# পাঠ 00 - অয়নেন্দ্রনাথ বসু - স্বাগত ভাষণ >[!info] ক্লাসের পরিচয় > **তারিখ:** > **উপস্থাপক:** > **পত্র-অর্ধ:** ৪ > **আলোচ্য রচনা:** ## 🎧 অডিও <div class="gdrive-audio">  <iframe src="https://drive.google.com/file/d/1U9RpUHwPLqHHVQAKVNdIPrMW5BwlIWkD/preview"  title="অয়নেন্দ্র বসু - স্বাগত ভাষণ"  width="100%"  height="110"  allow="autoplay"  loading="lazy">  </iframe>  </div> ## ট্রান্সক্রিপশন <details> <summary><strong>সম্পূর্ণ ট্রান্সক্রিপশন খুলুন</strong></summary> **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আচ্ছা ছটা পাঁচ বাজে আমার ঘড়িতে। আমি এবার শুরু করি তাহলে। অভ্র, এই এডমিট করার ব্যাপারটা তাহলে একটু দেখতে হবে। আচ্ছা, আপনারা... শুরু করার আগে আমি একটু বলে রাখি যে, আমি হয়তো মিনিট পঁচিশেক বলবো। তারপরে অভ্র বসু হয়তো দশ-পনেরো মিনিট বলবেন। তারপরে বাকিটা সময়—প্রথম ঘণ্টার বাকি সময়টা—আমরা আপনাদের যা প্রশ্ন থাকবে তার উত্তর দেবার চেষ্টা করবো। শুরু করার আগে প্রথম যেটা দরকার সে, আপনারা সবাই আপনাদের মাইক্রোফোনগুলো একটু মিউট করে রাখুন। কারণ বলার সময় কারো খেয়াল না থাকলে যদি আওয়াজ আসতে থাকে, তখন একটা ডিস্টার্বেন্স হবে। এবং ভিডিওটা আপনারা অন রাখতে পারেন, অফ রাখতে পারেন আপনার ইচ্ছানুসারে; কিন্তু মাইক্রোফোনটা মিউট করে রাখুন। বেশ। আমার নাম অয়নেন্দ্রনাথ বসু। আমি টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বর্তমান সম্পাদক। এবং টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের এই রবীন্দ্র সাহিত্য পাঠ্যক্রমে স্বাগত জানাই। এটা আমি প্রথমে আমাদের প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে কিছু কথা বলবো এবং তারপরে আমাদের পাঠ্যক্রম সম্বন্ধে কিছু কথা বলবো। প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে এবং পাঠ্যক্রম সম্বন্ধে আমি যেটুকু বলবো, সেটা প্রাইমারিলি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কথাগুলোই বলবো। একাডেমিক কথাগুলো আমার পরে অধ্যাপক অভ্র বসু বলবেন। প্রথম হচ্ছে, আপনারা ২০২৬ সালের রবীন্দ্র সাহিত্য পাঠ্যক্রমে ভর্তি হয়েছেন। এই পাঠ্যক্রমটি কিন্তু একটা অত্যন্ত প্রাচীন পাঠ্যক্রম। আমাদের প্রতিষ্ঠানও যথেষ্ট পুরনো, এই পাঠ্যক্রমও যথেষ্ট পুরনো। ১৯৬৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয়েছিল। তারপরে সেই বছরই এই পাঠ্যক্রমও চালু হয়। সুতরাং ৬৫ থেকে ধরলে ৬০ বছরের বেশি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে, ৬০ বছর ধরে এই পাঠ্যক্রম চলছে। এখন এর মধ্যে ২০২০ সাল পর্যন্ত—২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত বলা যায় যে—এই পাঠ্যক্রমটি অফলাইন পাঠ্যক্রম ছিল। আমাদের শেষদিকে আমাদের কালীঘাট পার্ক স্থিত রবীন্দ্র চর্চা ভবনে ক্লাস হতো। তারপরে যখন ২০২০-র মার্চ মাসে অতিমারির ধাক্কা এলো, তখন তো সারা পৃথিবীই থমকে গেল, আমরাও থমকে গেলাম। তারপরে ২০২১ থেকে পাঠ্যক্রম আবার নতুন চালু হলো, সেটা হলো এই অনলাইন মোডে। সুতরাং ২০২১ থেকে ধরলে এই বছরটি এই পাঠ্যক্রমের সিক্সথ ব্যাচ, অনলাইন মোডে সিক্সথ ব্যাচ। এবার পাঠ্যক্রম সম্বন্ধে আরো বেশি বলার আগে আমি একটু প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে আপনাদের বলতে চাই। আগেই বলেছি যে ১৯৬৫ সালে এই প্রতিষ্ঠান শুরু হয়। ১৯৬৫ সালের পয়লা জানুয়ারি এই প্রতিষ্ঠান শুরু হয়। তখন এই প্রতিষ্ঠানের বাসস্থান ছিল শ্রদ্ধেয় সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ির আউট হাউসে। তা আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন যে ১৯৬১ সালে আমরা রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষ পালন করেছি। আমরা পালন করেছি মানে আমাদের দেশে পালিত হয়েছে, আমার তো তখন জন্মই হয়নি, আপনাদের অনেকেরই হয়নি। সেই ১৯৬১ সালে এইটা মনে করা হয়েছিল, অন্তত কেউ কেউ মনে করেছিলেন যে, তখন রবীন্দ্রভক্তির একটা চরম উন্মাদনা দেখা দিয়েছিল ওই রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষের সময়, কিন্তু সেই উন্মাদনাটা স্থায়ী হয়নি, সে অল্প দিনেই অবশিত হয়। তাই কেউ কেউ মনে করেছিলেন যে, এইটা রবীন্দ্রচর্চার জন্যে আমাদের আরো স্থায়ী কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন। এবং সত্যি সত্যি আপনারা যদি ভাবেন, আমাদের জীবনে আমরা যারা ধরুন সাহিত্যের ছাত্র নই বা নিজেদের অন্য কোনো প্রয়োজনে রবীন্দ্রনাথ নিয়ে নিয়মিত পড়াশুনো করতে হয় না, তাদের জীবনে রবীন্দ্রনাথের দৈনন্দিন জীবনের স্পর্শ কতটুকু? আমরা আমাদের রবীন্দ্রনাথের গান আমরা সারাজীবন ধরে গাই। আমাদের স্কুলে-কলেজে রবীন্দ্রনাথের কিছু কবিতা আমরা পড়ি, কিছু নাটক দেখি হয়তো, কিছু নৃত্যনাট্য কথা শুনি এবং রবীন্দ্রনাথের অনেক কবিতা পড়ি। কিন্তু সত্যি কথা বলতে, অধিকাংশ বাঙালিরই কিন্তু রবীন্দ্রনাথ এত বড় সম্পদ উনি রেখে গেছেন আমাদের জন্যে, তার সঙ্গে যোগাযোগ খুবই ক্ষীণ। এবং যেটুকু আমরা প্রধানত আমাদের জীবনে রবীন্দ্রনাথকে পাই, তা হচ্ছে তার রসের যে উপাদান তিনি রেখে গেছেন, তার বিনোদনের যে উপাদান তিনি রেখে গেছেন, সেইগুলোতেই আমাদের অধিকাংশ সময় আমরা ব্যস্ত থাকি। আমরা রবীন্দ্রনাথের গান শুনি সারাজীবন, রবীন্দ্রনাথের কবিতা শেখানোর বহু প্রতিষ্ঠান আজ কলকাতা শহরে বা পশ্চিমবঙ্গে আছে, রবীন্দ্রনাথের নাটক আমরা দেখি, রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য আমরা দেখি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের যে—আপনারা একটু মিউট করুন, নইলে এই সেশনে একটু অসুবিধা হতে পারে। রবীন্দ্রনাথের এই পারফর্মিং আর্টসের দিকে আমরা রবীন্দ্রনাথকে যেভাবে গ্রহণ করেছি, রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি আমাদের কিন্তু সমান অ্যাটেনশন নেই। যেমন ধরুন রবীন্দ্রনাথের যে ২২০০ গান লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ সারাজীবনে, আমরা সারাজীবন ধরে গাইছি, খুব আনন্দ করে গাইছি। কিন্তু তারও একটা বিপদ আছে, আমরা সেই গানে গিয়ে আটকে যাচ্ছি, তার ফলে আমরা রবীন্দ্রনাথের অন্য যেগুলো সিরিয়াস দিক সেখানে পৌঁছাতে পারছি না। বিশেষ করে বলবো, রবীন্দ্রনাথ যেরকম ২২০০ গান লিখেছেন সারাজীবন ধরে, রবীন্দ্রনাথ সারাজীবনে— **শ্রোতা / সঞ্চালক:** আপনারা প্রত্যেকে মিউট করুন, না হলে শোনা যাবে না। দেবযানী লাহিড়ী, আপনি মিউট করুন। মাইক্রোফোনটা অফ করুন, না হলে শুনতে সকলেরই অসুবিধা হবে। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** যে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম যে, রবীন্দ্রনাথের ২২০০ গানের পাশাপাশি— **শ্রোতা:** কেউ কি কিছু বলছেন? **অভ্র বসু / সঞ্চালক:** আচ্ছা, আমি পারলে যাদের খোলা আছে মিউট করে দিচ্ছি। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** রবীন্দ্রনাথের এই প্রবন্ধ আপনারা অনেকেই হয়তো পড়ছেন না। রবীন্দ্রনাথের গান আমরা শুনছি, কিন্তু ধরুন আমরা কতজন কালান্তর পড়ছি, বা মানুষের ধর্ম পড়ছি, বা পল্লীপ্রকৃতি পড়ছি, বা সমবায় নীতি পড়ছি, বা সভ্যতার সংকট পড়ছি? এগুলোও কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে জানার জন্যে সমানভাবে প্রয়োজন। এবং রবীন্দ্রনাথের শুধু সিরিয়াস রচনা মানে সাহিত্য রচনা, প্রবন্ধও সাহিত্য, তাই শুধু নয়; রবীন্দ্রনাথ কিন্তু একজন কর্মী ছিলেন। তার সারাজীবনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তার শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা বিরাট ভূমিকা ছিল, তার গ্রামোন্নয়নে একটা বড় ভূমিকা ছিল, তার সমবায় নীতিতে একটা বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু কর্মী রবীন্দ্রনাথের— আচ্ছা এখনো অনেকে মিউট নন, বারবার আমাকে— **শ্রোতা:** হ্যাঁ, আমাদের ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। আপনারা— **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** যাই হোক, যে কথা বলছিলাম যে, রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির আরো অনেক দিক আছে। তার মধ্যে আরো একটা বড় জায়গা হলো রবীন্দ্রনাথের পত্রসাহিত্য। রবীন্দ্রনাথ সারাজীবনে বহু চিঠি লিখেছেন বিভিন্ন জনকে। এবং আপনারা জানেন যে পত্রসাহিত্য হয়ে খুব উন্নত মানের সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের চিঠি আমরা আজও খুঁজে বেড়াচ্ছি, রবীন্দ্রনাথের সব চিঠি আজও আবিষ্কৃত হয়নি, যদিও অনেকেই হয়েছে। এবং রবীন্দ্রনাথের ইন্দিরা দেবীকে লেখা যে চিঠিপত্র, তার মধ্যে রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলেছিলেন যে, যেটা ‘ছিন্নপত্রাবলী’ বলে বেরিয়েছে যে, এর মধ্যে তার মনের ভাব যেভাবে ধরা পড়েছে, তার অন্য কোনো লেখায় তা ধরা পড়েনি। তা রবীন্দ্রনাথ নিজেই যেখানে এ কথা বলছেন, সেই ছিন্নপত্রাবলী তো আমাদের বিশেষ করে পড়া উচিত। কিন্তু আমরা কতজন তা পড়ছি? কতজন তা পড়ছি চেয়েও বড় কথা, বিশ্বভারতী তো ছিন্নপত্রাবলী বারই করে উঠতে পারছে না, অনেকদিন ধরে সেই পত্রিকা তো বই তো আউট অফ প্রিন্ট। সুতরাং রবীন্দ্রনাথের অনেকগুলো দিক আমাদের জানা দরকার যেগুলো আমরা সাধারণভাবে পরিচিত হচ্ছি না। রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কারের টাকা কোথায় কীভাবে ব্যবহৃত হলো আমরা প্রায় কেউই জানি না। রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কারের সেই ১৯১৩ সালে যে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন, সেই টাকা উনি একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গ্রাম পতিসরে পতিসর কো-অপারেটিভ ব্যাংকে রেখেছিলেন। কেন রেখেছিলেন? তিনি চেয়েছিলেন যে গ্রামের চাষী সমবায় নীতি শিখবে, দেশের নেতারা সমবায় নীতি শিখবে। কিন্তু গ্রামের চাষিও শেখেনি, দেশের নেতারাও শেখেনি। রবীন্দ্রনাথের সেই পতিসর কো-অপারেটিভ গ্রামীণ ব্যাংকে রাখা টাকা পুরোটাই ডুবে গেছে ব্যাংকের সঙ্গে। সে টাকা রবীন্দ্রনাথের নিজের ভোগে লাগেনি, বিশ্বভারতীর ভোগে লাগেনি। কিন্তু তবুও রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে, এই নিরীক্ষার একটা প্রয়োজন ছিল। একটা কাজ করতে নামলে শুধু বাইরে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলেই হয় না, সেই কাজটার জন্যে যে ঝুঁকি নেওয়া প্রয়োজন সেটাও নিতে হয়। সুতরাং এই রবীন্দ্রনাথকে আমরা জানতে চাই। **অরুণাভ বাবু:** স্যার, শুনতে পাচ্ছি না কিছু। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** শোনা কি যাচ্ছে না? **অন্যান্য শ্রোতাগণ:** — যাচ্ছে। — না না, পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে। — না, শোনা যাচ্ছে। — শোনা যাচ্ছে। সম্ভবত কিছু আপনার সেটিংসে ডিস্টার্ব আছে, সমস্ত কিছু সুন্দর শোনা যাচ্ছে। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** এরপর আসি যে এই ইনস্টিটিউটের— **অরুণাভ বাবু:** আমি কিছু শুনতে পাচ্ছি না। **অন্যান্য শ্রোতাগণ:** অরুণাভ বাবু, আপনি অফ হয়ে আবার অন হন। এরকম আপনার ওটা ডিস্টার্ব, হ্যাঁ আমরা সবাই শুনতে পাচ্ছি ভালোভাবে। হ্যাঁ, আপনি একবার অফ হয়ে অন হন। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** না, উনি হচ্ছে এই যে কথাগুলো আপনারা বলছেন, উনি হয়তো সেটাও শুনতে পাচ্ছেন না। ফলে উনি হয়তো বুঝতে পারছেন না এটা, এবং সেক্ষেত্রে উনি আবারও হয়তো বলবেন। **অরুণাভ বাবু:** হ্যাঁ, এবার শুনতে পেরেছি এবার। ঠিক আছে। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আচ্ছা, ১৯৬১ সালে একটু ফিরে যাই। যে কথা বলছিলাম যে, ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ হলো, রবীন্দ্রভক্তির প্রকাশ একটা খুব উঁচু শিখরে আরোহণ করলো, অথচ তার অল্পদিন পরেই তা হঠাৎই আবার অবশিত হলো। এইটা যখন ঘটলো, তখন এই টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সোমেন্দ্রনাথ বসু, তিনি তখন একজন তরুণ অধ্যাপক, তিনি মনে করলেন যে, রবীন্দ্রনাথকে জানতে গেলে আমাদের একটি স্থায়ী রবীন্দ্রচর্চা—রবীন্দ্রচর্চাকেন্দ্র প্রয়োজন। এই কথা মনে করে ১৯৬৫ সালের পয়লা জানুয়ারি তিনি এই টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করলেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন বলাটা একটু অতিকথন হবে, এত বড় একটা জিনিস তো একজন মানুষ করতে পারেন না। তিনি এবং তার বেশ কয়েকজন সহকর্মী-অনুগামী মিলে তারা এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করলেন। সেইদিন তাদের মাথায় বা তাদের সামনে কতদূর এই প্রতিষ্ঠান কি করতে পারবে পরিষ্কার ধারণা ছিল কিনা আমরা জানি না, কিন্তু তারা মনে করেছিলেন এটার প্রয়োজন আছে। এবং প্রতিষ্ঠান সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাসভবনে প্রথম স্থান পায়। বাসভবনে নয়, বাড়ির আউট হাউসে। এবং প্রথম যে কাজ এই প্রতিষ্ঠান করে, তা হচ্ছে একটি পাঠ্যক্রম তৈরি করা। যে পাঠ্যক্রমে আজকে আপনারা ভর্তি হয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল সেই পাঠ্যক্রমে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক সৃষ্টি, কর্মী রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনা, রবীন্দ্রপরিকরের অন্যান্য মানুষদের পরিচয় এবং সমকালীন বাংলাদেশের পরিস্থিতি—এই সবকিছু মিলিয়ে একটা পাঠ্যক্রম তৈরি করা হবে, যেখানে রবীন্দ্রনাথের সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বের একটি পরিচয় পাওয়া যায়। এবং রবীন্দ্রনাথকে আমাদের সারাজীবনেও জানা শেষ হবে না, কিন্তু শুরুর জন্যে যাতে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির সব দিককে একত্র করে অন্তত গোড়ার দিকটা ধরিয়ে দেওয়া যায়, এইটা ছিল তার একটি চেষ্টা। এবং তখন আমরা আশ্রয় পেয়েছিলাম বা এই প্রতিষ্ঠান আশ্রয় পেয়েছিল সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাসভবনে, যে কথা বললাম। তারপরে আস্তে আস্তে বিভিন্ন জায়গায় স্থান খুঁজে নিতে হয়েছে। পরে ১৯৮০ সাল থেকে টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নিজস্ব আবাস তৈরি হলো রবীন্দ্র চর্চা ভবন, কালীঘাট পার্কে, যোগেশ দত্ত মাইমের পাশে। সেখানে আমাদের সারাবছর ধরে অনেক অনুষ্ঠান হয়, আমি আশা করি আপনারা অনেকে সেখানে আসার সুযোগ পাবেন। আচ্ছা, এই ৬০–৬২ বছর ধরে এই যে পাঠ্যক্রম চলছে, এর সিলেবাসের এই সময়ে কিছু কিছু পরিবর্তন তো হয়েছে। কিন্তু তবু আমি বলব যে, প্রধানত যখন সোমেন্দ্রনাথ বসু বর্তমান ছিলেন এবং তার সহকর্মী-অনুগামীরা ছিলেন, তারা যে পাঠ্যক্রমের কাঠামো তৈরি করেছিলেন, মোটামুটিভাবে আমরা সেই পথেই এখনো পর্যন্ত চলেছি। মানে সিলেবাসটা কিছুটা পরিবর্তিত হলেও মূলের সঙ্গে অনেকটাই একরকম আছে। আর এই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি চরিত্র একটু বলে দেওয়া যাক। এই প্রতিষ্ঠানটি কিন্তু সম্পূর্ণভাবে, একদম ১০০ ভাগ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে কোনো সরকারি অনুদানের কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু যে সরকারি অনুদানের সম্পর্ক নেই তাই নয়, কোনো বিত্তশালী বা কোনো স্পন্সরেরও অনুদান নেই। এই প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছাশ্রম দ্বারা চালিত। তার মানে কি? এই প্রতিষ্ঠানে কোনো বেতনভোগী কর্মী নেই। এখানে যারা কাজ করেন তারা সবাই ভলান্টিয়ার, সবাই স্বেচ্ছাশ্রম দেন। আপনাদের যারা শিক্ষা দেবেন, আপনাদের যারা পড়াবেন, তারা সবাই যোগ্য লোক। তারা সবাই কলেজের অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বা অন্যান্যভাবে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তারা কেউ কিন্তু এই পাঠ্যক্রমে আপনাদের পড়ানোর জন্য এই প্রতিষ্ঠানের থেকে একটি পয়সা নেন না। এবং গত ৬০ বছর, ৬২ বছর ধরে এই মডেলই কিন্তু চলে এসেছে। এবং এটা শুধু যে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সত্যি তা নয়, আমাদের ইনস্টিটিউট যে চলে অনেক কর্মী তো লাগে, আমাদের যারা অফিসে কাজ করেন, যারা লাইব্রেরিতে কাজ করেন, যারা অন্যান্যভাবে ইনস্টিটিউটের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তারাও সবাই কিন্তু স্বেচ্ছাশ্রম দানকারী। আমি যে আজকে ছটার সময় এসে আপনাদের সঙ্গে মিলিত হয়েছি, আমিও সারাদিন আমার অফিস করে এইবার আপনাদের জন্যে, ইনস্টিটিউটের জন্যে এই সময়টা বরাদ্দ করে রেখেছি। এরপরে অভ্র বসু, শ্রীলা বসু তারা ক্লাস নেবেন, তাদের ক্ষেত্রেও এইটাই সত্য। কিন্তু তবু এইটা বলে রাখা ভালো যে, এরা প্রত্যেকে যোগ্য লোক, আপনাদের আমি নিশ্চিত যে কখনো মনে হবে না যে অযোগ্যরা আপনাদের শিক্ষা দিচ্ছেন। এরপরে আরেকটু আসি যে, এই অনলাইন বনাম অফলাইন ক্লাসের সম্বন্ধে কিছু বলা প্রয়োজন। ২০২০-র মার্চ অবধি আমাদের শিক্ষাক্রম অফলাইনে চলতো। তারপরে এটা তখনকার মতন আমরা বাধ্য হলাম এটাকে অনলাইনে নিয়ে যেতে। কিন্তু অনলাইনে নিয়ে যাবার পর কয়েকটা জিনিস দেখা গেল যে, কিছু প্র্যাকটিক্যাল সুবিধে দেখা গেল যে, আগে পাঠ্যক্রমটি পুরোপুরি কলকাতা কেন্দ্রিক ছিল। এখন এই অফলাইনে হবার পর আপনার মেদিনীপুর, মালদা, শিলিগুড়ির লোকও ভর্তি হতে পারছেন; পুনে, ব্যাঙ্গালোরের লোকও ভর্তি হতে পারছেন; কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, আমেরিকার লোকও ভর্তি হতে পারছেন। এবং সে অর্থে— হ্যাঁ, কি বলছেন? হ্যাঁ। আচ্ছা। আমি তো এখন এখানে বলছি, আমি তো এটা করতে পারবো না। অভ্র, অভ্র? অভ্র? আমাদের পাঠ্যক্রমে প্রতিভা রায়চৌধুরী বলে একজন রয়েছেন, তিনি লিংকটা খুঁজে পাচ্ছেন না। যদি ওকে লিংকটা দেওয়া যায় একটু তোমরা দেখো। তা এই অনলাইন বনাম অফলাইন যেটা বলছিলাম যে, এর ফলে দুদিকে সুবিধে হয়েছে। একটা হচ্ছে যে, আপনারা অনেকে এই কোর্সটি এখন করতে পারছেন, যারা এই কলকাতা কেন্দ্রিক অফলাইন কোর্স হলে কোনোদিনই করতে পারতেন না, কোনোদিনই করতে পারতেন না। আবার উল্টো দিকেও এই সুবিধে হয়েছে যে, অনেক শিক্ষক এখানে ক্লাস নিতে পারছেন যারা হয়তো কলকাতায় এসে ক্লাস নিতে পারতেন না, কিন্তু তারা নিজের অফিস থেকে, নিজের বাসভবন থেকে, নিজের শহর থেকে ক্লাস নিতে পারছেন। ধরা যাক, আমাদের বিশ্বভারতী থেকেই আমাদের বাংলা বিভাগের তিনজন, চারজন, পাঁচজন অধ্যাপক আপনাদের ক্লাস নেবেন। তারা তো কলকাতায় এসে ক্লাস নিতে বললে ব্যাপারটা অনেক সীমিত হয়ে যেত। ফলে অনেকভাবেই স্কোপটা বেড়েছে। এবং আমরা আমাদের যিনি প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক সুমিতা চক্রবর্তী, উনি আমাদের বলেছেন যে, এই স্কোপটা তোমরা ছেড়ে দিও না, এইটা তোমরা ধরে রাখো। তার ফলে আমাদের কোর্সটি এখন অনলাইনেই চলছে। যদিও আমরা যারা অধ্যাপনা করি আমরা প্রত্যেকেই এটা স্বীকার করি যে, অনলাইন কোর্সটি অফলাইনের বিকল্প নয়। কিন্তু এর প্র্যাকটিক্যাল সুবিধের জন্যে এখন এই ফর্মেই চলছে। অনেকেই এসে আমাদের বলেন যে, এর পাশাপাশি আপনারা একটা অফলাইন মডিউলও তৈরি করুন। সেটা আমাদের পক্ষে একটু কঠিন, কারণ যে কথা বললাম যে, আমাদের শিক্ষকরা সবাই স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন এখানে। সুতরাং তাদের আমি তো বলতে পারি না ভাই তোমরা একবার অনলাইনে পড়াও, তারপর আবার রবীন্দ্র চর্চা ভবনে এসে অফলাইনে পড়াও। সুতরাং প্রধান কোর্সটা এখন অনলাইনেই চলছে। কিন্তু এর পাশাপাশি আমরা যেটা করছি গত দুবছর ধরে যে, ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে একটি করে অফলাইন মডিউল রাখছি। যাতে ২০২৫ সালে রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ কর্মশালা করা হলো, ২০২৬ সালে রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্র বিষয়ক কর্মশালা হলো এবং প্রত্যেক বছরে ছোট ছোট মডিউলে কিছু অফলাইন ক্লাস রাখার পরিকল্পনা আমাদের আছে। এরপরে আমি একটু আপনাদের যে পরীক্ষার সিস্টেম হবে এই কোর্সে, সেটা সম্বন্ধে একটু বলতে চাই। আমাদের দু বছরের ডিপ্লোমা কোর্স। প্রথম বছরের শেষে চারটি পেপারের পরীক্ষা, দ্বিতীয় বছরের শেষে চারটি পেপারের পরীক্ষা—১ থেকে ৮ পত্র। এই বছর আপনারা ১, ২, ৩, ৪ পত্র পড়বেন, সামনের বছর ৫, ৬, ৭, ৮ পড়বেন। এবং মোটামুটিভাবে এখন যা রুটিন, তাতে এই অগাস্টে যে ক্লাস শুরু হলো, সামনের বছরের অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে পরপর চারটি রবিবারে পরীক্ষা হবে। সেই পরীক্ষা রবিবার সকালে আমরা গ্রুপে কোয়েশ্চেন পেপার আপলোড করে দেব। আপনারা ৪৮ ঘণ্টা সময় পাবেন প্রশ্নের উত্তর লিখে প্রশ্নের উত্তর ইমেইলে আমাদের ফেরত পাঠানোর—৪৮ ঘণ্টা সময় পাবেন। সুতরাং আমরা মনে করি যে সময়ের দিক থেকে সেটা অসুবিধে হবে না আপনাদের। একটা কথা একটু ভাবা দরকার যে, পরীক্ষার সময় যখন আসে তখন আমরা প্রত্যেক বছরই দেখি অনেকে বলেন যে, পরীক্ষা বাপরে কি ভীষণ ব্যাপার, আমরা ভয় পাচ্ছি, আমরা পরীক্ষা দেবো না। এখন একটু ভয়ের কথা তো আছেই, একটা পরীক্ষা সবসময়ই ভয়ের কথা। কিন্তু এবং অনেকেই আপনারা হয়তো অনেক দিন আগে শেষ পরীক্ষা দিয়েছেন, পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাসটি চলে গেছে। এখানে তো যেরকম অল্পবয়সী ছাত্র-ছাত্রীও আছেন, অনেক বয়স্ক ছাত্র-ছাত্রীও আছেন, সেটা অনেকেই হয়তো মানে তাই নিয়ে ভয় পান। কিন্তু আমি একটু পরীক্ষার সিস্টেমটা বলি। এটা যেহেতু আপনি বাড়িতে বসেই পরীক্ষা দেবেন, আপনাকে সব রকমের রিসোর্স ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়। আপনি আপনার নোট ব্যবহার করতে পারেন, আপনি বই ব্যবহার করতে পারেন, আপনি রবীন্দ্র রচনাবলী ব্যবহার করতে পারেন, আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন—সব রকমের রিসোর্স অ্যালাও করা হয়েছে। শুধু আপনি যেটা পারেন না যে, অন্য কেউ এসে আপনার উত্তরটা লিখে দেবে, সেইটা আপনি করতে পারেন না। কিন্তু এই সব ভাবেই পরীক্ষাটা সহজ করার উপায় রাখা হয়েছে। মাস্টারমশাইরা পরীক্ষার আগে কি পরীক্ষায় আসতে পারে তা খুব বিষদে আলোচনা করে দেন। সুতরাং পরীক্ষা নিয়ে আগে থেকেই একটা ভয়ের যে কারণ দেখি, ভয়ের যে একটা উপক্রম দেখি, তার কোনো কারণ নেই—এইটা আপনাদের বলে রাখতে চাই। পরীক্ষা যতদূর সম্ভব সহজে আপনারা দিতে পারেন তার ব্যবস্থা করা আছে। এরপর আরেকটা কথা বলা দরকার যে, এখানে ফার্স্ট ইয়ার এবং সেকেন্ড ইয়ারের ক্লাস কিন্তু একসঙ্গে হয়। আপনারা আজকে হয়তো প্রধান এই মুহূর্তে প্রধানত হয়তো ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্ররা যারা আজকে প্রথম জয়েন করলেন তারাই আছেন, কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্ররাও আপনাদের সঙ্গেই ক্লাস করবেন। এক এক বছর আমাদের চারটি করে পেপার পড়ানো হয়। এই বছর ১, ২, ৩, ৪ পড়ানো হচ্ছে। আপনারা এই বছর ১, ২, ৩, ৪ পড়ছেন, সামনের বছর ৫, ৬, ৭, ৮ পড়বেন। আর আপনাদের সঙ্গে দ্বিতীয় বছরের ছাত্র-ছাত্রী যারা আছেন, তারা গত বছর ৫, ৬, ৭, ৮ পড়েছেন, এই বছর আপনাদের সঙ্গে ১, ২, ৩, ৪ পড়বেন। এইভাবে চলে যে অল্টারনেট ইয়ারে অল্টারনেট সেট অফ পেপার্স পড়ানো হয়। তারপরে এবং এইজন্যেই যে যারা বলেন, কেউ কেউ বলেন যে, আমার এবারে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি, আমি এবারে পরীক্ষা দেবো না, আমি সামনের বছর পরীক্ষা দেবো। এইটা আমি অন্তত ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ রকম ডিসকারেজ করি। আমার অভিজ্ঞতায় যারা প্রথম বছর পরীক্ষা দেন না, তারা আর কোনোদিনই পরীক্ষা দিয়ে উঠতে পারেন না। পরীক্ষা আমরা একেবারে আপনাদের পক্ষে অসুবিধাজনক না হয় তার সব রকম ব্যবস্থা রেখেছি, কিন্তু পরে বেশি পড়াশুনো করে পরীক্ষা দেবো এই চিন্তা করে কিন্তু আর পরীক্ষা দেওয়া হবে না। আর তাছাড়া আরেকটা অসুবিধে, আপনি এবছর ১, ২, ৩, ৪ পড়লেন, সামনের বছর তো ১, ২, ৩, ৪ পত্রের পরীক্ষা হবে না, এই বছরই পরীক্ষা হবে। আপনাকে আবার ১, ২, ৩, ৪ দিতে গেলে দু বছর অপেক্ষা করতে হবে। সুতরাং সেইটা করবেন না। আপনারা যারা পড়ছেন তাদের একটু কষ্ট যদিও হয়, সেটুকু সত্ত্বেও আমি বলব যে পরীক্ষা একবারেই দিন। আর আমরা সেই বছরেই ধরুন সামনের বছর আপনারা অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে যে পরীক্ষা দেবেন, আবার নভেম্বর-ডিসেম্বরে আমরা এক সেট সাপ্লিমেন্টারি রাখি। যারা কোনো কারণে অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে পরীক্ষা দিতে পারলেন না বা কোনো একটা-দুটো পেপার দিতে পারলেন না, তাদের জন্যে আবার আমরা ব্যবস্থা রাখি। সুতরাং বছরে দুবার পরীক্ষা এমনিতেই হচ্ছে। এরপরেও পরীক্ষা দিতে না পারলে আপনি আর কোনোদিনই পরীক্ষা দিতে পারবেন না। সুতরাং পরীক্ষা নিয়ে ভীতিটা আপনাদের মাথায় রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি আমাদের কোর্সের যে ফি স্ট্রাকচার আছে, সেইটা আমি আপনাদের গ্রুপে জানিয়েছি। আপনারা সবাই ভর্তির সময় ১২০০ টাকা দিয়েছেন বা কেউ কেউ হয়তো আরো বেশি দিয়েছেন, কিন্তু প্রধানত ১২০০ টাকা দিয়েছেন। একটা প্রশ্ন আমি অনেকের কাছ থেকে পাচ্ছি যে, এরপরে আবার কবে এবং কবে থেকে কত টাকা করে ফিজ দিতে হবে? একটু আমি বলি যে, মাসিক বেতন ২০০ টাকা। কিন্তু আমরা চাই না যে আপনারা প্রত্যেক মাসে ২০০ টাকা ২০০ টাকা করে দিতে থাকুন। তার কারণ এটা পুরোটা স্বেচ্ছাসেবী, স্বেচ্ছাশ্রম চালিত প্রতিষ্ঠানে যত ছোট ছোট পেমেন্ট হয়, তত আমাদের ছোট ছোট একাউন্টিং বেশি করতে হয়। আমি আপনাদের দু-চার দিনের মধ্যে একটা স্কেডিউল দিয়ে দেব, আপনারা সেই স্কেডিউল অনুসারে তিন মাস অন্তর অন্তর যা ডিউ হয় সেইটা দিতে থাকবেন, তাহলে আমাদের একাউন্টিংটা আমাদের দিক থেকে আরেকটু সহজ হবে। এবং আগে যেটা বলেছি যে, আমাদের পুরো দু বছরের কোর্সের অল ইনক্লুসিভ ফি হচ্ছে ৬০০০ টাকা, যার ১২০০ টাকা আপনারা ভর্তির সময় দিয়েছেন। এরপরে একটা উপযুক্ত ইনস্টলমেন্টে বাকিটা আপনারা দেবেন। আমার দিক থেকে মোটামুটি যা বক্তব্য তা আমি বললাম। আপনারা প্রত্যেকদিন তিনটি করে আপনাদের ক্লাস হবে। আজকে প্রথম ক্লাসটি ছটা থেকে সাতটা আমরা ইন্ট্রোডাক্টরি হিসেবে রেখেছি, আপনাদের প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে, পাঠ্যক্রম সম্বন্ধে জানানোর জন্য এবং এখানকার নিয়ম-কানুন, সিস্টেম সম্বন্ধে জানানোর জন্য। আমার পরে অভ্র বসু—আমি কিন্তু প্রাইমারিলি এডমিনিস্ট্রেটিভ দিক থেকেই বলেছি, অভ্র বসু একাডেমিক দিক থেকে একটু আপনাদের বলবেন। আপনাদের অভ্র বসুর বলার পর আপনারা চাইলে আপনাদের যা যা প্রশ্ন আছে করতে পারেন। আপনাদের কাছে আমরা সিলেবাস পাঠিয়ে দিয়েছি, আটটি পত্র তার কি সিলেবাস আপনারা জানেন। ১, ২, ৩, ৪ আপনারা এবছর পড়বেন এবং সামনের বছর অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে ১, ২, ৩, ৪ পত্রের উপর পরীক্ষা দেবেন। আমি এইখানে থামলাম। অভ্র? অভ্র? আচ্ছা, অভ্র আছেন কিনা আমি বুঝতে পারছি না। আপনারা যারা আমার কথা শুনলেন, আপনাদের আমাকে কিছু প্রশ্ন থাকলে বলুন, আমি জবাব দিই। তারপর অভ্র আপনাদের যা বলার বলবেন। **প্রশ্নকর্তা ১:** স্যার, ছিন্নপত্রাবলী রবীন্দ্র রচনাবলীতে নেই? স্যার, ছিন্নপত্রাবলী রবীন্দ্র রচনাবলীতে নেই? **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** হ্যাঁ বলুন, বলুন। **প্রশ্নকর্তা ১:** রবীন্দ্র রচনাবলীতে কি নেই? ছিন্নপত্রাবলী নেই, তাইতো? ছিন্নপত্রাবলী আপনি যে বললেন যেটা বিশ্বভারতী বার করা বন্ধ করে দিয়েছে, সেটা কি রবীন্দ্র রচনাবলী পুরনোতে নেই? **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্র কোন রচনাবলীর কোন অংশে আছে আমি জানি না। যদি থাকে তো খুব ভালো কথা, আপনারা পড়ে দেখুন। **প্রশ্নকর্তা ২:** স্যার, আমি একটু জানতে চাইছিলাম যে, এই যে সেই সময়ের যে প্রথম পত্রেই যেটা আছে ঠাকুরবাড়ির ইতিহাস, সেই সময়কাল—এগুলোর জন্য যে বইগুলো লাগবে, সেই বইয়ের নামগুলো আমরা পেয়ে যাব তো স্যার? **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আপনারা যে ওই বিষয়টি আপনাদের যারা পড়াচ্ছেন, তারা ওই বইয়ের নাম আপনাদের বলে দেবেন, কি কি রিসোর্স প্রয়োজন বলে দেবেন। এবং আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে যে, একটা বড় ক্লাসে মাস্টারমশাইরা নাম বলার দুদিনের মধ্যে কোনো না কোনো ছাত্র তার পিডিএফ এনে উপস্থিত করেন, মাস্টারমশাইরাও চমকে যান তাই দেখে। সুতরাং তাতে অসুবিধে হয় না। বইয়ের নাম তো অবশ্যই বলে দেবেন, এবং সে বই যদি আপনারা সংগ্রহ না করতে পারেন, আমাদের একটা উচ্চমানের লাইব্রেরি আছে যেটা আপনাদের ব্যবহারের জন্যেই, সেখানে আপনারা সে বই পাবেন বলে আমরা আশা করি। **প্রশ্নকর্তা ২:** বেশ, ধন্যবাদ স্যার। **প্রশ্নকর্তা ৩:** স্যার, একটু জিজ্ঞাসা করছিলাম যে লাইব্রেরির কথা যেটা বললেন, সেটা ব্যবহার করার নিয়মটা কি আছে সেটা একটু যদি বলেন? **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই লাইব্রেরি ব্যবহার করতে অটোমেটিক্যালি এনটাইটেল্ড। আমাদের যেহেতু এখন অফলাইনে ক্লাস হয় না, আমরা দুদিন করে সন্ধ্যাবেলায় আমাদের অফিস এবং লাইব্রেরি খোলা রাখি। আমাদের সোম এবং বৃহস্পতি লাইব্রেরি খোলা থাকে। আমাদের লাইব্রেরিয়ান, তার ফোন নাম্বার আমি এই গ্রুপে শেয়ার করে দেব। তিনি এই গ্রুপে আছেন ইতিমধ্যেই, কিন্তু তার ফোন নাম্বার আমি দিয়ে দেব। আপনারা যেদিন আসতে চাইবেন বা কখনো আসতে চাইলে তাকে আগে থেকে জানিয়ে রাখতে পারেন, তাতে অসুবিধে নেই। আর এখানে আপনারা লাইব্রেরি ব্যবহার করতে এনটাইটেল্ড, যে কথা বললাম। এবং এখানে বসে বই পড়তে পারেন, বই ইস্যুও করতে পারেন। তবে নিয়ম হচ্ছে বই ইস্যু করলে এককালীন একটা ৫০০ টাকা ডিপোজিট রাখতে হয়। এবং বই একবার ইস্যু করলে একসঙ্গে দুটো বই দেওয়া হয় এবং আমার যতদূর জানা আছে লাইব্রেরিয়ান ১৫ দিন বই রাখতে দেন। **প্রশ্নকর্তা ৩:** আচ্ছা আরেকটা প্রশ্ন, সেটা হচ্ছে যে ২০২৭ সালের অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে আমাদের পরীক্ষাটা হবে, চারটে সানডেতে হবে। এই চারটে সানডেতে তার মানে নিশ্চয়ই অগাস্টের দুটো সানডে এবং সেপ্টেম্বরের একদম প্রথমে দুটো সানডে—এইভাবেই হবে কি? অগাস্টের শেষের দুটো সানডে আর সেপ্টেম্বরের প্রথম দুটো সানডে, এইভাবেই হবে কি? আমাদের অনেকেরই— **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** সেটা হবার সম্ভাবনা বেশি। **অভ্র বসু:** আমি একটু কথা বলি, শোনা যাচ্ছে আমার কথা? **শ্রোতাগণ:** হ্যাঁ দাদা, শোনা যাচ্ছে। **অভ্র বসু:** আমি যেটা বলতে চাইছি দেখুন, আমাদের অরিজিনালি এই কোর্সটার সেশন ছিল জুলাই থেকে জুলাই। আমরা অনলাইনের ফলে খানিকটা পিছিয়ে পড়েছিলাম। আমরা প্রথমবার যখন শুরু করেছি সেটা অক্টোবর হয়ে গিয়েছিল। তো যাই হোক, এখন আমরা এগিয়ে অগাস্ট পর্যন্ত এসেছি। আমরা চেষ্টা করব আরেকটু এগিয়ে আনবার, কতটা পারব আমরা জানি না। ফলে এক্সাক্ট পরীক্ষার ডেটটা অগাস্টে দুটো, সেপ্টেম্বরে দুটো—এরকমটা নাও হতে পারে। হয়তো অগাস্টের চারটে হয়ে গেল, এরকমও হতে পারে। ঠিক আছে? এইটা খানিকটা আমাদের প্রগ্রেসের পর জানাতে পারব। **প্রশ্নকর্তা ৩:** আচ্ছা, ঠিক আছে স্যার। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** খানিকটা বিশেষ করে নির্ভর করে যদি পুজোটা কবে পড়ছে এইটা দেখে। যদি সেপ্টেম্বর মাসে পুজো হয়, তাহলে আমরা তো অবশ্যই অগাস্টে পরীক্ষা শেষ করার চেষ্টা করব। **প্রশ্নকর্তা ৪:** আচ্ছা, আমার একটা প্রশ্ন ছিল। সেটা হচ্ছে যে, যারা দেশের বাইরে রয়েছেন তারা বইগুলো কীভাবে অ্যাক্সেস করবেন, লাইব্রেরি বইগুলো? যদি একটু বলেন প্লিজ। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** লাইব্রেরির বই তো এটা তো ফিজিক্যাল লাইব্রেরি, বাইরে থেকে তো লাইব্রেরির বই অ্যাক্সেস করতে পারবেন না। যেটা পারবেন হচ্ছে যে, গ্রুপে প্রচুর—মানে একেবারে লিটারেলি প্রচুর—পিডিএফ আকারে দেওয়া হবে, সেইগুলো নিতে পারবেন। আর আপনারা যেখানে আছেন সেখানে যদি লোকাল লাইব্রেরির সুবিধা পান তাহলে পাবেন। **সৈকত (বাংলাদেশ):** স্যার নমস্কার, আমার একটা প্রশ্ন ছিল। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** বলুন। **সৈকত (বাংলাদেশ):** স্যার, আমি হচ্ছি সৈকত বাংলাদেশ থেকে। স্যার, আমি পাঠ্যক্রম দেখে একটা প্রশ্ন আসছে মনে, সেটা হলো রবীন্দ্রনাথের যে চিত্রকলার বিষয়টা, মানে পুরোপুরি বাদ দেয়ার কি বিশেষ কোনো কারণ আছে, মানে ওই পাঠ্যক্রমে? আর দ্বিতীয় প্রশ্নটা হচ্ছে—মানে দ্বিতীয় আর শেষ প্রশ্ন—সেটা হলো আমরা যে পরীক্ষাটা দেব, সেই পরীক্ষা দেওয়ার সময় আমাদের হাতে লেখা মানে পরিষ্কার হাতের লেখা কি গ্রাহ্য হবে, না সেটা কম্পিউটারে কম্পোজ করে স্ক্যান করে দিতে হবে? এটা যদি একটু বলেন। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী হাতে লিখে স্ক্যান করে পাঠান। সবার পক্ষে বাংলা সফটওয়্যারে টাইপ করে পাঠানো তো সম্ভব হয় না। কিন্তু দুটোই গ্রাহ্য হবে। যেটা আপনার সুবিধে হয়। হাতে লিখলে সেটার একটা ক্লিন স্ক্যান দরকার আর কি, কারণ এরকম হয় যে ছাত্র একটা পাঠিয়ে দিলেন, সেটা মূল্যায়নের সময় দেখা গেল মাস্টারমশাইরা পড়তেই পারছেন না। কম্পিউটারে তৈরি করে পিডিএফ করে পাঠালে সেই আশঙ্কাটা থাকে না, কিন্তু সবাই তো সেটা করতে পারবেন না, সুতরাং সেটা আমরা দাবিও করি না। আপনি হাতে লিখে স্ক্যান করে পাঠান, আপনি কম্পিউটারে লিখে পিডিএফ বানিয়ে পাঠান, দুটোই আমাদের... আমাদের কাজ হচ্ছে আপনার উত্তরপত্রটা মূল্যায়ন করা। সেটার জন্য তো আমরা মানে যেটাতে আপনার সুবিধে হয় এবং যেটা আমাদের অসুবিধে না হয়, এইভাবে আমরা করি। **সৈকত:** নমস্কার, নমস্কার। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আর যে প্রথম কথাটা বললেন, সে কথাটা তো খানিকটা সত্যি। সেভাবেই যদি বলেন, আপনারা দেখবেন যে আমাদের এখানে রবীন্দ্রনাথের ওই যে কথা বলছিলাম পারফর্মিং আর্টসের কোনো ডেমোন্স্ট্রেশনের দিক আমরা রাখিনি। আপনাদের পাঠ্যক্রমে আপনারা গান করে পরীক্ষা দিতে হবে না গান নিয়ে, মানে তার ডেমোন্স্ট্রেশন নেই। কিন্তু সংগীত চিন্তা পড়বেন আপনারা, সেটা তাত্ত্বিক দিকটা। কারণ আমরা যেটা মনে করেছি যে, আমাদের রবীন্দ্রনাথের চর্চা যে আমাদের এখানে হচ্ছে না তা তো নয়। যে কথা বললাম, রবীন্দ্রনাথের গানেরই কলকাতা শহরে হয়তো ৫০০০ প্রতিষ্ঠান আছে এবং তারা তাদের কাজ কিন্তু ভালো করেই করছেন, খুব দক্ষতার সঙ্গেই করছেন। আমরা যেটা বলতে চাইছি যে, যেটা অন্যরা ভালো করে করছেন আমরা তার মধ্যে ঢুকছি না। কিন্তু অন্যরা একটা দিকেই কনসেন্ট্রেটেড হয়ে থাকছেন, ফলে রবীন্দ্রনাথের সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বটা আমাদের আড়ালেই রয়ে যাচ্ছে। আমরা সেইটা, সেই যে অংশটা পাওয়া যাচ্ছে না, সেইটা আপনাদের ধরে দেবার চেষ্টা করছি। গান বা অন্যান্য... আপনি চিত্রকলার কথা ঠিকই বলেছেন, চিত্রকলাটা আমাদের সিলেবাসে নেই। ভবিষ্যতে আমরা ভেবে দেখব। কিন্তু সেটা একটা তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে কতটা সম্ভব সেটা ভাবতে হবে। কিন্তু আপনার পয়েন্ট ইজ ওয়েল টেকেন যে, এখানে চিত্রকলার কোনো কম্পোনেন্ট নেই। **প্রশ্নকর্তা ৫ (নৃত্যশিল্পী):** স্যার, একটু কথা বলতে চাই। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** বলুন। **প্রশ্নকর্তা ৫:** নমস্কার, সবাইকে অভিনন্দন। আমি কাঁচরাপাড়া থেকে বলছি, আমি একজন নৃত্যশিল্পী। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা লাইব্রেরিতে যে পড়াশুনা করতে পারব, বই সুযোগ পাব, সেটা কত তারিখ থেকে, কোন মাসের কত তারিখ থেকে সেটা সুযোগ পাব? এক। দুই হচ্ছে, আমাদের পরিচয়টা ওখানে আমরা কীভাবে দেব? মানে আমাদের কাছে তো কোনো কিছু নেই—আই কার্ড বা কোনো প্রুফ কোনো কিছু নেই। আমি যে এই পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন, সেটা আমাদের লাইব্রেরিয়ান স্যার বা যিনি অফিস দেখেন তার কাছে গিয়ে আমরা কি পরিচয় সেখানে এন্ট্রি নেব? এটা যদি কাইন্ডলি একটু আমাদেরকে জানান, তাহলে একটু উপকৃত হই। থ্যাংক ইউ স্যার। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আমরা খুবই—মানে সেটাও হয়তো কমই বলা হলো—খুবই ইনফরমাল প্রতিষ্ঠান। আমাদের লাইব্রেরিয়ানের কাছে আপনাদের ক্লাসের পুরো লিস্ট থাকবে। আপনারা যারা যারা বই ইস্যু করবেন, তাদের জন্য ওর খাতায় একটা করে পাতা থাকবে। সেখানে কবে কোন বই আপনাকে ইস্যু করা হলো, কবে ফেরত দিলেন তা লেখা থাকবে। আর যদি ওখানে বসে আপনারা পড়তে চান, যেদিন যেদিন পড়বেন আমরা সবাই থাকবো, আপনারা এসে পরিচয় দিয়ে লাইব্রেরি ব্যবহার করবেন। এর বেশি আপনাকে মানে আমার মনে হয় না লাইব্রেরিয়ান কোনোদিন আপনার আইডি দেখতে চাইবেন। **প্রশ্নকর্তা ৫:** হ্যালো স্যার, আর কবে থেকে আমরা এই বই পড়ার সুযোগটা পাব, মানে লাইব্রেরি এটেন্ড করার সুযোগ পাব? কাইন্ডলি বলবেন একটু। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** এখন থেকেই পারবেন। আজকে শুক্রবার, এর পরের সোমবার লাইব্রেরি খোলা থাকবে, সেদিন আসতে পারেন। **প্রশ্নকর্তা ৫:** ওকে, থ্যাংক ইউ স্যার। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** মোটামুটিভাবে লাইব্রেরিয়ান বিকেল সাড়ে পাঁচটায় লাইব্রেরি খোলেন, সেটা আটটা থেকে সাড়ে আটটা অবধি খোলা থাকে, ডিপেন্ডিং অন কতজন লোক আসছেন ব্যবহার করছেন। আজকাল লাইব্রেরির ব্যবহার খুব কমে গেছে, মানে এটা আমাদের পক্ষে খুব দুঃখজনক যে, আমাদের এত ভালো লাইব্রেরি আছে, ব্যবহার করার লোক প্রায় নেই। সবাই পিডিএফ পড়ে, লাইব্রেরিতে এসে আর কেউ বই পড়তে চায় না। হ্যাঁ, বলুন। **শ্রোতা:** লাইব্রেরিয়ানের ফোন নাম্বারটা দিয়ে দিলে— **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** লাইব্রেরিয়ানের নাম চিত্রা বিন্দু। উনি এই গ্রুপেই আছেন। সেটা আমি আমাদের ক্লাসের পর একটা মেসেজ দিয়ে দেব। চিত্রা বিন্দু ওনার নাম। **শ্রোতা:** হ্যাঁ, ঠিক আছে। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আচ্ছা, আপনাদের যদি বিশেষ করে কিছু বলার না থাকে, এবার আমি অভ্রকে অল্প কথায় পাঠ্যক্রমের একাডেমিক দিকটা নিয়ে একটু বলতে বলব। **প্রশ্নকর্তা ৬:** স্যার, একটা কথা আমি বলতে চাইছিলাম যে, আমরা তো বাইরে থেকে জয়েন করেছি। যেদিন যে ক্লাসে যে বিষয় নিয়ে পড়ানো হবে, সেটি কি সেই দিন বা তার আগে গ্রুপে দিয়ে দেওয়া হবে? তাহলে আমরা সেই পিডিএফটা প্রিন্ট আউট নিয়ে একটু পড়াশোনা করে বসতে পারি। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** অভ্র বসু আমাদের এই কোর্সটির মোটামুটিভাবে পরিচালনা করেন। উনি আপনাদের বলে দেবেন যে, এখন যে শুক্রবার তিনটি ক্লাস এবং শনিবার তিনটি ক্লাস হবে, কোন শিক্ষকরা কি কি পড়াবেন। সেইটা জানলে শুক্রবার আপনার কি সাবজেক্ট পড়ানো হবে আর শনিবার কি সাবজেক্ট পড়ানো হবে আপনার জানা থাকবে। এর চেয়ে বেশি ডিটেল চাইলে সেটা অভ্র বসু বলবেন, এইটা হয়তো আমি পুরোটা বলতে পারবো না। হ্যাঁ, বলুন। **বৈদ্যনাথ কুমার:** হ্যাঁ স্যার, নমস্কার স্যার। আমি রাঁচি, ঝাড়খন্ড থেকে বলছিলাম স্যার। বৈদ্যনাথ কুমার আমার নাম। আজকের এই শুভ সন্ধ্যায়, শুভ সূচনাতে সকলকে অভিনন্দন, প্রণাম। স্যার, আমি ছোট ছোট তিনটে প্রশ্ন বা একটু জানার জন্য করলাম যে, স্যার আমরা যে ছাত্র হিসেবে যে এডমিশন নিয়েছি স্যার, তাতে আমাদের রোল নাম্বার কিছু থাকবে কিনা? **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** না, কোনো রোল নাম্বার থাকবে না। আপনাদের নামই যথেষ্ট। **বৈদ্যনাথ কুমার:** আচ্ছা আচ্ছা, রোল নাম্বার থাকবে না স্যার। সেকেন্ডলি স্যার যেটা হচ্ছে যে, আই কার্ড স্যার আমাদের পেলে আমরা খুব গর্বিত হতাম, আনন্দ... খুব খুশি হতাম না? যে আমরা হ্যাঁ, আমরা একটা— **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** সেটার ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। আমরা ইমিডিয়েটলি যেটা—মানে এটার প্রয়োজন ৬০ বছরে হয়নি, কিন্তু ইমিডিয়েটলি যেটা করতে পারি, আপনাকে আমি একটা চিঠি দিতে পারি যে আপনি এখানকার একজন বোনাফাইড ছাত্র বলে। আর যদি আই কার্ডই প্রয়োজন হয়, সেটা আমরা বানিয়ে ব্যবস্থা করতে পারি। **বৈদ্যনাথ কুমার:** হ্যাঁ স্যার। না, আমরা যেমন গত ২২শে শ্রাবণ যে আমাদের একটা অনুষ্ঠান ছিল ডিপার্টমেন্টে, পিজি ডিপার্টমেন্টে, ওখানে আমি গর্ব করে বলেছিলাম যে আমি আমার প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ এবং সেই সম্পর্কে আমি বলেছিলাম যে আমি ওনার ছাত্র, আমি এই শিক্ষাবর্ষে আমি এখানে এডমিশন নিয়েছি ইত্যাদি ইত্যাদি। তো এই যে আমাদের যে গর্বের কারণটা, সেটা একটু বেশি প্রতিভাত হতো, তার জন্য একটা অনুরোধ একটা থাকলো স্যার। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** তাহলে আই কার্ডের ব্যবস্থা আমরা করবো, ঠিক আছে। **বৈদ্যনাথ কুমার:** হ্যাঁ স্যার, থার্ডলি যেটা— **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আপনার তিনটে প্রশ্নের এটা প্রথম হলো, দ্বিতীয় বলুন। **অন্যান্য শ্রোতা:** আই কার্ডটা হলে ভালো হয় স্যার, কারণ পরীক্ষার সময় যদি ছুটি নিতে হয়, তখন যেখানে যারা পড়াই সেখানে একটু দেখাতে পারলে ছুটিটা সহজে পাওয়া যাবে আর কি, মানে একটু সময় পাব। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** ঠিক আছে, ওটার তো উত্তর দিলাম। দ্বিতীয় প্রশ্ন করুন। **বৈদ্যনাথ কুমার:** হ্যাঁ স্যার, বলছিলাম যে আমাদের যে দ্বিতীয় না স্যার তৃতীয় কোশ্চেন হচ্ছে এটা, সেটা হচ্ছে যে আমরা যে পরীক্ষা দিলাম, লাকিলি পাসও করে গেলাম, তো আমাদের যে সেটা, সেই ডিগ্রির স্যার কি ডিগ্রি হবে? এমনি আমি কি একটু দেখছিলাম রবীন্দ্র জ্ঞানতীর্থ— **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** না, এটা ডিগ্রি নয়। এটা ডিগ্রি বলাটা বাড়াবাড়ি হবে, এটা ডিপ্লোমা হবে। এই ডিপ্লোমাটার নাম হচ্ছে ‘রবীন্দ্র জ্ঞানতীর্থ’। এটা আমাদের আপনারা ২৬ সালে ভর্তি হলেন, ২৭ সালে প্রথম বছরের পরীক্ষা দেবেন, ২৮ সালে দ্বিতীয় বছরের পরীক্ষা দেবেন, ২৯ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চে আমাদের সমাবর্তন—কনভোকেশন হবে। সেইখানে আপনারা ডিপ্লোমা পাবেন। এবং আপনাদের সবাইকেই বলছি যে, আমরা আশা করি যে আপনারা ক্লাস অনলাইনে করছেন বটে, কিন্তু যেদিন সমাবর্তন বা কনভোকেশন হবে, যতদূর সম্ভব আপনারা সশরীরে এসে আমাদের সভাপতির হাত থেকে ডিপ্লোমা গ্রহণ করবেন। অনেকে বিদেশে আছেন তাদের পক্ষে তো সম্ভব হবে না, কিন্তু যারা পারবেন, এমনি আর নাও যদি আসেন, সমাবর্তনের দিন যেন আপনারা রবীন্দ্র চর্চা ভবনে আসেন। **বৈদ্যনাথ কুমার:** এটা তো আমাদের গর্বের মুহূর্ত হবে। **শ্রোতাগণ:** — আমি আসবো স্যার। **বৈদ্যনাথ কুমার:** ঠিক আছে, ধন্যবাদ স্যার। ধন্যবাদ স্যার, প্রণাম নেবেন। আজ থেকে আমরা ক্লাসে যুক্ত হলাম বলে খুব গর্বিত হচ্ছি, আনন্দ পাচ্ছি। ধন্যবাদ স্যার। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** ও, একটা কথা আমি বলতে ভুলে গেছি, একটু চট করে বলে নিই। দু বছর আটটা পরীক্ষা পাস করার পর, সেই পরীক্ষা পাস করা আর ডিপ্লোমা পাওয়ার মধ্যে আরেকটি স্তর আছে। সেটা হচ্ছে, সবাইকে একটি প্রবন্ধ লিখতে হয়, একটা পেপারের মতন একটি প্রবন্ধ লিখতে হয়। যারা আটটা পেপার পাস করে যাবেন তাদের আমরা প্রবন্ধের টপিক দেব, তারা প্রবন্ধটি লিখবেন। প্রবন্ধ লেখা কিন্তু ম্যান্ডেটরি, মানে ডিপ্লোমা পাওয়ার জন্য প্রবন্ধটি লিখতেই হবে। সুতরাং আটটা পেপার, তারপরে প্রবন্ধ, তার মূল্যায়ন, তারপরে সমাবর্তনে আপনারা ডিপ্লোমা পাবেন। **বৈদ্যনাথ কুমার:** স্যার, আটটা পেপার তো স্যার পার পেপার ১০০ মার্কসেরই হবে পরীক্ষা, না? **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** ১০০, ১০০ নম্বরে পরীক্ষা হয়। **বৈদ্যনাথ কুমার:** আচ্ছা আচ্ছা, এখানেও কোনো ইয়ে নেই তো স্যার? যেমন মিড সেম বা এই সমস্ত কিছু নেই, অ্যাসাইনমেন্ট এই সমস্ত কিছু নেই, না? **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** একটাই পরীক্ষা, বছরের শেষে। **বৈদ্যনাথ কুমার:** আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে স্যার। ঠিক আছে, ধন্যবাদ। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** এই একটা পরীক্ষা নিতেই ছাত্রদের মধ্যে এত ভীতি দেখি যে, মিড সেম নিতে গেলে পাঠ্যক্রম বন্ধ হয়ে যেত বোধহয়! হ্যাঁ, বলুন। **গায়ত্রী (বাংলাদেশ):** প্রণাম স্যার, আমি একটা কথা বলতে চাচ্ছি। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** বলুন। **গায়ত্রী:** আচ্ছা, আমি বাংলাদেশ থেকে গায়ত্রী। স্যার, আমার এসব নিয়ে কোনো কথাবার্তা নেই, কারণ এগুলো অনেক পরের বিষয়। আমি প্রথম দিকে আপনার একটা কথা একটু মিস করে গিয়েছিলাম—দুটো নাম: সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর, সোমেন্দ্রনাথ বসু। একজন প্রতিষ্ঠাতা, আরেকজনের আউট হাউসে জায়গা পাওয়া। তো স্যার, ওই জায়গাটা প্লিজ আবার একটু বলবেন? আমি বোধহয় ওই জায়গাটা একটু মিস করে ফেললাম। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** প্রথম জন হচ্ছেন সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর—একটা য-ফলা ঔ-কার আছে, সৌমেন্দ্রনাথ। উনি রবীন্দ্রনাথের বড়দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্র। দ্বিজেন্দ্রনাথের চতুর্থ পুত্র সুধীন্দ্রনাথের ছেলে সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর। উনি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ওর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তো ছিলই, তাছাড়াও উনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তার একটা ভূমিকা ছিল। উনি একজন ইম্পর্টেন্ট মার্কসবাদী-লেনিনিস্ট নেতা ছিলেন একসময়। সেটা ঠাকুরবাড়ির বাইরে কাজ, কিন্তু উনি ঠাকুরবাড়ির একজন বিশিষ্ট সদস্য। আর সোমেন্দ্রনাথ বসু হচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা। সোমেন্দ্রনাথ বসু সৌমেন্দ্রনাথের একজন ঘনিষ্ঠ অনুচর ছিলেন এককালে বলা যায়, মানে বয়সের অনেকটা তফাত। সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৯০১ সালে, আর সোমেন্দ্রনাথ বসুর জন্ম ১৯২৭ সালে। এই জন্যেই বলেছি যে, ১৯৬১ সালে যখন রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী হচ্ছে, তখন সোমেন্দ্রনাথ একজন তরুণ অধ্যাপক। তা এই দুজনের মধ্যে একটা বয়সের তফাত সত্ত্বেও একটা পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল। ১৯৪৮ সালে সৌমেন্দ্রনাথ ওর বাসভবনের আউট হাউসে ‘বৈতালিক’ বলে একটি গানের প্রতিষ্ঠান করেছিলেন, রবীন্দ্রসংগীতের প্রতিষ্ঠান, সেটা এখনো চলে। সোমেন্দ্রনাথ বসু তারও সদস্য ছিলেন। পরে ওইখানেই ওরা, তিনি এবং তার সহকর্মীরা, অনুগামীরা এই টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। দুজন মানুষকেই জানা আমাদের প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে জরুরি। **গায়ত্রী:** হ্যাঁ স্যার, থ্যাংক ইউ স্যার। **সুস্মিতা:** স্যার, আমি একটা কথা জিজ্ঞাসা করব আপনাকে? **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** নিশ্চয়ই করবেন। **সুস্মিতা:** হ্যাঁ স্যার, বলছে আমরা মানে এই ক্লাসগুলো কি জুমে নেওয়া যাবে? কারণ গুগল মিটে ক্লাসটা তো রেকর্ড করা সেরকমভাবে যায় না, তাই যদি কোনো ক্লাস— **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** কে বলল যায় না? **সুস্মিতা:** আমি পারিনি স্যার চেষ্টা করেও, তাই জন্য। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** গুগল মিটে আপনাদের এখনই হয়তো কেউ না কেউ রেকর্ড করছেন, দেখুন। **অন্যান্য শ্রোতা:** না, একচুয়ালি যেটা হয় আমি একটু বলি। সেটা হচ্ছে যে, আমাদের বেশিরভাগেরই না গুগল মিটের ফ্রি অ্যাকাউন্ট আছে। সেই ফ্রি অ্যাকাউন্টে যতক্ষণ না হোস্ট আমাদের পারমিশন দিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রেকর্ড করতে পারি না। কিন্তু আমরা বাইরে থেকে, আমি যেমন আজকে রেকর্ড করছি, সেটা হচ্ছে অ্যাপ দিয়ে। সেটা কিন্তু আমি এখান থেকে ডাইরেক্ট রেকর্ড করছি না, আমি রেকর্ডিং অ্যাপ দিয়ে রেকর্ডটা করছি। কিন্তু কারোর যদি ফ্রি অ্যাকাউন্ট না হয় তাহলে সেটা সম্ভব। ফ্রি অ্যাকাউন্ট না হলে তার ওই জিনিসটা পাবেন, একটা রেকর্ডিংয়ের জায়গা আছে। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** হ্যাঁ, এই ক্লাস তো আমি তো ইন্ট্রোডাক্টরি ক্লাসে আপনাদের মিট করছি, অভ্র বসু তো প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহেই মিট করবেন। উনি ওর সঙ্গে একটু কথা বলে নিন তাহলে যে, হোস্ট হিসেবে উনি যাতে আপনাদের অনুমতি দিয়ে দেন, তাহলে আপনারা করতে পারবেন। কিন্তু এই ছ বছর ধরে অনবরতই কিন্তু ছাত্ররা শুধু রেকর্ড করছে না, রেকর্ড বিনিময় করছে। সেইটা যেভাবে হচ্ছে তাহলে একটু জানতে হবে। **শ্রোতা:** ক্লাস গুগল মিটে থাকাই ভালো, কারণ গুগল মিট ব্যবহার করতে সুবিধাজনক। **শ্রোতা:** আমি বলতে পারি? স্যার, একটু বলছি। হ্যাঁ, আমি বলছি যে দুটো ডিভাইসে আমি অনেকবার রেকর্ড করেছি। আমি ক্লাসটা অ্যাটেন্ড করছি ট্যাবে, আর ফোন দিয়ে রেকর্ডিং অ্যাপ দিয়ে রেকর্ড করছি। এইভাবে করেছি, কিন্তু এইবারে আমি পারছি না। আপনারা কেউ করলে খুব ভালো হয়। **নৃত্যশিল্পী শ্রোতা:** স্যার, একটু বলছি। যখন অতিমারির সময় গুগল মিটে আমরা সবাই কাজ করা শুরু করি, যাদের অভিজ্ঞতা আছে জানি গুগল মিট তখন স্ক্রিন শেয়ারিং থেকে শুরু করে রেকর্ডিং অপশন রাখতো। কিছুক্ষণ আগে যিনি বললেন একদম ঠিক কথা, গুগল মিট এখন কারো জেনারেলি কাউকে স্ক্রিন শেয়ারিং বা কোনো রকম রেকর্ডিং করা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, ওটা অপশনটা তুলে দিয়েছে। তো সেই জন্য গুগল মিট থেকে রেকর্ডিং করতে গেলে অন্য সফটওয়্যার নিতে হবে, মানে অ্যাপ নিতে হবে। সেই অ্যাপের মাধ্যমেই রেকর্ডিং করা যাবে, এছাড়া করা যাবে না। আর যদি ওই পারমিশনের ব্যাপার থাকে, তাহলে একটা হতে পারে হয়তো। এছাড়া গুগল মিটে যে তিনটে ডট দেওয়া থাকে নিচে, ওখানে গিয়ে আপনি কোনো রেকর্ডিংয়ের অপশন এখন ওরা অনেক বছর বন্ধ করে দিয়েছে। আমি যেহেতু পারফর্মিং আর্টের লোক, আমাদের আমি প্রচুর অ্যাব্রড স্টুডেন্টকে ক্লাস করাই, আমাদের এখন এই অপশনটা আমরা পাই না। তো আমরা অন্যভাবে এই অপশনটাকে মানে নিয়ে নিই আর কি। তার জায়গাটাই হচ্ছে ওই অ্যাপস, বিভিন্ন অ্যাপস ডাউনলোড করতে হবে করে সেখান থেকে রেকর্ডিংয়ে যেতে হবে। এইটাই। **সুস্মিতা:** আমি একটা বলব একটুখানি? একবার বলব, আমি সুস্মিতা বলছি। আমি একজন নৃত্যশিল্পী। এবার গুগল মিটে যেটা হয়, আমাদের স্ক্রিন শেয়ার করা যায়। মানে আমার ফোন থেকেই যেখানে আমাদের সমস্ত আইকনগুলো রয়েছে না—ব্রাইটনেস বাড়ানো যায়, সাউন্ড কমানো যায়—ওখানে একটা জায়গায় আমি ছবি তুলে গ্রুপে পাঠিয়ে দেব। ওইটাকে অন করলে পরে পুরো স্ক্রিন রেকর্ডিং হয়। পুরো স্ক্রিন রেকর্ডিং মানে আমরা যে যা কথা বলছি উইথ স্ক্রিন, স্ক্রিনে যারা যারা আছে পুরোটা তাদের রেকর্ডিং হয়। ওটাও করতে পারেন যদি কেউ চান, আমি ওই ছবিটা পাঠিয়ে দেব। ধন্যবাদ। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আপনারা একটু আলোচনা করে যদি দেখেন যে গুগল মিটে রেকর্ডিং করতে অসুবিধে হচ্ছে, আপনারা অভ্রকে একটু জানাবেন। আমরা দেখব যে আমাদের দিক থেকে কি করণীয় আছে। আমি এখানে একটা প্রশ্ন দেখছি যে, সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়িটি কোথায় অবস্থিত ছিল এবং আছে? এবং অংশুমান ভৌমিক জবাবও দিয়েছেন যে এটা এলগিন রোডে। আরেকটু বিশদে বলে দিই বাড়িটার ঠিকানা হচ্ছে, সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ির ঠিকানা ছিল ৪ নম্বর এলগিন রোড। এবং ৪ নম্বর এলগিন রোডের ওর নিজের বাসভবন একটু ভেতরের দিকে ছিল, তারপর একটা মাঠ ছিল, বাইরে একটা ওই আউট হাউসটা ছিল। আউট হাউসটা ছিল রাস্তার ওপরে, ওর বাসভবনটা ছিল ভেতরে। এখন তারপরে সৌমেন্দ্রনাথও চলে গেছেন, ওর স্ত্রী শ্রীমতী দেবী তিনিও চলে গেছেন। শ্রীমতী দেবী অরিজিনালি ছিলেন গুজরাটি, শ্রীমতী হাতীসিং ওনার নাম ছিল। শ্রীমতী দেবী যাবার পর এমন হতে পারে বাড়িটা ওই গুজরাটি হাতীসিংদেরই প্রপার্টি ছিল, ওরা টেক ওভার করেছেন। বৈতালিক প্রতিষ্ঠানটি হয়তো এখনো বাড়িতে আছে, কিন্তু বাইরের আউট হাউসটি আর নেই। আউট হাউসটি ভেঙে ওখানে মাল্টি স্টোরিড হয়ে গেছে। সুতরাং ৪ নম্বর এলগিন রোডে গেলে আপনারা ওই মাল্টি স্টোরিডটি দেখতে পাবেন, আউট হাউসটি আর দেখতে পাবেন না। কিন্তু ঠিকানা হচ্ছে ৪ নম্বর এলগিন রোড। **শ্রোতা:** এটা কি গুজরাটি কলেজিয়েট স্কুলের ঠিক পাশে? **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** সেটা ওই স্কুলটি কোথায় আমি ঠিক জানি না, তবে এটা হচ্ছে এলগিন রোড এবং ল্যান্সডাউনের যে ক্রসিং সেখান থেকে—ক্রসিংয়ের মোড়ে একটা পেট্রোল পাম্প আছে, তার বোধহয় একটি কি দুটি বাড়ি আগে। **শ্রোতা:** ক্রসওয়ার্ড বুক বলে একটা বইয়ের দোকান ছিল তার ঠিক পাশে, ক্রসওয়ার্ডের পাশে। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আর ওখানে যে একটা মল হয়েছে, তারও খুব কাছে। **শ্রোতা:** মানে নেতাজি বাড়ি থেকেই একটু এগিয়ে গিয়ে, নেতাজি ভবন থেকে একটু এগিয়ে গিয়ে বাঁহাতে পড়ে। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** নেতাজি ভবন রাস্তার যেদিকে, এটা তার উল্টো দিকে। **শ্রোতা:** উল্টো দিকে, ডান দিকে নেতাজি ভবন যদি পড়ে বাঁহাতে একটু এগিয়ে। আমি গিয়েছি আসলে, সেই জন্যই রিলেট করতে পারলাম। **অয়নেন্দ্রনাথ বসু:** আচ্ছা, এইবারে আমার মনে হয় অভ্রকে একটু সময় দেওয়া দরকার। চট করে একটু কথা বলে নিয়ে আজকে এর পরের ক্লাসটি শ্রীলা বসু পড়াবেন। আমরা ইতিমধ্যেই সাতটা পেরিয়ে গেছি। কিন্তু অভ্র? </details> <div class="gdrive-audio"> <iframesrc="https://drive.google.com/file/d/1U9RpUHwPLqHHVQAKVNdIPrMW5BwlIWkD/preview" title="অয়নেন্দ্র বসু — স্বাগত ভাষণ" width="100%" height="110" allow="autoplay" loading="lazy"> </iframe> </div> ## শর্ট ইন্ট্রো টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট পরিচালিত দুই বছর মেয়াদী 'রবীন্দ্র সাহিত্য পাঠ্যক্রম'-এর ২০২৬ ব্যাচের উদ্বোধনী ও পরিচিতি সভার সারসংক্ষেপ এটি। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সম্পাদক অয়নেন্দ্রনাথ বসু এই সভার মূল বক্তা ছিলেন; পাশাপাশি পাঠ্যক্রমের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক অভ্র বসু এবং নবাগত ছাত্রছাত্রীরা আলোচনায় অংশ নেন। এই অধিবেশনে প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, স্বেচ্ছাশ্রমের আদর্শ, রবীন্দ্রচর্চার দর্শন, পাঠ্যক্রমের বিন্যাস, পরীক্ষা পদ্ধতি, লাইব্রেরি ব্যবহারের নিয়মাবলী ও ফি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশাসনিক বিষয় বিশদে তুলে ধরা হয়েছে। ## ব্যাকগ্রাউন্ড / পটভূমি - **প্রতিষ্ঠা ও প্রেক্ষাপট:** ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষের উন্মাদনা দ্রুত স্তিমিত হয়ে যাওয়ার পর স্থায়ী রবীন্দ্রচর্চার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। এই ভাবনা থেকে ১৯৬৫ সালের ১লা জানুয়ারি তরুণ অধ্যাপক সোমেন্দ্রনাথ বসুর উদ্যোগে এবং তাঁর সহকর্মীদের সহযোগিতায় টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। ### প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও আদর্শ - **আদি বাসস্থান ও বর্তমান ভবন:** প্রথমে ৪ নম্বর এলগিন রোডে শ্রদ্ধেয় সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাসভবনের আউট হাউসে এই প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু হয়েছিল। পরবর্তীকালে ১৯৮০ সাল থেকে কালীঘাট পার্কে যোগেশ দত্ত মাইমের পাশে নিজস্ব ভবন 'রবীন্দ্র চর্চা ভবন'-এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থানান্তরিত হয়। - **শতভাগ স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান:** এটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে কোনো সরকারি অনুদান বা বিত্তশালী স্পন্সরের অর্থ নেওয়া হয় না। অধ্যাপক, গবেষক থেকে শুরু করে কার্যালয় ও লাইব্রেরি কর্মী—সকলেই এখানে কোনো পারিশ্রমিক না নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে পাঠদান ও পরিচালনা করেন। ## কী পয়েন্টস - ### পাঠ্যক্রমের দর্শন ও লক্ষ্য - **পারফর্মিং আর্টসের বাইরে সমগ্র রবীন্দ্রনাথ:** প্রচলিত সমাজে রবীন্দ্রনাথের গান (প্রায় ২২০০ গান), নাটক ও নৃত্যনাট্য নিয়ে ব্যাপক চর্চা হলেও তাঁর গভীর ও তাত্বিক দিকগুলো প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়। - **মননশীল ও সমাজভাবুক রবীন্দ্রনাথের সন্ধান:** পাঠ্যক্রমে রবীন্দ্রনাথের মননশীল সাহিত্যকর্ম, প্রবন্ধগ্রন্থ (_কালান্তর_, _মানুষের ধর্ম_, _পল্লীপ্রকৃতি_, _সমবায় নীতি_, _সভ্যতার সংকট_ ইত্যাদি), পত্রসাহিত্য (_ছিন্নপত্রাবলী_), এবং তাঁর শিক্ষাব্যবস্থা ও গ্রামোন্নয়নমূলক কাজের (যেমন ১৯১৩ সালের নোবেল পুরস্কারের ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পতিসর কো-অপারেটিভ ব্যাংকে রাখা) পুঙ্খানুপুঙ্খ অধ্যয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ### শিক্ষাবর্ষ ও পরীক্ষা পদ্ধতি - **ডিপ্লোমা উপাধি:** দুই বছরের পাঠ্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত করলে **'রবীন্দ্র জ্ঞানতীর্থ'** ডিপ্লোমা প্রদান করা হয়। - **পত্র ও ক্লাস বিন্যাস:** মোট ৮টি পত্র (প্রতি পত্র ১০০ নম্বর)। - ১ম বর্ষে পড়ানো হয় ১ম থেকে ৪র্থ পত্র[cite: 1, 2]। - ২য় বর্ষে পড়ানো হয় ৫ম থেকে ৮ম পত্র[cite: 1, 2]। - এক বছর অন্তর আবর্তিত হওয়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে যৌথভাবে ক্লাস করেন[cite: 1, 2]। - **পরীক্ষার কাঠামো:** - প্রতি বছর অগাস্ট/সেপ্টেম্বর মাসে পর পর চারটি রবিবারে পরীক্ষা গৃহীত হয়[cite: 1, 2]। - এটি উন্মুক্ত পাঠ্য (Open-book) হোম-অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষা; রবিবার সকালে গ্রুপে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় এবং উত্তর লিখে ইমেইলে জমা দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় পাওয়া যায়[cite: 1, 2]। - পরীক্ষার্থীরা পরিষ্কার হাতে লিখে স্ক্যান করা পিডিএফ অথবা কম্পিউটারে টাইপ করা পিডিএফ—উভয় মাধ্যমেই উত্তর জমা দিতে পারেন[cite: 1, 2]। - কোনো কারণে মূল সময়ে পরীক্ষা দিতে না পারলে নভেম্বর/ডিসেম্বরে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সুযোগ থাকে[cite: 1, 2]। - **বাধ্যতামূলক গবেষণা প্রবন্ধ:** ৮টি পত্রের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সমাবর্তনে ডিপ্লোমা পাওয়ার পূর্বে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করতে হয়[cite: 1, 2]। ### লাইব্রেরি, ফি ও অন্যান্য ব্যবস্থা - **কোর্স ফি:** দুই বছরের সর্বসাকুল্যে ফি ৬,০০০ টাকা[cite: 1, 2]। ভর্তির সময় ১,২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে[cite: 1, 2]। বাকি অর্থ মাসিক ২০০ টাকা হারে হিসাব করে ৩ মাস অন্তর অন্তর কিস্তিতে প্রদান করতে হয়[cite: 1, 2]। - **লাইব্রেরি ব্যবহার:** কালীঘাট পার্কের রবীন্দ্র চর্চা ভবনে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বিকেল ৫:৩০ থেকে রাত ৮:০০/৮:৩০ পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকে[cite: 1, 2]। লাইব্রেরিয়ান চিত্রা বিন্দু[cite: 1, 2]। শিক্ষার্থীরা সেখানে বসে পড়াশোনা করতে পারেন অথবা ৫০০ টাকা ফেরতযোগ্য আমানত জমা দিয়ে একবারে ২টি বই ১৫ দিনের জন্য ধার নিতে পারেন[cite: 1, 2]। - **ডিজিটাল রিসোর্স:** ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে দূরবর্তী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ক্লাসের গ্রুপে প্রয়োজনীয় বইয়ের পিডিএফ সরবরাহ করা হয় নিজেরাই আদান-প্রদান করেন[cite: 1, 2]। ## পরিভাষা / শব্দ / কী-টার্মস | পরিভাষা / শব্দ | অর্থ ও প্রেক্ষাপট | | :--------------------------- | :----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- | | **রবীন্দ্র জ্ঞানতীর্থ** | টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রদত্ত দুই বছর মেয়াদী রবীন্দ্র সাহিত্য পাঠ্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ডিপ্লোমা উপাধি[cite: 1, 2]। | | **স্বেচ্ছাশ্রম** | প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি; শিক্ষক ও কর্মকর্তা সকলেই অবৈতনিক সেবা প্রদান করেন[cite: 1, 2]। | | **বৈতালিক** | ১৯৪৮ সালে সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিক্ষা ও চর্চার প্রতিষ্ঠান (৪ নম্বর এলগিন রোড)[cite: 1, 2]। | | **ছিন্নপত্রাবলী** | ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণীকে লিখিত রবীন্দ্রনাথের অবিস্মরণীয় চিঠিপত্রের সংকলন[cite: 1, 2]। | | **পতিসর কো-অপারেটিভ ব্যাংক** | নওগাঁর পতিসরে স্থাপিত গ্রামীণ সমবায় ব্যাংক, যেখানে রবীন্দ্রনাথ তাঁর নোবেল পুরস্কারের অর্থ প্রজাদের ঋণমুক্ত করতে ও সমবায় শেখাতে গচ্ছিত রেখেছিলেন[cite: 1, 2]। | | **সমাবর্তন (Convocation)** | পাঠ্যক্রম ও প্রবন্ধ সফলভাবে সমাপ্তির পর আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির হাত থেকে ডিপ্লোমা গ্রহণের অনুষ্ঠান[cite: 1, 2]। | --------------- ## Q&A (আলোচনা) <details> <summary><strong>প্রশ্ন:</strong> </summary> উত্তর লিখুন। </details> <details> <summary><strong>প্রশ্ন:</strong> </summary> উত্তর লিখুন। </details> ## উল্লিখিত বই ও অন্যান্য রিসোর্সেস - ## আরও পড়ুন - -------- ## কালপঞ্জি (Timeline) ```mermaid timeline title টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ঐতিহাসিক কালপঞ্জি ১৯০১ : সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম[cite: 1, 2] ১৯১৩ : রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক পতিসর কো-অপারেটিভ ব্যাংকে নোবেল পুরস্কারের অর্থ জমা[cite: 1, 2] ১৯২৭ : অধ্যাপক সোমেন্দ্রনাথ বসুর জন্ম[cite: 1, 2] ১৯৪৮ : ৪ এলগিন রোডে সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বৈতালিক' প্রতিষ্ঠা[cite: 1, 2] ১৯৬১ : রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ পালন ও স্থায়ী রবীন্দ্রচর্চাকেন্দ্রের তাগিদ[cite: 1, 2] ১৯৬৫ : ১লা জানুয়ারি টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা[cite: 1, 2] ১৯৮০ : কালীঘাট পার্কে নিজস্ব আবাস 'রবীন্দ্র চর্চা ভবন' নির্মিত[cite: 1, 2] ২০২০ : মার্চ মাসে অতিমারির কারণে অফলাইন ক্লাস স্থগিত[cite: 1, 2] ২০২১ : অনলাইন মাধ্যমে পাঠ্যক্রম পুনঃপ্রবর্তন[cite: 1, 2] ২০২৬ : অনলাইন পাঠ্যক্রমের ষষ্ঠ ব্যাচ শুরু[cite: 1, 2] ২০২৭ : ২০২৬ ব্যাচের ১ম বর্ষের পরীক্ষা (১ম–৪র্থ পত্র)[cite: 1, 2] ২০২৮ : ২০২৬ ব্যাচের ২য় বর্ষের পরীক্ষা (৫ম–৮ম পত্র)[cite: 1, 2] ২০২৯ : সমাবর্তন এবং 'রবীন্দ্র জ্ঞানতীর্থ' ডিপ্লোমা প্রদান[cite: 1, 2]