা মানে রটনা, গুজবও ছিল, সত্যি যাই হোক।[cite: 1] > > দু নম্বর হচ্ছে যে কাদম্বরী নিঃসন্তান ছিলেন। কিন্তু তিনি একটি মেয়েকে, সুকন্ঠাকে কি বলব, এখনকার ভাষায় অ্যাডপ্ট করেছিলেন। তখনকার আইনসম্মতভাবে অ্যাডপশন কিনা জানি না, কিন্তু তাকে তিনি মানুষ করতেন। তাঁর মৃত্যু ঘটে অ্যাক্সিডেন্টালি। এবং এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে কাদম্বরী কিন্তু একটা ডিপ্রেশনে ভুগতেন।[cite: 1] > > এটা মনে রাখবেন যে আত্মহত্যা একজন যদি বারবার করে, তাহলে বুঝতে হবে সে একটা ঘটনায় হঠাৎ রিঅ্যাক্ট করেনি। এই এই ডিপ্রেশন কাদম্বরীর ছিল।[cite: 1] > > ফলে জাস্ট রবীন্দ্রনাথের জন্য কাদম্বরী আত্মহত্যা করলেন, রবীন্দ্রনাথ বিয়ে করলেন বলে, এটা কি খুব খুব মানে সঙ্গত কারণ হতে পারে কাদম্বরীর দিক থেকে? এটা কি খুবই মানে যাকে বলে ছেলেমানুষি, নাইভ হয়ে যায় না?[cite: 1] > > বুঝতে পারছি দাদা।[cite: 1] > > লিপিকা ঘোষ।[cite: 1] > > হ্যাঁ অভ্রদা।[cite: 1] > > হ্যালো?[cite: 1] > > শোনা যাচ্ছে অভ্রদা?[cite: 1] > > হ্যাঁ, শুনতে পাচ্ছি লিপিকা। এক মিনিট, গায়ত্রী রায় লিখেছেন যে ঠাকুরবাড়িরই? হ্যাঁ। আচ্ছা, হ্যাঁ লিপিকা।[cite: 1] > > হ্যাঁ, বলছি যে রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় কি প্রথম এইটা নিয়ে লেখালেখি করেছেন, না এর আগেও অনেকে...?[cite: 1] > > না না না, এর আগে অনেক, অনেকে, অনেক লেখালেখি হয়েছে।[cite: 1] > > আচ্ছা। আর একটা কথা হলো যে উনি কি কাদম্বরী দেবী যে এই সুইসাইড অ্যাটেম্পট করেছিলেন, সেটা কি বিয়ের আগে? মানে আরও যে দুবার করেছিলেন?[cite: 1] > > রবীন্দ্রনাথের বিয়ের আগে, হ্যাঁ। ডেফিনেটলি। হ্যাঁ, রবীন্দ্রনাথের বিয়ের আগে।[cite: 1] > > তার মানে তো একটা জিনিস ধরে নেওয়া যেতে পারে তিনি মানসিক অবসাদের শিকার ছিলেন?[cite: 1] > > একশো বার। তিনি তো শিকার ছিলেন বটেই।[cite: 1] > > এবং যেটা আপনি বললেন যে নিঃসন্তান, ঠাকুরবাড়ির প্রত্যেকেরই সন্তান হচ্ছে...[cite: 1] > > নিঃসন্তান শুধু, নিঃসন্তান শুধু না, যাকে সন্তান স্নেহে পালন করছেন সেও মারা যাচ্ছে। এবং মারা যাচ্ছে শুধু না, মানে সেই সময় ভাবুন যে এক একজন নিঃসন্তান মহিলা, যাকে মানে সে যুগের ভাষায় বন্ধ্যা বলা হতো, সে একটি মেয়েকে পালন করছে, কিন্তু তারই দোষে বা অন্তত লোকে তার ওপর দোষ দেবে, তার মৃত্যু হচ্ছে। ফলে সামাজিকভাবে এটার একটা প্রচণ্ড চাপ কিন্তু তার ওপর ছিলই। হ্যাঁ, ফলে মানে ব্যাপারটা এত সোজা নয় যে জাস্ট এই একটা রবীন্দ্রনাথ বিয়ে করলেন আর উনি আত্মহত্যা করলেন। আমার এই এই এই জায়গাটাতে ওইভাবে দেখবার কোনো কারণই নেই।[cite: 1] > > আরেকটা দাদা মনের মধ্যে আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে যে রবীন্দ্রনাথ বা কাদম্বরী দেবী, তাঁরা কি কেউ কোনো তাঁদের বক্তব্যে, তাঁদের কথায়, কোনো জায়গায় এমন কোনো হিন্টস দিয়েছিলেন যে মানুষ এইভাবে তাদেরকে একটা মিলিয়ে দিয়ে একটা গসিপ তৈরি করে একটা মানে টক-ঝাল-মশলার একটা গল্প তৈরি করবে?[cite: 1] > > রবীন্দ্রনাথ, আপনি ছেলেবেলা পড়ুন, রবীন্দ্রনাথের কাদম্বরীর প্রতি মানে ভালোবাসার কথা খুব পরিষ্কার করেই আছে। কিন্তু ভালোবাসার মাত্রাটা একটা বিশেষ জায়গায় কেন্দ্রীভূত করাটা এটা...[cite: 1] > > সেটাই কথা। যে ভালোবাসলেই যে আত্মহত্যা করবে এটা তো কোনো প্রশ্নই উঠছে না। একই জায়গায়, একই বাড়িতে থাকছে...[cite: 1] > > হ্যাঁ, ঠিক আছে। অনেকেই হাত তুলেছেন, আমি সবাইকে আজকে হয়তো নিতেও পারব না। অম্লান?[cite: 1] > > হ্যাঁ অভ্রদা। এটা তো ঠিকই বললেন যে—শোনা যাচ্ছে তো অভ্রদা?[cite: 1] > > হ্যাঁ হ্যাঁ।[cite: 1] > > বলছি যে কাদম্বরী দেবীর জীবনবল্লভ যদি কেউ থেকে থাকেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, মানে তাঁর স্বামী, এটা একটা কথা প্রসঙ্গে বললেন, ঠিকই। কিন্তু বিপরীত দিকে অর্থাৎ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর কি কাদম্বরী দেবীকে তাঁর জীবনবল্লভী মনে করতেন? এই জায়গাটা একটা প্রশ্ন।[cite: 1] > > আচ্ছা, এই প্রশ্নটা আমি খুব সংক্ষেপে জবাব দিয়ে যাই।[cite: 1] > > না, এবং তার সাথে আরেকটু জুড়ে দিই টুকরো, যদি না মনে করেন তাহলে কেন? তিনি তো বিদুষী ছিলেন, সুন্দরী ছিলেন। সেখানে...[cite: 1] > > না না, অম্লান, বিদুষী, সুন্দরী এগুলো কোনোটাই ফ্যাক্টর নয়। মানুষে মানুষের সম্পর্ক দুটো মানুষের কেমিস্ট্রির ওপর নির্ভর করে, তার রূপ তার গুণের ওপর নয়।[cite: 1] > > আর দু নম্বর, জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে এরকম কিছু কথা নিশ্চয়ই রটেছিল। কিন্তু এইটা আমরা যদি মনে রাখি যে কাদম্বরী যখন মারা যাচ্ছেন, জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বয়স তখন চল্লিশের কাছাকাছি। এবং জ্যোতিরিন্দ্রনাথ আরও প্রায় চল্লিশ বছর বেঁচে থাকবেন। সে যুগের পরিপ্রেক্ষিতে এই লোকটা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেননি এবং দ্বিতীয়বার বিয়ে করেননি শুধু না, কোথাও শুনতে পাইনি। এই কথাটা কিন্তু আমাদের জ্যোতিরিন্দ্রনাথ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত করবার আগে মনে রাখা উচিত।[cite: 1] > > যেখানে তথ্য নেই সেখানে মানুষ কল্পনা করবে। সেটা তথ্য না থাকার ফলে কাউন্টার করবারও তথ্য নেই। কিন্তু যেহেতু তথ্য নেই সেহেতু কল্পনাটাকে কল্পনাবলই ধরব। ঠিক আছে?[cite: 1] > > রবীন্দ্রনাথ আর জ্যোতিরিন্দ্রনাথের কেমিস্ট্রি কি কোনো পরিবর্তন হয়েছিল আফটার দ্য ডেথ অফ কাদম্বরী দেবী?[cite: 1] > > না, আল্টিমেটলি হয়নি। আল্টিমেটলি হয়নি। আচ্ছা, বিদিশা ঘোষ।[cite: 1] > > দাদা, একটা জায়গাতেই আমি একটু মিস করে গেছি, মোহিতচন্দ্র সেনের গ্রন্থাবলীর ওই জায়গাটাতে 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'-এর নামটা কি প্রাথমিকভাবে 'নিষ্ক্রমণ' ছিল নাকি...?[cite: 1] > > না না না। এই প্রভাত সঙ্গীতের কবিতাগুলো ওখানে 'নিষ্ক্রমণ' নামে ছিল। ঠিক আছে?[cite: 1] > > আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে।[cite: 1] > > অবন্তিকা।[cite: 1] > > স্যার বলছি, এই যে কাদম্বরী দেবী সুইসাইড করতে চেয়েছিলেন আগে আরও কয়েকবার, এগুলো কি কোনোভাবে তথ্য হিসেবে কোথাও পাওয়া যায়? কারণ...[cite: 1] > > হ্যাঁ, এগুলো এগুলো যথেষ্ট ডকুমেন্টেড তথ্য। এটা প্রশান্ত পালেই পাবেন আপনি।[cite: 1] > > আপনারা প্রভাতকুমারের রবীন্দ্র জীবনীতে দেখবেন, প্রভাতকুমার বলছেনই যে কাদম্বরী দেবীর স্কিজোফ্রেনিয়া ছিল।[cite: 1] > > আচ্ছা। ও আচ্ছা।[cite: 1] > > শুভদীপ।[cite: 1] > > হ্যাঁ, প্রণাম নেবেন স্যার। আমি একটি ছোট প্রশ্ন করতে চাইছি। সেটি হচ্ছে স্যার, এই যে সম্পর্কটা, মানে এটা তো আপনি পরিষ্কার বলেই দিলেন যে কল্পনার জগতে মানুষে অনেক কিছুই ভাবতে পারে, মানে সেটা আমরাও ভাবতে পারি মানে সেই সম্পর্কটা। কিন্তু কোথাও গিয়ে তাদের সম্পর্কের শেষে মনে হয়েছে যে ওই শ্রদ্ধার জায়গাটা এবং কোথায় মানে ইতি টানতে হবে কতদূর, সেটা রবীন্দ্রনাথ বারবার সেটা দেখিয়েছেন। এটা আমরা জানি। তো আমার যেটা স্যার প্রশ্ন, সেটা যে 'নষ্টনীড়' যে উপন্যাসটা লেখা হয়েছিল, সেটা কি এই কাহিনীটাকে কেন্দ্র করেই? মানে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ, কাদম্বরী দেবী এবং রবীন্দ্রনাথ এই একটা ত্রিকোণ সম্পর্ক, এটা নিয়েই কি 'নষ্টনীড়'-টা কোনো রকম ভাবে লেখা হয়েছিল?[cite: 1] > > আচ্ছা, এই প্রসঙ্গে আমি পরে আসব। হ্যাঁ? 'নষ্টনীড়'-এ রবীন্দ্রনাথ, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ, কাদম্বরী ভাবতে হবে কেন? 'নষ্টনীড়'-এর যে সময়কার গল্প, হ্যাঁ, সে সময় যদি আপনারা মৃণালিনী, রবীন্দ্রনাথ, বলেন্দ্রনাথ ভাবেন, তাতেই বা সুবিধে কি?[cite: 1] > > গল্প-উপন্যাস কখনো ওইরকম একজনের ওপর পুরোটা ইয়ে করে দেওয়া যায় না। এ ভেবে দেখবেন যে আপনি চাইলে কিন্তু এটাও মেলাতে পারেন। হ্যাঁ, কারণ তখন রবীন্দ্রনাথ নানা কাজে ব্যস্ত, একে মৃণালিনীকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন বলেন্দ্রনাথ, হ্যাঁ, মানে ফলে এইগুলো ভাবতে গেলে যত খুশি ভাবা যায়।[cite: 1] > > আবারও বলছি যে যেটাতে ডকুমেন্ট নেই, সেইটাতে একেবারেই কোনো... আমরা বলতে পারি যে এটার মধ্যে এটার একটা ছায়া পড়েছে। ওইটুকু, সেটা দিয়ে আবারও সেটা দিয়েই সম্পর্কটাকে আমরা ব্যাখ্যা করতে পারব না। যেটা আমি প্রথমেই বলেছিলাম যে সাহিত্য বুঝতে আমি বায়োগ্রাফি ব্যবহার করতে পারি, কিন্তু সাহিত্যকে বায়োগ্রাফি বোঝবার জন্য ব্যবহার করতে পারি না।[cite: 1] > > ঠিক আছে, তাহলে এই পর্যন্ত।[cite: 1] > > ঠিক আছে স্যার। ধন্যবাদ।[cite: 1] > > খেলা শুরু করবে।[cite: 1] > > আচ্ছা অনেকেরই হাত উঠে আছে কিন্তু এখনও। তুমি কি প্রশ্ন দু-একটা নিয়ে নেবে?[cite: 1] > > আমি প্রশ্ন নিয়ে নিয়েছি। যাদের হাত উঠে আছে তারা ভুলে হাত উঠে আছে।[cite: 1] ## সারাংশ - মূল বক্তব্য ইত্যাদি > [!more]- শর্ট ইন্ট্রো > অধ্যাপক অভ্র বসুর এই ক্লাসে রবীন্দ্রজীবনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়—সদর স্ট্রিটের সূর্যোদয়ের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা এবং 'প্রভাতসংগীত'-এর নিষ্ক্রমণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে[cite: 1]। এছাড়া রবীন্দ্রনাথের বিবাহ, কাদম্বরী দেবীর মৃত্যু এবং 'ভানুসিংহের পদাবলী'র পটভূমিতে জীবনীভিত্তিক সমালোচনার (biographical criticism) সীমাবদ্ধতা ও ভ্রান্তি নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে[cite: 1]। > [!more]- কী পয়েন্টস > > > [!more]- পয়েন্ট ১ — সদর স্ট্রিটের অভিজ্ঞতা > > সদর স্ট্রিটের বাড়িতে সূর্যোদয় দর্শন রবীন্দ্রনাথের জীবনে কেবল একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ ছিল না, এটি ছিল তাঁর জীবনের অন্ধকার থেকে আলোয় 'নিষ্ক্রমণ' এবং প্রথম আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা[cite: 1]। > > > [!more]- পয়েন্ট ২ — সাহিত্য ও জীবনস্মৃতি > > মোহিতচন্দ্র সেনের 'রবীন্দ্র গ্রন্থাবলী'তে 'প্রভাতসংগীত' অংশের নাম দেওয়া হয়েছিল 'নিষ্ক্রমণ'[cite: 1]। রবীন্দ্রনাথ এই অভিজ্ঞতাকে বিশ্ব ও প্রকৃতির সঙ্গে মিলনের এক বৃহৎ তাৎপর্যে দেখেছেন এবং পরবর্তী জীবনে একে 'মহামানব' উপলব্ধির সাথে যুক্ত করেছেন[cite: 1]। > > > [!more]- পয়েন্ট ৩ — বিবাহ ও কাদম্বরী দেবীর মৃত্যু > > ১৮৮৩ সালের ৯ই ডিসেম্বর (২৪ অগ্রহায়ণ ১২৯০) বেণীমাধব রায়চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণীর (মৃণালিনী দেবী) সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বিবাহ হয়[cite: 1]। বিয়ের দুদিন আগে দেবেন্দ্রনাথ তাঁকে জমিদারির দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেন[cite: 1]। এর অল্প কয়েক মাস পর ১৮৮৪ সালের এপ্রিলে কাদম্বরী দেবী আত্মহত্যা করেন[cite: 1]। > > > [!more]- পয়েন্ট ৪ — ভানুসিংহের পদাবলী ও জীবনীভিত্তিক সমালোচনা > > 'ভানুসিংহের পদাবলী'র রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে সরাসরি রবীন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী দেবীর সম্পর্ক হিসেবে দাঁড় করানো সম্পূর্ণ ভ্রান্ত[cite: 1]। বৈষ্ণব পদাবলির রীতি অনুযায়ী রবীন্দ্রনাথ (ভানুসিংহ) এখানে সখা বা ভক্ত মাত্র, প্রেমিক নন[cite: 1]। কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যার পেছনে ডিপ্রেশন, পালিতা কন্যার মৃত্যু এবং পারিবারিক জটিলতার ইতিহাস ছিল, নিছক রবীন্দ্রনাথের বিবাহ এর একমাত্র কারণ নয়[cite: 1]। > [!more]- পরিভাষা / শব্দ / কী-টার্মস > > | পরিভাষা / শব্দ | অর্থ ও প্রেক্ষাপট | > | :--- | :--- | > | পিরালী ব্রাহ্মণ | ঠাকুর পরিবার ব্রাহ্মণ হলেও সামাজিক স্তরে তারা পিরালী ব্রাহ্মণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সমাজে তাদের গৌরব কিছুটা ক্ষুণ্ণ ছিল[cite: 1]। | > | নিষ্ক্রমণ | মোহিতচন্দ্র সেন সম্পাদিত রবীন্দ্র গ্রন্থাবলীতে 'প্রভাতসংগীত' অংশের নাম, যা হৃদয় অরণ্য থেকে বাইরের বিশ্বে আগমনের বার্তাবাহী[cite: 1]। | > | বায়োগ্রাফিকাল ক্রিটিসিজম | লেখকের বাস্তব জীবনী ও অভিজ্ঞতাকে সরাসরি তাঁর সাহিত্যের আক্ষরিক ব্যাখ্যা হিসেবে দাঁড় করানোর পদ্ধতি, যার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ক্লাসে আলোচনা করা হয়েছে[cite: 1]। | > [!more]- কালপঞ্জি (Timeline) > - **১৮৮২ সাল:** সদর স্ট্রিটে সূর্যোদয়ের অভিজ্ঞতা বা প্রথম আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা[cite: 1]। > - **১৮৮৩ সাল (৯ই ডিসেম্বর):** মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বিবাহ[cite: 1]। 'প্রভাতসংগীত' ও 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' প্রকাশ[cite: 1]। > - **১৮৮৪ সাল (এপ্রিল):** কাদম্বরী দেবীর মৃত্যু[cite: 1]। > - **১৯৩৩ সাল:** 'মানুষের ধর্ম' গ্রন্থ প্রকাশ, যেখানে তিনি ঈশ্বরকে 'মহামানব' নাম দিচ্ছেন[cite: 1]। > [!more]- উল্লিখিত বই ও অন্যান্য রিসোর্সেস > - রবীন্দ্র জীবনী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়)[cite: 1] > - রবিজীবনী (প্রशांतকুমার পাল)[cite: 1] > - মানুষের ধর্ম[cite: 1] > - The Religion of Man[cite: 1] > - চোখের বালি (উপন্যাস)[cite: 1] > - বৌ-ঠাকুরাণীর হাট (উপন্যাস)[cite: 1] > [!more]- রিলেটেড রিসোর্সেস > - সম্পর্কিত ক্লাস / পাঠক্রমের নোট — Biographical Criticism-এর প্রয়োগ ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে অন্যান্য আলোচনা[cite: 1]। ## ভাববার বিষয় > [!more]- **সংক্ষিপ্ত:** > > - সদর স্ট্রিটের সূর্যোদয়কে রবীন্দ্রনাথ কেন তাঁর জীবনের প্রথম আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা বলেছেন?[cite: 1] > > - সাহিত্যকে পুরোপুরি জীবনের প্রতিচ্ছবি বা জীবনী (Biographical Criticism) হিসেবে দেখার সমস্যা কোথায়?[cite: 1] > > > [!more]- **বড়সড়** > > - 'ভানুসিংহের পদাবলী'র রাধা-কৃষ্ণ রূপকের অন্তরালে রবীন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী দেবীর সম্পর্কের যে মিথ তৈরি হয়েছে, তার অসারতা সম্পর্কে অধ্যাপক অভ্র বসুর যুক্তিগুলি বিশ্লেষণ করুন[cite: 1]। > > - কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যার কারণ হিসেবে রবীন্দ্রনাথের বিবাহকে দায়ী করার যে সরল সমীকরণ, তার ঐতিহাসিক ও মনস্তাত্ত্বিক ভ্রান্তিগুলো আলোচনা করুন[cite: 1]। > > > [!more]- ক্যুইজ > > - মৃণালিনী দেবীর বিবাহের পূর্বে নাম কী ছিল? > > (উত্তর: ভবতারিণী)[cite: 1] > > - মোহিতচন্দ্র সেন 'প্রভাতসংগীত' অংশের কী নামকরণ করেছিলেন? > > (উত্তর: নিষ্ক্রমণ)[cite: 1] > > > [!more]- ওয়ার্কশীট > > > > - **কাজ ১:** 'ভানুসিংহের পদাবলী'র অন্তরালে জীবনীভিত্তিক সমালোচকরা যে ভুলটি করে থাকেন, তা সংক্ষেপে একটি অনুচ্ছেদে লিখুন[cite: 1]। > > > [!more]- ** আরও পড়ুন ** > > - 😲 'ভানুসিংহের পদাবলী'র অন্তর্নিহিত দর্শন > > - 😲 রবীন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী দেবী: মিথ এবং বাস্তব > > - 😲 জীবনস্মৃতিতে বর্ণিত সদর স্ট্রিটের অভিজ্ঞতার মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্য [[আমাদের আরও রবীন্দ্রচর্চা|← হোম]]