<!-- সম্পাদনার নির্দেশ — প্রকাশিত লেখায় এই মন্তব্য দেখা যাবে না। ১. date-এ ক্লাসের তারিখ YYYY-MM-DD আকারে এবং lesson-এ "01" বা "00A"-এর মতো পাঠ নম্বর দিন। ২. presenter-এ ব্যক্তির note-এর wikilink দিন। work, topic, paper_half ও সম্পর্কিত notes পূরণ করুন। ৩. session_type ও source ঐচ্ছিক। স্বাগত ভাষণের ক্ষেত্রে session_type: welcome-address এবং tags-এ faq যোগ করতে পারেন। ৪. title-এর template variable নতুন note-এ Templates: Insert template চালানোর সময় পূরণ হবে। নিচের পরিচিতি Properties থেকে নিজে পূরণ হবে না; একই তথ্য এখানে লিখুন। ৫. FILE_ID-এর জায়গায় Google Drive অডিওর সম্পূর্ণ ID বসান। অডিও না থাকলে iframe বাদ দিন। ৬. প্রতিটি callout-এর সব লাইন, ফাঁকা লাইন ও টেবিলের separator-সহ, > দিয়ে শুরু হবে। ভিতরের callout-এ > > এবং তার ভিতরের callout-এ > > > থাকবে। ৭. মূল ক্লাস বিভাগটি শুরুতে খোলা থাকবে; অন্য বিভাগগুলি বন্ধ থাকবে। কী পয়েন্টস-এর চারটি উপবিভাগের শিরোনাম বিষয় অনুযায়ী বদলান। ৮. সম্পাদনা শেষ হলে status: active করুন, সূচি আপডেটের macro চালান এবং Publish changes দিন। ৯. ফীডব্যাক ফর্মের প্রকৃত লিংক বা সরবরাহকৃত iframe embed code শেষ বিভাগে বসান। iframe-এর প্রতিটি লাইনের আগে > রাখুন। ১০. লেখার মধ্যে আলাদা title-variable শিরোনাম নেই; note-এর নিজস্ব শিরোনাম ব্যবহার করুন। --> > [!info] ক্লাসের ডিটেইলস > **তারিখ:** … > **উপস্থাপক:** … > **পত্র-অর্ধ:** … > **আলোচ্য রচনা:** … ## মূল ক্লাস ### 🎧 অডিও <div class="gdrive-audio"> <iframe src="https://drive.google.com/file/d/FILE_ID/preview" title="এই ক্লাসের অডিও" width="100%" height="100%" allow="autoplay" loading="lazy"> </iframe> </div> ### ট্রানস্ক্রিপশন **অধ্যাপক অভ্র বসু:** হুঁ। শোনা যাচ্ছে? **শ্রোতা:** হ্যাঁ স্যার। **শ্রোতা:** হ্যাঁ স্যার। একটু আস্তে— **অধ্যাপক অভ্র বসু:** আচ্ছা। এবার কি বেটার হলো? আমি তাহলে— **শ্রোতা:** একটু আস্তে— **অধ্যাপক শ্রীলা বসু:** আচ্ছা, আমি একটা কথা একটু বলি। সাতটা থেকে আমার ক্লাস নেওয়ার কথা, আমার মনে হয় সেটা আপাতত থাক। সিলেবাস বা কোর্স রিলেটেড যে অ্যাকাডেমিক কথাবার্তা অভ্র বসু বলবেন, সেটা হোক। সেইখান থেকে প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি চলতে থাক, তারপর যদি সময় থাকে আমি একটু কথা বলব। আপাতত আমি রয়েছি। > > > [!more]- সম্পূর্ণ ট্রান্সক্রিপশন দেখুন > > > > **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** হ্যাঁ ঠিক আছে, অভ্র তাহলে শুরু হোক। > > > > > > **অধ্যাপক অভ্র বসু:** আচ্ছা, আমি সকলকে স্বাগত জানাই। > > > > > > এই ইনস্টিটিউটের কোর্সটা সম্পর্কে আপনারা সম্পাদকের কাছে অনেকটাই শুনেছেন। > > > > এই ৬৫ বছর ধরে সিলেবাসটা যেভাবে চলেছে তার কিছু মডিফিকেশন সময়ে সময়ে হয়েছে, কিন্তু তার মূল ফ্রেমওয়ার্কটা প্রায় একইরকম আছে। > > > > > > যে প্রশ্নটা একজন তুললেন যে চিত্রকলা নেই, এই প্রশ্নটা খুব ন্যায্য প্রশ্ন। কিন্তু এই দু বছরের কোর্সে সমগ্র রবীন্দ্রনাথকে ধরে দেওয়াটা খুব কঠিন। ফলে আমরা এমন অনেক জায়গাতেই পাব যেখানে রবীন্দ্রনাথকে আমরা ধরতে পারলাম না, রবীন্দ্রনাথের চিন্তার জগৎ অনেক জায়গায় থেকে যাবে যেগুলোকে আমরা স্পর্শ করতে পারিনি। আসলে এই কোর্সটার পরিকল্পনাটাই এই কারণে যে এটা রবীন্দ্রনাথকে বোঝবার একটা প্রাথমিক উপায় করে দেওয়া। তারপরে বোঝাপড়াটা আপনাদের, এবং সেটা শুধু এই দু বছরের কোর্সের মধ্যে সীমিত থাকুক এটা আমরা চাই না, এটা আমরা প্রত্যাশাও করি না আপনাদের কাছ থেকে। আপনারা রবীন্দ্রচর্চায় আরও নিয়োজিত হবেন এটাই আমাদের দিক থেকে কাম্য। > > > > > > > > এই সূত্রে আরেকটা কথা বলি যে সিলেবাসের যে বিন্যাস, তাতে আপাতত প্রথম পেপারটা, অর্থাৎ রবীন্দ্রজীবনী এবং উনিশ শতক এবং ঠাকুরবাড়ির ইতিহাস এবং রবীন্দ্রজীবনী, এই দুটো প্রথমেই পড়ানো শুরু হয়ে যাবে। রবীন্দ্রজীবনী আমি পড়াব এবং উনিশ শতক পড়াবেন অধ্যাপক নীলরতন সরকার। > > > > > > > > এছাড়া রবীন্দ্রনাথের কবিতা আপনারা কবিতার পেপারটা দেখবেন যে কয়েকটা ভাগ আছে, একটা প্রথম থেকে মানসী পর্যন্ত, তারপর সোনার তরী থেকে ক্ষণিকা পর্যন্ত। তো আপাতত সোনার তরী থেকে ক্ষণিকা এই অংশটা শুরু করবেন অধ্যাপক মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়। > > > > > > > > চিত্রাঙ্গদা নাটক পড়ানো শুরু হবে, পড়াতে শুরু করবেন অধ্যাপক পৃথা ঘোষ। > > > > > > > > সাহিত্য, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য এবং সাহিত্যের পথে তারপরে, পড়াবেন অধ্যাপক দিব্যেন্দু সরকার। > > > > > > > > এবং ছেলেবেলা শুরু করবেন অধ্যাপক কুমকুম চট্টোপাধ্যায়। > > > > > > > > আপাতত সাতটা ক্লাস বরাদ্দ রাখা হয়েছে— > > > > > > > > **শ্রোতা:** স্যার আরেকবার একটু বলবেন প্রথম থেকে কে কি পড়াবেন? একটু মিস করে গেছি। > > > > > > > > **অধ্যাপক অভ্র বসু:** আমি আমি— > > > > > > > > **অধ্যাপক শ্রীলা বসু:** জীবনস্মৃতিটাও থাকছে, জীবনস্মৃতি। > > > > > > > > **অধ্যাপক অভ্র বসু:** ও জীবনস্মৃতি, হ্যাঁ। আচ্ছা আমি আমি গ্রুপে এটা পরে লিখে দিচ্ছি, ঠিক আছে? আমি গ্রুপে লিখে দিচ্ছি কে কি পড়াবেন। > > > > > > > > **শ্রোতা:** ঠিক আছে স্যার। > > > > > > > > **অধ্যাপক অভ্র বসু:** আচ্ছা, এখন কথাটা হচ্ছে যে আমাদের সম্পাদক এ কথাটা বলেছেন যে এই কোর্সে যাঁরা পড়ান তাঁরা সবাই অন্য কোনো কাজে যুক্ত। এই কোর্সটায় তাঁরা ভালোবেসে পড়ান, এটা তাঁদের স্বেচ্ছাশ্রম। এবং এই কারণেই একটা সমস্যা আমাদের অনেক সময়ই থাকে যে আমরা সবসময় প্রত্যেক সপ্তাহে ছটা ক্লাস সমানভাবে অ্যারেঞ্জ করে উঠতে পারি না। এরকম হতে পারে যে কখনো কখনো এক-আধটা ক্লাস মিস হলো। সাধারণত গোটা দিনের ক্লাস মিস হোক এরকমটা আমরা চাই না। মানে এখন যারা সেকেন্ড ইয়ার তারা যদি কেউ থাকেন তারা বলতে পারবেন, সম্ভবত এ বছর গোটা দিনের ক্লাস কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মিস হলো এরকমটা বোধহয় হয়নি। > > > > > > > > তো যাই হোক, কিন্তু কোনদিন একটা কোনদিন দুটো বা যেদিন একটা সেদিন যিনি পড়ালেন তিনি হয়তো একটু বেশিক্ষণ পড়ালেন দুটো ক্লাস দেড় ঘণ্টা করে পড়ালেন। আমরা চেষ্টা করব যাতে ক্লাসগুলো নিয়মিত হয়। মোটের উপর ক্লাস নিয়মিতই হয়, কিন্তু তারপরেও বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এটা আমাদের প্রথমেই স্বীকার করে রাখা ভালো যে এমন হতে পারে যে কোন কোন সপ্তাহে ক্লাস নেবার জন্য শিক্ষক পাওয়া গেল না। বা কোন ক্লাস নেবার জন্য একটা দিনের কোন একটা ক্লাস নেওয়ার জন্য শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। যেমন আগামীকালই সম্ভবত, এখনো আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, কিন্তু সম্ভবত একটাই ক্লাস হবে। অন্য দুটো ক্লাস হয়তো আমরা ব্যবস্থা করতে পারছি না। সামনের সপ্তাহ থেকে আমরা আবার আশা করছি যে সবকটা ক্লাসই নিতে পারব। > > > > > > > > এই ক্লাসের যারা ফ্যাকাল্টি, যারা পড়াবেন আপনাদের, আমাদের সম্পাদক বলেছেন যে তাঁরা সকলেই অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। অনেকেই গ্রুপে যখন ভর্তি হতে চেয়েছেন, ফেসবুকে জানতে চেয়েছেন যে কারা পড়াবেন। আমি সেখানেও লিখেছি, এখানেও আপনাদের বলি যে সবসময় আমাদের পক্ষে এটা বলা সম্ভব হয় না আগে থেকেই যে কারা কারা পড়াবেন। কেননা অনেক সময় এরকমটা হয় কোন একটা বছরে একজন বললেন যে এ বছরটা আমি পারছি না বা এ বছরটা আমার একটু অসুবিধে আছে। এখন তখন তার পরিবর্তে আরেকজন কেউ পড়াচ্ছেন বা আমরা এখন কারোর কথা বললাম আপনাদের, তিনি হয়তো ক্লাস নিতে পারছেন না, এরকমটা হতে পারে। > > > > > > > > তবু আমি মোটামুটি আমাদের যারা এই শিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের একটা নামের তালিকা আপনাদের দিয়ে রাখি। > > > > > > > > আমাদের এখানে পড়াচ্ছেন কুমকুম চট্টোপাধ্যায়। তিনি পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপিকা ছিলেন ভিক্টোরিয়া কলেজে, রিটায়ার করেছেন। পড়াবেন অধ্যাপক— > > > > > > > > **অধ্যাপক শ্রীলা বসু:** বেথুন কলেজ, সরি। > > > > > > > > **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** বেথুন কলেজে ছিলেন। > > > > > > > > **অধ্যাপক অভ্র বসু:** হ্যাঁ? > > > > > > > > **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** হ্যাঁ বেথুন কলেজ। > > > > > > > > **অধ্যাপক অভ্র বসু:** বেথুন কলেজ, হ্যাঁ বেথুন কলেজ। সরি সরি, আমিই ভুল বলেছি। হ্যাঁ। > > > > > > > > অধ্যাপক গোপা দত্তভৌমিক। গোপাদি যাদবপুরের বাংলার অধ্যাপিকা ছিলেন, উনিও রিটায়ার করেছেন। যাদবপুরের অধ্যাপকদের মধ্যে অধ্যাপক জয়দীপ ঘোষ এবং অধ্যাপক ছন্দম চক্রবর্তী গত সেশনে ক্লাস নিয়েছেন। > > > > > > > > এছাড়া দিব্যেন্দু সরকার, অধ্যাপক দিব্যেন্দু সরকার, তিনিও একটি কলেজে পড়ান। আমার এক্ষুনি তার কলেজটার নাম মনে পড়ছে না, আমাকে মার্জনা করবেন। শ্রীলা কি বলতে পারবে দিব্যেন্দুর কলেজটার নাম? > > > > > > > > আচ্ছা। > > > > > > > > **অধ্যাপক শ্রীলা বসু:** হ্যাঁ, দিব্যেন্দুর কলেজের নাম হচ্ছে সম্মিলনী কলেজ, দক্ষিণ কলকাতায়। > > > > > > > > **অধ্যাপক অভ্র বসু:** আচ্ছা। এছাড়া অধ্যাপক মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, অধ্যাপক শ্রীলা বসু, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ রায়, অধ্যাপক নীলরতন সরকার, অধ্যাপক শান্তনু মণ্ডল এবং আমি অধ্যাপক অভ্র বসু—আমরা সকলেই বিশ্বভারতীর। আমরাও আশা করছি যে সকলেই যদি নাও হয় তো প্রায় সবাই ক্লাস নেব। > > > > > > > > এছাড়া ক্লাসের সঙ্গে যুক্ত আছেন অভিষেক ঘোষাল। অভিষেক পড়ান কৃষ্ণনাথ কলেজ, বহরমপুর। পৃথা ঘোষ, অধ্যাপক পৃথা ঘোষ। পৃথা আছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলোজফি ডিপার্টমেন্টে। > > > > > > > > আর কার নাম আমি বলতে ভুললুম? > > > > > > > > মোটামুটি এই নামগুলো রইল। এর পরেও হয়তো এক-আধজন যুক্ত হবেন বা এক-আধজন থাকবেন না। কিন্তু মোটামুটি যে কথাটা সম্পাদক বলেছেন যে এঁরা সকলেই মানে খুব যত্ন করে ক্লাস নেবেন আপনাদের। এবং আমরা যখন এই ক্লাসটা নিই, যারা দ্বিতীয় বর্ষের কেউ কেউ আছেন তারা জানেন যে এই ক্লাসটার একটা অংশ নিশ্চয়ই একেবারে লেকচার মোড। কেননা সত্যি সত্যিই অনলাইন ক্লাস চলাকালীন দুরকমভাবে সম্ভব নয় যে ইন্টারেক্টিভ হবে আগাগোড়া জিনিসটা। কিন্তু তারপরেও ক্লাস শেষ করার কিছুটা আগে আমরা প্রায় সকলেই খানিকটা সময় রাখি যে সময়টায় আপনাদের সঙ্গে আমরা একটু ইন্টার‍্যাক্ট করতে পারি। > > > > > > > > যে কথাটা সম্পাদক বলেছেন আমি আরেকবার মনে করিয়ে দিই যে আমাদের ফার্স্ট ইয়ার এবং সেকেন্ড ইয়ার একসঙ্গে ক্লাস হয়। এবার যারা সেকেন্ড ইয়ার তারা আসলে ফার্স্ট ইয়ারে পড়েছেন ফিফথ, সিক্সথ, সেভেন্থ এবং এইটথ পেপার। এ বছর তারা পড়বেন ফার্স্ট থেকে ফোর্থ পেপার। > > > > > > > > একটা বড় প্রশ্ন রেকর্ডিং নিয়ে। সত্যি সত্যিই আমাদের ইনস্টিটিউটের যা ইনফ্রাস্ট্রাকচার তাতে রেকর্ডিংটা আমাদের পক্ষে করাটা কঠিন। আমাদের এই এতে হয়তো রেকর্ডিং হতে পারে, কিন্তু সেই রেকর্ডিং হয়ে তারপর শেয়ার করবার মতন ব্যবস্থা আমাদের সবসময় থেকে ওঠে না। কেননা আপনাদের এই যে ক্লাস, আপনারা যে এই ক্লাসে রোজ যুক্ত হবেন সপ্তাহে দুদিন করে, এবং কে কবে ক্লাস নেবেন সেই রুটিনটা সকলের সঙ্গে অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই পুরো কাজটি সামলান আমাদের ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ছাত্রী অমৃতা মুখোপাধ্যায়। অমৃতার সঙ্গেও আপনাদের নিশ্চয়ই যোগাযোগ হয়ে যাবে। হয়তো অমৃতাক আপনারা খুব সামনে দেখতে পাবেন না, কিন্তু গ্রুপে নিশ্চয়ই অমৃতার উপস্থিতিটা আপনারা বুঝতে পারবেন। প্রত্যেকদিন ক্লাসের নোটিশ সে দেয় এবং প্রত্যেকদিন সে ছাত্রদের ঢোকানো এবং ক্লাসটার সমস্ত দিক সে নজরে রাখে। তার সঙ্গে এই কাজে থাকেন তন্দ্রা চক্রবর্তী। > > > > > > > > এদের কাজটা এতটাই নেপথ্যে যে আমরা সবসময় খেয়ালও রাখি না। কিন্তু এদের ভূমিকাটা ছাড়া এই ক্লাসটা নেওয়া কিন্তু আমাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল। কেননা এরাও শিক্ষক দুজনেই—অমৃতা এবং তন্দ্রাদি। তারাও তাদের কাজকর্ম সমস্ত কিছু সেরে সন্ধেবেলাটা সপ্তাহে দুদিন এই কাজে ব্যয় করেন। > > > > > > > > ফলে এইটা আপনারা জানবেন যে এই প্রতিষ্ঠানটা কিন্তু আসলে একটা বিরাট সমবায়ে চলে। অনেকের ভূমিকাটা হয়তো খুব প্রত্যক্ষ আপনারা দেখতে পাবেন ক্লাসের রোজ আমাদের, কিন্তু তার পিছনে বহু জনের বহু ভূমিকা আছে সে কথাটা আমাদের স্বীকার করতেই হবে। এবং এইখানে আরও যে কথাটা বলবার যে এই কাজগুলো যারা করেন তারা অধিকাংশই কিন্তু আমাদের এই ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী। > > > > > > > > আপনারা এখন ‘রবীন্দ্র জ্ঞানতীর্থ’ উপাধির জন্য দু বছরের কোর্স করতে চলেছেন। আপনাদের জানিয়ে রাখি যে আমি নিজেও এই কোর্সটা ১৯৯১ থেকে ৯৩ করেছি। > > > > > > > > ফলে ইনস্টিটিউটে যারা ভর্তি হন, অনলাইনে কতটা নিশ্চয়ই সম্ভব নয়, কিন্তু অফলাইন যখন ছিল তখন একটা কথা চালু ছিল যে ইনস্টিটিউটে ঢুকবার দরজা আছে, বেরনোর দরজা নেই। আমরা একটা পরিবারের মতন। অফলাইনে হয়তো আপনারা সেটার পরিচয় অনেক ভালো করে পেতেন, অনলাইনে পাওয়া সম্ভব নয়। বিশেষত যারা বাইরে থেকে আছেন—বাংলাদেশ থেকে অনেকে আছেন, ইউকে থেকে আছেন এবং আরও আরও নানা জায়গা থেকে অনেকে আছেন। ফলে এবং ভারতবর্ষেরও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষরা এই ক্লাসটা করছেন। ফলে সকলের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ যোগাযোগ হবে এরকমটা হয়তো নয়, কিন্তু আমরা চাইব যে সকলের সঙ্গেই আমরা যুক্ত থাকি। > > > > > > > > এবং এইখানে আরেকটা কথা একটু বলি যে ইনস্টিটিউটের অ্যাক্টিভিটির মধ্যে ক্লাসটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু একমাত্র অংশ নয়। আমাদের ইনস্টিটিউটে গত ৬০ বছর ধরে অজস্র বই প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের একটা পাবলিকেশন আছে। আমাদের একটা পত্রিকা বেরোয় যে পত্রিকার নাম হচ্ছে ‘রবীন্দ্রভাবনা’। আপনারা এই কোর্সের যারা ছাত্র-ছাত্রী তারা এই ‘রবীন্দ্রভাবনা’ বিনামূল্যে পেতে এনটাইটেল্ড। তবে আমাদের ইনস্টিটিউটে যখন আসবেন আপনারা জানালে আপনাদের সেই সংখ্যাগুলো দিয়ে দেওয়া হবে। এটা পাঠানোর ব্যবস্থা সবসময় আমাদের পক্ষে করানো করা সম্ভব হয় না। > > > > > > > > আর ইনস্টিটিউটে সারা বছর অজস্র সেমিনার এবং অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। গতকালকেই ইনস্টিটিউটে একটা বক্তৃতা ছিল রবীন্দ্রনাথের রাশিয়া ভ্রমণ সংক্রান্ত। যিনি রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলার কথা বলছিলেন তাকে জানিয়ে রাখি যে প্রত্যেক বছর জন্মাষ্টমীর দিন আমরা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপরে একটা অনুষ্ঠান করি। জন্মাষ্টমীটাই অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মান্য জন্মদিন, মানে পরিবারের মান্য। ইংরেজি তারিখটা নয়। ফলে ইনস্টিটিউটে প্রত্যেক বছর এই অনুষ্ঠান হয়। তাতে অনেক সময় ছবি সংক্রান্ত আলোচনা হয়, অবনীন্দ্রনাথই বেশি রবীন্দ্রনাথও আসেন। অনেক সময় অবনীন্দ্রনাথের সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হয়, তার নাটক নিয়ে আলোচনা হয়, অবনীন্দ্রনাথের লেখা গান সেখানে পরিবেশিত হয়। > > > > > > > > এখন এই যে অনুষ্ঠান সারা বছর ধরে লেগে থাকে, এতে যদি আপনারা যুক্ত হন আমাদের ভালো লাগবে। যাদের পক্ষে সম্ভব তারা যদি এই অনুষ্ঠানগুলোয় আসেন আপনাদের সঙ্গে আমাদের একটা প্রত্যক্ষ যোগাযোগের পরিসর তৈরি হবে। যারা বিদেশে আছেন, যারা শহরের বাইরে আছেন, তারাও যখন শহরে আসবেন আমাদের সোম এবং বৃহস্পতি এই দুদিন ইনস্টিটিউট সন্ধেবেলা খোলা থাকে। আপনারা যদি কখনো আসেন ইনস্টিটিউটে এবং একটু আগে জানিয়ে আসেন তাহলে আপনাদের সঙ্গে আমাদের একটা মেলবন্ধনের পথ তৈরি হয়। > > > > > > > > আমি আবারও বলি যে আমাদের ইনস্টিটিউটটা ইনস্টিটিউটের কাজকর্মের ধরণটা খুব ইনফরমাল। > > > > > > > > রেকর্ডিংয়ের প্রসঙ্গে বলি যে সকলকে তো রেকর্ডিং করতে হবে এমনটা নয়। কেননা গত পাঁচ-ছ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে যে কেউ না কেউ রেকর্ডিং করেন। আপনারা ১০০ জনের বেশি আছেন এখানে, ১৫০ জনের কাছাকাছি আছেন। আপনাদের মধ্যে রেকর্ডিং করতে পারবেন এইরকম যোগ্য মানুষ নিশ্চয়ই একাধিক থাকবেন। আপনারা রেকর্ডিং করে আপনাদের গ্রুপে সেগুলোকে শেয়ার করবেন। এবং এত বছর এইটাই দেখে এসেছি যে কেউ কেউ একটা আলাদা করে গুগল ড্রাইভ খুলে নিয়েছেন এই ইনস্টিটিউটের ক্লাসের রেকর্ডিংগুলো রাখবার জন্য। > > > > > > > > ফলে আমার মনে হয় না যে রেকর্ডিং নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। কিন্তু যারা রেকর্ডিং করতে পারেন, যাদের সেই যোগ্যতা আছে, ক্ষমতা আছে, উৎসাহ আছে, তারা একটু এগিয়ে এলে বাকি সকলেরই সুবিধে। এটা ঠিক যে অনেকেরই পক্ষে এই ক্লাস একেবারে নিয়ম করে প্রত্যেকটা করা সম্ভব হয় না। তারা অনেকেই রেকর্ডিংয়ের ওপর নির্ভর করেন। এবং আমরা তো সন্ধেবেলায় ক্লাস নিচ্ছি, কিন্তু যিনি ইউকে থেকে ক্লাস করছেন তিনি বারবারই আমাকে জানিয়েছেন যে তার পক্ষে ওইটা তার অফিস আওয়ারের মধ্যে পড়ে। ফলে সেই সময়টা তার পক্ষে এই ক্লাস করা সম্ভব নয় যদি না রেকর্ডিং থাকে। আবারও বলছি যে আমরা আশা করি যে আপনারাই উদ্যোগ করে রেকর্ডিং করবেন এবং আপনারাই নিজেদের মধ্যে এই গ্রুপে একটু আলোচনা করে নিতে পারেন। যারা সেকেন্ড ইয়ার তারা রেকর্ডিং করেছেন সারা বছর, ফলে তাদের সাহায্য আপনারা পাবেন। আপনারা একা নন, এটা মনে রাখবেন। > > > > > > > > আজকের ক্লাসে অংশুমানদা আছেন কিনা আমি জানি না। অংশুমান ভৌমিক—হ্যাঁ, অংশুমানদাকে দেখতে পাচ্ছি। তিনি তার ক্লাস নোট, বিস্তারিত ক্লাস নোট, প্রত্যেকদিন গ্রুপে পোস্ট করেন সকলের জন্য। ফলে এই কোর্সে দেখবেন এখানে তো কোন ফার্স্ট-সেকেন্ড হওয়ার মারামারি নেই, এখানে কে বেশি ভালো কে বেশি মন্দ এর লড়াই নয়। এখানে সবাই মিলে ভালোবেসে রবীন্দ্রনাথ পড়তে আসা। > > > > > > > > অনেকেই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে জানতে চেয়েছেন যে এই কোর্সটা পড়ে কি হবে, কি লাভ হবে। এবং তাদের ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে সবসময়ই জানানো হয় যে রবীন্দ্রনাথ পড়া ছাড়া আর কোন লাভ নেই। রবীন্দ্রনাথ পড়ার আনন্দটুকু ছাড়া আর কোন লাভ নেই। > > > > > > > > ফলে এই কোর্সটা আপনারা আনন্দ করে করবেন এবং সেই আনন্দের সহযোগিতার হাত আপনারা প্রত্যেকে পরস্পরকে বাড়িয়ে দেবেন। প্রথম কদিন নিশ্চয়ই এই চিন্তা হবে কে রেকর্ড করছেন কে রেকর্ড করছেন না, কিন্তু দেখবেন এটা একেবারেই প্রাথমিক সংকট, উপায় নিশ্চয়ই বেরোবে। > > > > > > > > আপাতত আমার কথা এই পর্যন্ত। আমার সঙ্গে যেহেতু আপনাদের সপ্তাহে সপ্তাহে ক্লাসে দেখা হবে, সুতরাং অন্যান্য কথাবার্তা সেখানেই হবে। > > > > > > > > ক্লাসের বিষয়ে দুটো জিনিস একটু বলে রাখি। যে সাধারণভাবে অনলাইন ক্লাসে আমরা চেষ্টা করি সময়টা ঠিক রাখতে। অর্থাৎ একেবারেই ছটা থেকে শুরু করতে। কিন্তু আজকেও যেমন হলো, প্রত্যেকদিনই সেটা হয় যে ছটার ক্লাসটা অন্তত আমাদের পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। কেননা তা নইলে সকলে যখন অ্যাডমিট হতে চাইছেন, তখন ওই মানে ৫টা ৫৫ থেকে ৬টা ৫ এই ১০ মিনিটে ১০০ জন ঢুকবে। ফলে ওখানে একটা একটা সময়ের সংকট কাজ করে। ফলে প্রথম ক্লাসটা হয়তো দু-পাঁচ মিনিট দেরি হবে, কিন্তু পরের ক্লাসগুলো যথাসময়ে শুরু হয়ে যায়। > > > > > > > > দুটো কথা বলে রাখি। একটা হলো যে অনেক সময়, অনেক সময়টা খুবই আমি বলব রেয়ারলি, কিন্তু বিশেষত যখন পরীক্ষা এগিয়ে আসে, কোর্সটা শেষ করবার একটা তাড়া থাকে বছরের শেষের দিকে, হয়তো এরকম হতে পারে যে কোনো কোনো শিক্ষক, সকলে নন, তার নির্ধারিত শনি এবং শুক্রর ক্লাসের বাইরে আপনাদের সঙ্গেই আলোচনা করে আরেকটা দিনের ক্লাসের ব্যবস্থা করলেন। ফলে এই এই এই সম্ভাবনাটা নিশ্চয়ই এক্ষুণি হবে না। এটা নিশ্চয়ই মানে এ বছরই হবে না। কিন্তু যখন সিলেবাস শেষ করবার একটা তাড়া থাকে বা আমরা হয়তো ঠিক করে দিলাম যে অমুক তারিখ আমাদের ক্লাস ডিজলভ করবে, কিন্তু যারা পড়াচ্ছেন তাদের তখনো হয়তো কিছুটা পড়ানো বাকি, এইরকম সময় তারা হয়তো এক-আধটা এক্সট্রা ক্লাস নিতে পারেন। > > > > > > > > আর দ্বিতীয় কথাটা হলো যে পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যাপারে আমাদের সম্পাদক বলেছেন যে আপনাদের কাছে সমস্ত রিসোর্স থাকবে, আপনাদের ক্লাস নোট থাকবে, আপনাদের সঙ্গে টেক্সট থাকবে, রেফারেন্স বই থাকবে, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস থাকবে, এভরিথিং। > > > > > > > > কেবল এইটা একটু মনে করিয়ে দিই যে আমাদের এই পুরো কোর্সটায় পরীক্ষাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আপনাদের এই ডিপ্লোমাটা পাওয়ার জন্য—পরীক্ষা এবং তারপর প্রবন্ধ। কিন্তু আমরা চাই যে পরীক্ষাটা আপনাদের লক্ষ্য না হোক। আপনারা কিভাবে রবীন্দ্রনাথ বুঝছেন, আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে ক্লাসে কথা বলছি সেইগুলোতে সেইগুলো নিয়ে আপনাদের বোঝাপড়া কিরকম হচ্ছে, আমরা পরীক্ষার খাতায় কিন্তু সেটাই এক্সপেক্ট করি। আমরা পরীক্ষার খাতায় এটা এক্সপেক্ট করি না যে আপনারা একেবারে এম.এ. ক্লাসের নোটের মতন সমস্ত রেফারেন্স দিয়ে অনেক বই ঘেঁটে রেফারেন্স বই ঘেঁটে উত্তর তৈরি করবেন। আমরা কিন্তু চাই রেফারেন্স বই নিশ্চয়ই পড়বেন, সেটা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। বরং সেটা আমি আপনাদের উৎসাহিতই করব তাতে। > > > > > > > > কিন্তু রবীন্দ্রনাথ পড়তে গেলে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে ভালো রেফারেন্স আর কিছু নেই। আমরা যখন বিশেষত কবিতা, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি পড়ব, তখন কিন্তু আমাদের রেফারেন্স বইও দ্য টেক্সট ইটসেলফ। আমরা যদি গোরা পড়ি, তাহলে গোরা আমাদের শুধু টেক্সট বই নয়, গোরা আমাদের রেফারেন্স বইও। ফলে খুব ভালো করে আমরা টেক্সটটা পড়ব। রবীন্দ্রনাথ পড়ব। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে নিশ্চয়ই পড়ব, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ না পড়ে শুধু পরীক্ষা পাসের জন্য কয়েকটা নোট দেখে পরীক্ষা দিয়ে দিলাম, আপনারা পাস করবেন তাতে, কিন্তু আমরা নিশ্চিত আপনারা কেউ সেই জন্য এই কোর্সে আসেননি। আপনাদের নিশ্চিতভাবে রবীন্দ্রনাথকে জানবার একটা আকর্ষণ থেকেই আপনারা এসেছেন। > > > > > > > > আপাতত এই পর্যন্ত আমার কথা। > > > > > > > > শ্রীলা আপাতত ক্লাস নিতে শুরু করুক। যদি সময় থাকে তাহলে আমি শেষকালটা একটু কথা বলব, নইলে শ্রীলা দেড় ঘণ্টা নিয়ে নিতে চাইলে শ্রীলা নিয়ে নিতে পারেন। ## সারাংশ - মূল বক্তব্য ইত্যাদি > [!more]- শর্ট ইন্ট্রো > টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট (Tagore Research Institute) পরিচালিত দুই বছর মেয়াদী ‘রবীন্দ্র জ্ঞানতীর্থ’ ডিপ্লোমা পাঠ্যক্রমের (২০২৬ ব্যাচ) ওরিয়েন্টেশন পর্বে অধ্যাপক অভ্র বসুর বক্তব্য এটি। এই বক্তব্যে তিনি পাঠ্যক্রমের মূল দর্শন, শিক্ষক ও ক্লাসের বণ্টন, ইনস্টিটিউটের ঐতিহ্য ও স্বেচ্ছাশ্রমের পরিবেশ, পরীক্ষা ও রবীন্দ্রপাঠের গভীর অভিলক্ষ্য নিয়ে বিশদ আলোকপাত করেছেন। রবীন্দ্রনাথকে নিছক পরীক্ষা পাসের নোটে সীমাবদ্ধ না রেখে টেক্সটের গভীর নিবিড় পাঠ এবং রবীন্দ্র-চর্চার মূল আনন্দটুকু পাওয়াই যে এই কোর্সের একমাত্র লক্ষ্য, তা তিনি তুলে ধরেছেন। > [!more]- পরিভাষা / শব্দ / কী-টার্মস > > | পরিভাষা / শব্দ | অর্থ ও প্রেক্ষাপট | > | :--- | :--- | > | রবীন্দ্র জ্ঞানতীর্থ: | টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক দুই বছরের পাঠ্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত করার পর প্রদত্ত ঐতিহ্যবাহী ডিপ্লোমা উপাধি | > | স্বেচ্ছাশ্রম: | প্রতিষ্ঠানের সমস্ত শিক্ষক, গবেষক ও সংগঠক কোনো আর্থিক পারিশ্রমিক ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার তাগিদে পাঠদান ও পরিচালনা করেন।| > | সমবায়িক প্রতিষ্ঠান: | কোনো সহায়ক বা বাজারের নোটের ওপর নির্ভর না করে স্বয়ং রবীন্দ্র-রচনাবলি বা মূল টেক্সটকে প্রধান ও শ্রেষ্ঠ রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে পাঠ করার পদ্ধতি। | > | দ্য টেক্সট ইটসেলফ (The Text Itself): | কোনো সহায়ক বা বাজারের নোটের ওপর নির্ভর না করে স্বয়ং রবীন্দ্র-রচনাবলি বা মূল টেক্সটকে প্রধান ও শ্রেষ্ঠ রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে পাঠ করার পদ্ধতি। | > | রবীন্দ্রভাবনা: | টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নিয়মিত নিজস্ব গবেষণাধর্মী পত্রিকা, যা কোর্সের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাওয়ার অধিকারী। | > | ইনফর্মাল আবহ: | প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক অনমনীয়তা মুক্ত আন্তরিক, পারিবারিক ও খোলামেলা শিক্ষাদানের বাতাবরণ। | > [!more]- কী পয়েন্টস > > [!more]- পাঠ্যক্রমের ফ্রেমওয়ার্ক ও সূচনা: > > গত ৬৫ বছর ধরে এই পাঠ্যক্রমের মূল ফ্রেমওয়ার্ক প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। দু’বছরের কোর্সে সামগ্রিক রবীন্দ্রনাথকে সম্পূর্ণ ধরা প্রায় অসম্ভব; এই কোর্সটি মূলত রবীন্দ্রনাথকে বোঝার একটা সামগ্রিক প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে দেয়। > > > [!more]- শিক্ষক ও বিষয় বণ্টন: > > |**বিষয় / ক্ষেত্র**|**সংশ্লিষ্ট শিক্ষক / দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি**|**প্রতিষ্ঠান / অবস্থান**| > > |---|---|---| > > |**রবীন্দ্রজীবনী**|অধ্যাপক অভ্র বসু|বিশ্বভারতী| > > |**উনিশ শতক ও ঠাকুরবাড়ির ইতিহাস**|অধ্যাপক নীলরতন সরকার|বিশ্বভারতী| > > |**কবিতা (সোনার তরী থেকে ক্ষণিকা)**|অধ্যাপক মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়|বিশ্বভারতী| > > |**চিত্রাঙ্গদা (নাটক)**|অধ্যাপক পৃথা ঘোষ|রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়| > > |**সাহিত্য ও সাহিত্যের পথে**|অধ্যাপক দিব্যেন্দু সরকার|সম্মিলনী মহাবিদ্যালয়| > > |**ছেলেবেলা**|অধ্যাপক কুমকুম চট্টোপাধ্যায়|প্রাক্তন অধ্যাপিকা, বেথুন কলেজ| > > |**জীবনস্মৃতি**|অধ্যাপক শ্রীলা বসু|বিশ্বভারতী| > > |**ক্লাস রুটিন ও নোটিশ সমন্বয়**|অমৃতা মুখোপাধ্যায় ও তন্দ্রা চক্রবর্তী|প্রাক্তন ছাত্রী ও গবেষক| > > > [!more]- **সমবেত ও সমান্তরাল ক্লাস পদ্ধতি:** > > প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস একসঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়। এক বছর অন্তর আবর্তিত হওয়ার ফলে এ বছর শিক্ষার্থীরা ১ম থেকে ৪র্থ পত্র পড়বেন এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্ররা পূর্বে ৫ম থেকে ৮ম পত্র পড়ে এখন ১ম থেকে ৪র্থ পত্র পড়ছেন।। > > > [!more]- **স্বেচ্ছাশ্রম ও ক্লাসের বাস্তবতা:** > > শিক্ষকরা সবাই বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এবং এই কোর্সে স্বেচ্ছাশ্রমে পড়ান। ফলে মাঝে মাঝে কর্মব্যস্ততার কারণে ক্লাসের সময়সূচিতে সামান্য রদবদল বা বিকল্প ক্লাসের সমন্বয় ঘটতে পারে। > > > [!more]- **নেপথ্য কর্মী ও সমন্বয়:** > > ক্লাসের রুটিন তৈরি, শিক্ষক ও ছাত্রদের যোগাযোগ রক্ষা এবং নিয়মিত গুগল মিটে ক্লাস পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করেন প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্রী অমৃতা মুখোপাধ্যায় এবং তন্দ্রা চক্রবর্তী। > > > [!more]- **ক্লাসের রেকর্ডিং সংক্রান্ত সতর্কতা:** > > ইনস্টিটিউটের নিজস্ব সার্ভার বা পরিকাঠামোয় অফিসিয়াল রেকর্ডিং ও বিতরণ ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকেই স্বেচ্ছায় কেউ কেউ রেকর্ডিং করে গুগল ড্রাইভের মাধ্যমে সহপাঠীদের (বিশেষ করে প্রবাসী ও চাকুরিজীবী) সাহায্য করে থাকেন। > > > [!more]- **একাডেমিক শৃঙ্খলা ও ইন্টার‍্যাকশন:** > > সাধারণভাবে নির্ধারিত সময়ে (সন্ধ্যা ৬টায়) ক্লাস শুরু হয়। প্রথম ক্লাসটিতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করানোর জন্য ৪–৫ মিনিট সময় লাগে। ক্লাসের বেশিরভাগ অংশ নিবিড় লেকচার মোডে চললেও প্রতিটি ক্লাসের শেষাংশে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময়ের সময় রাখা হয়। > > > [!more]- **মূল টেক্সট পাঠ ও পরীক্ষার দর্শন:** > > পরীক্ষায় বই, নোট, ইন্টারনেট দেখার পূর্ণ সুযোগ থাকে (ওপেন-বুক ফরম্যাট)। কিন্তু মুখস্থ নোট বা বাজারি উত্তরের বদলে শিক্ষার্থীরা কতটা নিজের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে মূল রবীন্দ্র-টেক্সট উপলব্ধি করতে পেরেছেন, পরীক্ষার খাতায় সেটাই কাম্য। > [!more]- কালপঞ্জি (Timeline) > > > ** টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও রবীন্দ্র সাহিত্য পাঠ্যক্রমের কালপঞ্জি ** > ১৯৬১ : রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ উদযাপন এবং স্থায়ী চর্চাকেন্দ্রের তাগিদ > ১৯৬৫ : টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও পাঠ্যক্রমের সূচনা (৬৫ বছর ধরে সিলেবাসের মূল ধারা বহমান) > ১৯৮০ : কালীঘাট পার্কে নিজস্ব স্থায়ী আবাসন ‘রবীন্দ্র চর্চা ভবন’ প্রতিষ্ঠা > ১৯৯১ - ১৯৯৩ : অধ্যাপক অভ্র বসু নিজে এই ইনস্টিটিউটে ছাত্র হিসেবে দু'বছরের কোর্স সম্পন্ন করেন > ২০২৬ : বর্তমান শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু (অগাস্ট) > ২০২৭ : প্রথম পর্বের বার্ষিক পরীক্ষা (১ম থেকে ৪র্থ পত্র) > ২০২৮ : দ্বিতীয় পর্বের বার্ষিক পরীক্ষা (৫ম থেকে ৮ম পত্র) ও বাধ্যতামূলক প্রবন্ধ জমা > ২০২৯ : সমাবর্তন এবং ‘রবীন্দ্র জ্ঞানতীর্থ’ ডিপ্লোমা প্রদান <!-- সময়রেখায় পুরোনো থেকে নতুন ক্রম রাখুন। সম্ভাব্য তারিখ হলে তা স্পষ্ট করে লিখুন। --> > [!more]- উল্লিখিত বই ও অন্যান্য রিসোর্সেস > - **রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূল সাহিত্যকর্ম:** > > কাব্য:_ ‘মানসী’, ‘সোনার তরী’, ‘ক্ষণিকা’ ইত্যাদি > > নাটক:_ ‘চিত্রাঙ্গদা’ > > _প্রবন্ধ:_ ‘সাহিত্য’, ‘সাহিত্যের পথে’ > > _আত্মজীবনীমূলক গদ্য:_ ‘ছেলেবেলা’, ‘জীবনস্মৃতি’ > > _উপন্যাস:_ ‘গোরা’ (যা একইসঙ্গে টেক্সট ও রেফারেন্স) > > > > **ইনস্টিটিউটের নিজস্ব রিসোর্স:** > > পত্রিকা: ‘রবীন্দ্রভাবনা’ (ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে প্রাপ্য) > > প্রকাশনা: ইনস্টিটিউট থেকে বিগত ৬০ বছরে প্রকাশিত অজস্র গ্রন্থ > > > > **লাইব্রেরি ও আর্কাইভ:** কালীঘাট পার্কের রবীন্দ্র চর্চা ভবনে সোম ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উন্মুক্ত থাকে > > [!more]- রিলেটেড রিসোর্সেস > **রবীন্দ্রজীবনী ও তথ্যসূত্র:** রবীন্দ্র-জীবনকথা_ — প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় (এক খণ্ডে প্রাথমিক ও সুখপাঠ্য জীবনী) _রবীন্দ্রজীবনী_ (৪ খণ্ড) — প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় _রবিজীবনী_ (১০ খণ্ড) — প্রশান্তকুমার পাল (আকর তথ্যের বিশদ ভাণ্ডার) _রবিজীবন_ — বিজন ঘোষাল _Rabindranath Tagore: A Biography — কৃষ্ণ কৃপালনী _Rabindranath Tagore: The Myriad-Minded Man_ — কৃষ্ণা দত্ত ও অ্যান্ড্রু রবিনসন > > **সাহিত্য ও জীবন পরিক্রমা:** _রবীন্দ্রনাথ_ ও _কাব্য পরিক্রমা_ — অজিতকুমার চক্রবর্তী _রবীন্দ্র কাব্য প্রবাহ_ — প্রমথনাথ বিশী _রবীন্দ্র সাহিত্যের ভূমিকা_ — নীহাররঞ্জন রায় _রবীন্দ্র সৃষ্টি সমীক্ষা_ — শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় _বাংলা চরিত সাহিত্য_ — দেবীপদ ভট্টাচার্য ## ভাববার বিষয় > > [! more]- **সংক্ষিপ্ত:** > > - ‘রবীন্দ্র জ্ঞানতীর্থ’ পাঠ্যক্রমটির মূল উদ্দেশ্য কী? এটি কি কোনো ডিগ্রি? > > - এই কোর্সে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস কেন একসঙ্গে নেওয়া হয়? > > - ক্লাসের অভ্যন্তরীণ রুটিন ও টেকনিক্যাল সমন্বয়ের দায়িত্ব কারা পালন করেন? > > > [! more]- **বড়সড়** > > - “রবীন্দ্রনাথ পড়তে গেলে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে ভালো রেফারেন্স আর কিছু নেই” — অধ্যাপক অভ্র বসুর এই বক্তব্যের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। > > - টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র কীভাবে একটি বৃহৎ সমবায় ও স্বেচ্ছাশ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে? > > - পাঠ্যক্রমে ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মুখস্থ নোটের পরিবর্তে অন্তর্দৃষ্টি ও মূল টেক্সট পাঠের ওপর কেন জোর দেওয়া হয়েছে? > > [!more]- ক্যুইজ > > আসেনি > > > [!more]- ওয়ার্কশীট > > আসেনি ফীডব্যাক ফর্ম নিচে